নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩১ আগস্ট, ২০২২
সিলেটের জৈন্তাপুরে সারী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে নদীতে শতাধিক নৌকা আড়াআড়িভাবে রেখে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন শ্রমিকেরা। শ্রমিকদের অভিযোগ, সারী নদী থেকে অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূতভাবে খননযন্ত্র দিয়ে বালু ও পাথর উত্তোলন করা হয়। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে সারী নদীর ইন্দারজু এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকেরা। বেলা তিনটা পর্যন্ত তারা কর্মসূচি পালন করেন।
শ্রমিকেরা এসব বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ, বাল্কহেড দিয়ে বালু–পাথর পরিবহন বন্ধ, নির্দিষ্ট জায়গা থেকে সরকারি রয়্যালটি (বালু ও পাথরবোঝাই নৌকার টোল) আদায়ের দাবি জানান।
সারী নদী নৌকা শ্রমিকের সভাপতি আমির আলী বলেন, সম্প্রতি সারী নদীর তৃতীয় অংশের মামলাভুক্ত এলাকাগুলো ছাড়া বাকি এলাকাগুলো ইজারা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইজারা দেওয়া অংশগুলোতে বালু–পাথর না থাকায় মামলাভুক্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় অবৈধভাবে খননযন্ত্র দিয়ে বালু ও পাথর উত্তোলন করছেন। এ ছাড়া বাল্কহেড দিয়ে বালু পরিবহন করা হচ্ছে এবং স্থানীয় নৌকাশ্রমিকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে শ্রমিকেরা নদীপথ অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এর আগে গতকাল সোমবার বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এ সময় বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে।
আমির আলী বলেন, ‘শ্রমিকদের পেটে লাথি দিয়ে মেশিন ব্যবহার করা যাবে না। প্রয়োজনে আমাদের শরীরের রক্ত দিয়ে হলেও দাবি আদায় করব। শ্রমিকেরা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে নয়, সনাতন পদ্ধতিতে কর্ম করে বেঁচে থাকতে চায়।’
আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানান, সোমবার বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি এবং মঙ্গলবার নদীপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এরপরও সমাধান না হলে আগামীকাল বুধবার সকাল থেকে সিলেট-তামাবিল আঞ্চলিক মহাসড়কের সারীঘাট মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে। এদিকে সারী নদীতে অবরোধের কারণে সারীঘাট থেকে লালাখালগামী পর্যটকবাহী নৌকাগুলো যাতায়াত করতে পারছে না। এতে পর্যটকবাহী নৌকাগুলো সারীঘাটের দিকে ফিরে যাচ্ছে।
জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বলেন, সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমিকদের কর্মহীন করতে একটি মহল অবৈধ যান্ত্রিক মেশিন ব্যবহার করছে। অবিলম্বে এটা বন্ধ করার দাবি জানানো হচ্ছে। অবৈধ ওই চক্রের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি।
জৈন্তাপুরের ইউএনও আল বশিরুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন। আমি তাঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এলে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।’