নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৮ আগস্ট, ২০২২
দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩০০ টাকা করার দাবিতে টানা ১৫ দিন ধর্মঘট পালন করেন চা-শ্রমিকেরা। আন্দোলনের মুখে গতকাল শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী বাগান মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে নতুন মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করেন। যা মেনে নিয়ে কাজে ফিরতে সম্মতি জানায় চা-শ্রমিকেরা।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার (২৮ আগস্ট) সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সিলেট জেলার কিছু কিছু চা-বাগানের শ্রমিকরা কাজে নেমেছেন। রোববার সিলেটের ২৩টি চা বাগানের মধ্যে কেবল ৯টি বাগান চালু থাকে।
রোববার (২৮ আগস্ট) সকালে সিলেট মালনীছড়া, লাক্কাতুরা চা বাগান এলাকায় দেখা যায় চা শ্রমিকরা কাজে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কেউ কেউ কাজে ফিরেছেন। এতে করে খোলা থাকা বাগানে বাগানে পাতা উত্তোলন শুরু করেন তারা। এতে দীর্ঘদিন পর প্রাণ ফিরেছে চা বাগানগুলোতে।
চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, ‘চা বাগানে অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে। সকাল থেকে বেশ কয়েকটি বাগানের শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে কিছু বাগানে আজ সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় আজ কাজে যাচ্ছেন না তারা, সে সকল বাগানের শ্রমিকরা আগামীকাল সোমবার থেকে কাজে যোগ দেবেন। এছাড়া সকাল থেকে কিছু শ্রমিক দলে দলে আনন্দ র্যালি করে কাজে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’
প্রসঙ্গত, দেশের ১৬৭টি চা-বাগানে শ্রমিকের সংখ্যা দেড় লাখেরও বেশি। বর্তমানে দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন শ্রমিকরা। গত ৯ আগস্ট এ আন্দোলন শুরু হয়। শুরুতে প্রথম কয়েকদিন কেবল ৪ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করা হয়। সে সময় মজুরি বৃদ্ধি ও মজুরি চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে বাগান মালিকদের সাত দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
কিন্তু মালিক পক্ষ এ সময়ের মধ্যে বৈঠক বা সমঝোতায় না আসায় ১৩ আগস্ট থেকে লাগাতার পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন শুরু করেন শ্রমিকরা। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো সমাধান হচ্ছিল না। সবশেষ ২৭ আগস্ট রাতে প্রধানমন্ত্রী বাগান মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে নতুন মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করেন। এরপরে কাজে ফেরার আশ্বাস দেন চা-শ্রমিকরা।