Sylhet Today 24 PRINT

সীমান্তে মাদক আটক হয়, পাচারকারী কেন নয়!

আমীর হামজা, হবিগঞ্জ |  ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট সীমান্ত দিয়ে গত ৩৪ মাসে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এসব মাদকের বেশিরভাগই উদ্ধার হয়েছে পরিত্যাক্ত অবস্থায়। মাদক বহনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি আটক হয়েছে খুবই কম।

উদ্ধার করা এসব মাদকের মধ্যে রয়েছে দেশি-বিদেশি মদ, ভারতীয় গাঁজা, ফেন্সিডিল, ভারতীয় বিয়ার, ক্যান, ইয়াবা ট্যাবলেট, ইস্কপ সিরাপ, নাসির পাতার বিড়ি ও বাবা জর্দা।

মূল মাদক কারবারি ছাড়া পরিত্যাক্ত অবস্থায় মাদক ও অবৈধ মালামাল উদ্ধারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।

তারা বলছেন, দেশে এত মাদক আসছে, কিন্তু কে আনছে; তার কোনো খবর নেই। যদি মাদকের মূল কারবারিকে ধরা না যায়। তাকে যদি চিহ্নিত করা না যায়, তাহলে দিনদিন মাদক কারবারিদের বিস্তার বাড়তে থাকবে। এটা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরী। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির আরও তৎপরতা বাড়ানো দরকার। এক্ষেত্রে তাদের প্রথম কাজ করতে হবে মাদকের মূল আমদানি কারক এবং এর পেছনের অর্থ বিনিয়োগকারীকে চিহ্নিত করা।

এই বিষয়ে বিজিবি বলছে, তারা যখন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায় তখন পাচারকারীরা মাদক রেখে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। যে কারণে তাদের আর আটক করা সম্ভব হয় না।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জ ব্যাটলিয়ান (৫৫ বিজিবি) গত ২০ মাসে ৭১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৫০ টাকার মাদক উদ্ধার করেছে। এসব মাদকের সাথে ২৯৩ জনকে আটক করে মামলা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার শ্রীমঙ্গল ব্যাটলিয়ান (৪৬ বিজিবি), বিয়ানিবাজার ব্যাটলিয়ান (৫২ বিজিবি) এবং হবিগঞ্জ ব্যাটলিয়ানের (৫৫ বিজিবি) মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান শেষে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চত করেন ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক এসএম সামিউন্নবী চৌধুরী।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে জুলাই ২০২২ পর্যন্ত হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং সিলেট জেলার বিভিন্ন সিমান্ত দিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে উদ্ধার করা ১১ হাজার ৯০৮ বোতল ভারতীয় মদ, ৬২ হাজার লিটার ৬০০ গ্রাম মদ, ৭ হাজার ৩৮৪ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল, ৫ হাজার ৫৯১ কেজি ১ গ্রাম গাঁজা, ৯০৯ বোতল ভারতীয় বিয়ার, ১৫ হাজার ৭২৬ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৭৮ বোতল ইস্কপ সিরাপ, ৩৫ লাখ ৫৯ হাজার ২০০ পিস নাসির পাতার বিড়ি, ৪৭৫ প্যাকেট বাবা জর্দা ধ্বংস করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৫ কোটি ২৯ লাখ ৪১ হাজার ৮৮০ টাকা।

হবিগঞ্জ জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘বিপুল পরিমাণ মাদক দেশে আসল। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুধু মাদক উদ্ধার হয়েছে। কেউ আটক নেই। এগুলোতো হাওয়ায় ভরকরে আসেনি। নিশ্চই একটি সংঘবদ্ধ মাদক কারবারীরা এটা এনেছে। এরা সংঘবদ্ধভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি মূল মাদক কারবারিদের ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা তাদের দায়িত্বে অবহেলা বলে মনে হচ্ছে।’

বেশিরভাগ সময় কেনো চোরাকারবারীদের ধরা যায় না? এমন প্রশ্নের উত্তরে বিজিবি-৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এস এন এম সামীউন্নবী চৌধুরী বলেন, ‘বিজিবি যখন অভিযান চালায়, চোরাকারবারীরা টের পেয়ে ভারতের সীমান্তে ঢুকে পড়ে। যে কারণে অন্য দেশের ভেতর প্রবেশ করে তাদের ধরা সম্ভব নয়। যে কারণে এই সুযোগটা মাদক চোরাকারবারীরা নিয়ে থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা নির্দিষ্ট এলাকা বা চৌকিতে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। যে কারণে দুর্গম এলাকায় চোরাকারবারীদের ধরতে তাদের সাহায্য পাওয়া যায় না।’

বিজিবির অধিনায়ক সামিউন্নবী চৌধুরী বলেন, ‘আমি প্রতিমাসে মাদক চোরাচালান বন্ধে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে চিঠি দেই। চিঠিতে মানবতার বিষয় তুলে ধরে ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য চোরাচালান বন্ধে তাদের সাহায্য প্রার্থনা করি। তারাও চোরাচালান রোধের বিষয়টি প্রশংসা করে আমার চিঠির উত্তর দেন। কিন্তু খুব একটা কার্যকর কিছু হচ্ছে না।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ [email protected] ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.