Sylhet Today 24 PRINT

মৌলভীবাজারের চা বাগানে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার |  ২৯ আগস্ট, ২০২২

চা শ্রমিকদের মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণের পর ধর্মঘট শেষে আজ সোমবার থেকে পুরোদমে কাজে যোগ দিয়েছেন মৌলভীবাজারের সকল চা বাগানের শ্রমিকেরা। গতকাল রোববার চা বাগান ছুটির দিনে অনেক চা বাগানের শ্রমিকরা কাজে যগ না দিলেও আজ সোমবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের প্রতিটি চা বাগানে শ্রমিকদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে।

সোমবার শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালীঘাট চা বাগান, রাজঘাট চা বাগান, খেজুরিছড়া চা বাগানসহ বেশ কিছু চা বাগান ঘুরে শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে। চা বাগানগুলোতে টানা ১৫ দিন চা পাতা না তোলায় চা পাতাগুলো বেশ বড় ও শক্ত হয়ে গিয়েছে। শ্রমিকেরা হাত দিয়ে দুটি পাতা একটি কুঁড়ির পাশাপাশি সেই শক্ত ও বড় হয়ে যাওয়া চা পাতাগুলো তুলে কারখানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন।

ভুরভুরিয়া চা বাগানের নারী শ্রমিক রওসন রিকিয়াশন বলেন, ‘চা বাগানের প্রতি আমাদের অনেক মায়া আছে। এখানেই আমাদের পুরো জীবনটা কেটেছে। চা বাগানের প্রতিটা চা গাছের সঙ্গে আমাদের আবেগ-ভালোবাসা জড়িত। আমরাই এ গাছগুলো ছোট থেকে বড় করি। গাছ বড় হলে আবার ছেঁটে দিয়ে ছোট করি। এত দিন চা বাগানে কাজ না করতে পেরে খারাপই লেগেছিল। কিন্তু আমাদের কিচ্ছু করার ছিল না। ১২০ টাকা মজুরি দিয়ে আমরা খুব কষ্ট করে সংসার চালিয়েছি। এখন ১৭০ টাকা হয়েছে। খেয়েদেয়ে বাঁচতে পারব।’

কালীঘাট চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি অভান তাঁতী বলেন, গতকাল ছুটির দিন থাকায় তাঁদের চা বাগানসহ অনেক চা বাগানেই কাজ হয়নি। আজ সকাল থেকে শ্রমিকেরা চা বাগানের কাজে যুক্ত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আন্দোলন চলাকালে কারও কথায় বিশ্বাস করিনি প্রধানমন্ত্রী ছাড়া। প্রধানমন্ত্রী আমাদের নিরাশ করেননি।’

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালি সভাপতি বিজয় হাজরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর গতকাল চা বাগানের ছুটির দিন থেকেই চা শ্রমিকেরা কাজে নেমেছিলেন। গতকাল কিছু চা বাগানে ছুটির দিন থাকায় শ্রমিকেরা কাজে না গেলেও আজ দেশের প্রতিটি চা বাগানে পুরোদমে কাজ চলছে। চা বাগানের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে শ্রমিকেরা বেশি বেশি কাজ করছেন বলে তাঁর দাবি।

প্রসঙ্গত, দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে ৯ আগস্ট আন্দোলনে নামেন হবিগঞ্জের লস্করপুর ভ্যালির ২৪টি চা বাগানের শ্রমিকসহ দেশের ১৬৬ চা বাগানের শ্রমিকরা। দিনে দু’ঘণ্টা করে টানা চারদিন পালন করা হয় কর্মবিরতি। এরপর ১৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পুরোদমে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেন চা শ্রমিকরা।

পরে ১৯ আগস্ট রাতে মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করার বিষয়ে একটি চুক্তি হলেও সেটি প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যান শ্রমিকরা। কয়েক দফা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হলেও এ সমস্যার সমাধান হয়নি। মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে থাকা শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করতে থাকেন। অবশেষে তাদের মজুরি ১৭০ টাকা করা হলে কাজে ফেরেন তারা।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.