রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর | ১৯ অক্টোবর, ২০২২
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর বাজারগুলোতে শীতের আগাম সবজি আসা শুরু হয়েছে। তবে দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। কেজি প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকার কমে মিলছে না কোনো ধরনের সবজি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। সঙ্গে মাছ, মুরগি ও ডিমের দামও চড়া। কাঁচামরিচের ঝালও বেশি। নিত্যপণ্যের এমন ঊর্ধ্বমূল্যের কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। তারা বলছেন, বাজারে শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি।
বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়তি। বুধবার( ১৯ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আলু, পেয়াজ বাদে সব ধরনের সবজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার উপরে। শিম ১৬০ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা, বেগুন প্রকারভেদে ৬০-১০০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, শসা ৮০-১০০ টাকা, চিচিঙা ৭০ টাকা, লাউ আকার ভেদে ৫০-৭০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৭০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।
নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য দ্রব্যের দামও বেড়েছে। খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায়। তেলের দাম আগের মতো থাকলেও বেড়েছে মুরগি ও ডিমের দাম। ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায় আর দোকানে খুচরা প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১১ টাকায়। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা, সোনালি (কক) ৩০০ টাকা।
এছাড়া ভরা মৌসুমে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও মূল্য কমেনি। বড় (১ কেজির উপরে) ইলিশ প্রতি কেজি ১৪০০-১৬০০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের ইলিশ প্রতি কেজি ৭০০-৯০০ টাকা। ছোট আকারের ইলিশ ৫৫০-৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য মাছের মধ্যে আকারভেদে রুই কেজি প্রতি ২৫০-৩৫০ টাকা, কাতল ২৫০-৩০০ টাকা, পাঙাস ১২০-১৬০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০-১৪০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৫৫০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জগন্নাথপুর বাজারের সবজি বিক্রেতা রহমানিয়া সবজি আড়ৎ মোঃ আলীউর রহমান বলেন, শিম, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও টমেটার সরবরাহ বাড়লেও চাহিদার তুলনায় কম। তাই দাম একটু বেশি। শীতের সবজি বেশি আসতে শুরু করলে দাম নাগালের মধ্যে চলে আসবে,বৃষ্টির জন্য সবজি বাগান গুলো নষ্ট হয়াতে দাম একটু বেশী।
জগন্নাথপুর বাজারের মুরগি ব্যাবসায়ী রেদোয়ান বলেন, মুরগির খাদ্যের দাম বাড়তি। করোনায় ও বন্যার ঘাটতি মেটাতে না পেরে অনেক পোল্ট্রি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাজারে মুরগি সরবরাহ কমেছে। অপরদিকে হোটেল-রেস্তোরায় মুরগির চাহিদা বেড়েছে। সব মিলিয়ে মুরগির দাম বেড়ে গেছে।
জগন্নাথপুর বাজারে সবজি কিনতে এসেছিলেন শিক্ষক সাইফুল ইসলাম রিপন। কথা হলে তিনি বলেন, বাজারে শীতের আগাম সবজি আসছে। তবুও আমাদের বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে। নামমাত্র সবজি কিনতেই পকেটের সব টাকা ফুরিয়ে যাচ্ছে। মূল্য বেশি থাকায় সবজি কিনতেও হিসেব করতে হচ্ছে।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী সৈয়দা গুলশান বেগম সুমা বলেন, প্রয়োজনীয় সবকিছুর দামই চড়া। সাধ্যের বাইরে সবকিছুর দাম। ৫০ টাকার নিচে সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির ফলে আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষের টিকে থাকাই কষ্ট হচ্ছে। বাজার কর্মকর্তারা নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করলে হয়তো দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকতো।
জগন্নাথপুর বাজার ব্যস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহির উদ্দিন বলেন, বাজার নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের কিনে আনা পণ্যে বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। ঘনঘন দাম উঠানামার ফলে ক্রেতারাও প্রকৃত দাম বুঝতে পারেন না। দ্রুতই সব ধরনের দ্রব্যের মূল্য নির্ধারণ করে বাজারগুলোতে তালিকা টানানো হবে।