নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ অক্টোবর, ২০২২
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে অর্থ জোগান দেওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা থেকে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থীকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট-২ আদালতের বিচারক সুমন ভূঁইয়া তাদের অব্যাহতির আদেশ দেন।
এরআগে একইদিনে জালালবাদ থানা পুলিশ এই মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) আদালতে প্রদান করে।
অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন, শাবির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান খান, স্থাপত্য বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রেজা নুর মুইন, এএফএম নাজমুল সাকিব, এ কে এম মারুফ হোসেন এবং ফয়সল আহমেদ।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নওশাদ আহমদ চৌধুরী জানান, গত জানয়ারি ৫ সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। তবে দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ তাদের সম্পৃক্ততা পায়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু খালেদ মামুন বৃহস্পতিবার মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে আদালত অভিযুক্তদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।
জালালবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, মামলার তদন্তে আমরা অভিযুক্তদের কোন অপরাধ পাইনি। বাদীও মামলা চালিয়ে যেতে আগ্র্রহী নন। তাই চুড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে গত জুনায়ারিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উস্কানি ও অর্থ সহায়তার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ৫ শিক্ষার্থীকে ঢাকা থেকে ২৪ জুনায়ারি আটক করে পুলিশ। পরদিন তাদের জালালাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হলে তাদের বিরুদ্ধে সিলেট জেলা তাঁতি লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুজাত লায়েক আহমদ বাদি হয়ে জালালাবাদ থানায় মামলা করেন ।
উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে আমরন অনশনে বসেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। এরপর ২৬ জানুয়ারি ভোররাতে ক্যাম্পাসে আসেন জনপ্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী ড. ইয়াসমীন হক। তারা দুজনই শাবির অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেওয়া হবে, তারা দুজন এমন আশ্বাস দিলে ১৬৩ ঘণ্টা পর অনশন ভাঙেন ২৮ শিক্ষার্থী। তবে আন্দোলন চালিয়ে যান তারা।
এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে এসে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগসহ পাঁচটি দাবি এবং আট দফা প্রস্তাবনা পেশ করেন।
তাদের দাবিগুলো ছিল: উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগসহ ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ ও প্রক্টরিয়াল বডির অপসারণ, ক্যাম্পাসের সব আবাসিক হল সচল রাখার বিষয়ে উদ্যোগ, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অর্থ সাহায্য দেয়া পাঁচ সাবেক শিক্ষার্থীর জামিন ও অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং অনশনরত শিক্ষার্থী ও উপাচার্যের নির্দেশে পুলিশের হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ভার বহন।
সেদিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সব দাবি মেনে নেয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন এবং উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেন শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী। এই আশ্বাসের পরদিন ১২ ফেব্রুয়ারি আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
এই আশ্বাসের প্রায় নয় মাস পর মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন সাবেক ৫ শিক্ষার্থী।