Sylhet Today 24 PRINT

‘সংসার চালাতে’ চাকরির সন্ধানে ঝুমনের স্ত্রী

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি |  ৩০ অক্টোবর, ২০২২

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জেলে গেছেন সুনামগঞ্জের শাল্লার ঝুমন দাস। সবশেষ গত ৩০ আগস্ট গ্রেপ্তার হওয়ার পর দুই মাস কেটে গেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী জেলে থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে ঝুমনের পরিবার।

স্বামীকে মুক্ত করার আইনি লড়াই ও সংসারের খরচ চালাতে চাকরির সন্ধানে নেমেছেন ঝুমনের স্ত্রীর সুইটি রানী দাস। এ বিষয়ে শনিবার ফেসবুকে একটি পোস্টও দিয়েছেন তিনি।

ফেসবুকে সুইটি লিখেছেন (বাক্য ও বানান অপরিবর্তিত), ‘কারো জানা থাকলে আমার একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া যাবে কি? ফ্যাক্ট, আমার স্বামীর মামলা ও সংসার চালানো খুব খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে।’

এ বিষয়ে সুইটি রানী দাস বলেন, ‘পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী যদি জেলে চলে যায় তাহলে সংসার চলবে কী করে? আর আমার স্বামী জেল থেকে মুক্তি পেলেও তাকে কাজ করার অনুমতি দেয়া হয় না, তাকে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যেতে হলেও পুলিশের অনুমতি নিতে হয়।

‘এ কারণে সবাই মিলে বাড়িতেই একটা দোকান দিয়েছিলাম। কোনো মতে চলে যাচ্ছিল। তবে উনি (ঝুমন) আবার আটক হয়ে জেলে যাওয়ায় পরিবারে টাকার টান পড়েছে।’

সুইটি বলেন, ‘দোকানে মালামাল নেই, কারাগারে যাওয়া-আসা, মামলার খরচ চালানো আমার জন্য কষ্টকর হয়ে গেছে। গ্রাম থেকে সুদে ৭০ হাজার টাকার মতো ধারদেনা করেছি, সেগুলোই বা দেব কীভাবে!’

তিনি বলেন, ‘আমি অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী, তিনি (ঝুমন) চাইতেন আমি পড়াশুনা করি। কিন্তু এখন স্বামীকে জেল থেকে মুক্ত করা ও পরিবারের খরচ চালাতে আমার একটা কাজ পাওয়া বেশি প্রয়োজন।’

ঝুমনকে নির্দোষ দাবি করে তার মা নীভা রানী দাস বলেন, ‘এর আগে নোয়াগাঁও গ্রামে হামলার ঘটনার কারণে আমার ছেলেকে দোষ দিলেও এবারের ঘটনায় আমার ছেলে নির্দোষ। সে নিজে (ফেসবুকে) কিছু লেখেনি, অন্যের লেখা ছেড়ে দেয়ার (শেয়ার) ফলে সে জেলে গেছে। আমার ছেলে নির্দোষ, আমি আমার ছেলের মুক্তি চাই।’

ফেসবুকে ‘উসকানিমূলক’ পোস্ট শেয়ার দেয়ার অভিযোগে ৩০ আগস্ট সকালে ঝুমন দাসকে হেফাজতে নেয় শাল্লা থানা পুলিশ। প্রায় ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে তাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের নবরত্ন মন্দিরের গেটে ঝোলানো মসজিদের দানবাক্সের একটি ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। হেঁটে দেশ পরিভ্রমণে নামা এক ব্যক্তি ছবিটি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেই ছবিটি শেয়ারের কারণে এবার গ্রেপ্তার হন ঝুমন দাস।

এর আগে গত বছরের ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ‘শানে রিসালাত সম্মেলন’ নামে একটি সমাবেশের আয়োজন করে হেফাজতে ইসলাম। এতে হেফাজতের তৎকালীন আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক এতে বক্তব্য দেন।

এই সমাবেশের পরদিন ১৬ মার্চ মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ঝুমন দাস। স্ট্যাটাসে তিনি মামুনুলের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ আনেন।

পরদিন কয়েক হাজার লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করে হামলা চালায় নোয়াগাঁও গ্রামে। তারা ঝুমন দাসের বাড়িসহ হাওরপারের হিন্দু গ্রামটির প্রায় ৯০টি বাড়ি, মন্দির ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

এরপর ২২ মার্চ ঝুমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম। ঝুমন গ্রেপ্তার হওয়ার ছয় মাস পর গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর শর্তসাপেক্ষে হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পান।

ঝুমনের বিরুদ্ধে বর্তমান মামলার অবস্থা জানতে চাইলে তার আইনজীবী পংকজ কুমার নাথ রোববার বলেন, ‘ঝুমনের জামিনের আবেদনটি সুনামগঞ্জের আদালত খারিজ করে দিয়েছে। বর্তমানে জামিনের আবেদনটি হাইকোর্টে রয়েছে, এখন বাকিটা মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের ওপর নির্ভর করছে।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ [email protected] ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.