নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪ অক্টোবর, ২০২২
রাতারগুল জলারবন সংলগ্ন সারী-গোয়াইন নদীর চেঙেরখাল অংশে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার প্রতিবাদে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট শাখা ও সুরমা রিভার ওয়াটাকিপারের যৌথ আয়োজনে মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) প্রতিবাদী নাগরিকবন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বেলা সাড়ে ১২ টার সময় রাতারগুল খেয়াঘাটে আয়োজিত এই কর্মসুচিতে বন সংলগ্ন এলাকার নাগরিকেরা অংশ গ্রহন করেন।
এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি আব্দুল করিম শিকদারের সভাপতিত্বে কর্মসুচি পালনকালে আয়োজিত সভায় মূল বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সুরমা রিভার ওয়াটাকিপার আব্দুল করিম কিম।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিটিক্যাল বিভাগের অধ্যাপক ড. জহিরুল হক শাকিল, অধ্যাপক ড. আলী ওয়াক্কাস, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিষ্টার সৈয়দা সীমা করিম, গোয়াইনঘাট উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, বাপা'র কর্মী সুপ্রজিত তালুকদার ও বাবলু-আল-মামুন, রাতারগুল গ্রামের কমিউনিটি নেতা হারিছ মিয়া, মিনহাজ উদ্দিন, সুনা মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, ফখরুল ইসলাম, আব্দুল কাদির, বিল্লাল আহমদ, কাওছার আহমদ প্রমুখ।
মূল বক্তব্যে বাপার সাধারন সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, রাতারগুল জলারবন সংলগ্ন জলুরমুখে প্রতিরাতে বালু উত্তোলন করে বালুখোর একটি দুর্বৃত্তচক্র। নিজেদের প্রভাবশালী দাবী করা এই চক্রের নির্বিচার বালূ উত্তোলনে জলারবন ভাঙ্গনের মুখে। তাছাড়া চালিতাবাড়ি সহ একাধিক গ্রামের মানুষ কৃষিজমি ও বসতভিটা হারানোর হুমকিতে আছে। এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন এই দুর্বৃত্তদের দমনে ব্যার্থ হওয়ায় পরিবেশবাদীরা আজকে এই প্রতিবাদ কর্মসুচীর আয়োজন করেছে।
প্রফেসর জহিরুল হক শাকিল বলেন, আমরা উন্নয়নের পক্ষে। তবে প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংস করে কোন উন্নয়ন চাই না। তিনি বলেন, সরকার যেহেতু জলুরমুখকে বালু মহাল ঘোষণা করে নাই তাই এখানে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ্য।
বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিষ্টার সৈয়দা সীমা করিম বলেন, রাতারগুল বন আমাদের গর্ব। এই বনের ক্ষতি হয় এমন কার্যকলাপ কঠোরভাবএ দমন করতে হবে।
অধ্যাপক ড. আলী ওয়াক্কাস বলেন, রাতের আঁধারে বালু যারা তোলে তারা নিজেই বোঝে এটা অপরাধ। তাই চোরের মত তাদের এই কাজ করতে হচ্ছে। চোরদের দমন করা প্রশাসনের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে প্রশাসন ব্যার্থ হলে মানুষ মনে করতে পারে বালুখেকোদের সাথে স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজশ রয়েছে।
নাগরিক বন্ধনে স্থানীয় নাগরিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই এলাকার একটি চক্র প্রতিনিয়ত জলুরমুখ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এই এলাকায় কোনো বালু মহাল নেই এবং সরকারও লিজ দেয়নি। তারপরও উক্ত এলাকা থেকে ড্রেজার লাগিয়ে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু উত্তোলন বন্ধের দাবী জানিয়ে এ বিষয়ে গ্রামবাসী বিভাগীয় বন কর্মকর্তার বরাবরে গত ২৯ সেপ্টেম্বর একটি লিখিত আবেদন করেছে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী চলা নাগরিকবন্ধন কর্মসূচি শেষে বাপা নেতারা নদী ভাঙ্গনে জলারবনের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।