Sylhet Today 24 PRINT

জিনিষের দাম বেড়েছে, তবে লাভ কমেছে

সংসার চলে না চা বিক্রেতা জব্বার মিয়ার

জুড়ী প্রতিনিধি |  ০৪ নভেম্বর, ২০২২

জিনিষপত্রের দামের সাথে লাভ বাড়ার কথা কিন্তু এবার হয়েছে উল্টো। দাম বাড়লেও লাভ কমে গেছে। আগে দিনে ৫০০-৭০০ টাকা লাভ হলেও এখন লাভ হয় ৩০০-৪০০ টাকা। বিক্রি কিন্তু আগের মত রয়ে গেছে। চাহিদাও আছে আগের মত।

আফসোস করে এমনটি বললরেন চা বিক্রেতা জব্বার মিয়া। জুড়ী উপজেলার ফজলু মিয়া মার্কেটের পেছনে চা বিক্রি করে ৬ জনের সংসার চালান এই জব্বার মিয়া।

শুক্রবার তার সাথে কথা হলে আক্ষেপ করে বলেন, আগের মতন আছি লাভ বাড়েনি, জিনিষের দাম ঠিকই বেড়েছে। আগে যে টাকা লাভ হত তা দিয়ে সংসার চলতো মুটোমুটিভাবে পেটে ভাতে। এখন পরিবারের ব্যয় বাড়লেও রুজি কমে গেছে। এই রোজগার দিয়ে পরিবার চালানো সম্ভব নয়।

জব্বার মিয়া আরও বলেন, আগে চিনির দাম ছিল ৫৫ টাকা এখন চিনির কেজি ১২০ টাকা। আগে চা পাতা ছিল ২৬০ টাকা এখন চা পাতার কেজি ৩০০ টাকা, দুধের দামও অনেক বেড়েছে। সবকিছুর দাম প্রায় দ্বিগুন বেড়েছে কিন্তু চায়ের ক্রেতা  আগের মতোই রয়ে গেছেন। চায়ের দাম বেশি বাড়ালে বিক্রি কমে যাবে তাই বেশি বাড়ানো যায় না। এই আয় দিয়ে কোন রকম ভাবে সংসার চালান এই চা বিক্রেতা।

জব্বার মিয়ার পরিবারে ৬ সদস্য। স্ত্রী ছাড়াও বড় মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে, মেজো মেয়ে ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ে।এদের খরচ দিয়ে পরিবার চালানো খুবই কষ্টকর।

শুধু জব্বার মিয়া নন, তার মত হাজারো দিন মজুর ও চা বিক্রেতা  আছেন যারা প্রতিদিনের আয় দিয়ে তাদের পরিবারের ভরনপোষণ করা সম্ভব হয় না।

চা বিক্রেতা বাবুল দেব, কৃষ্ণ দেব দুই ভাই মিলে রাস্তার পাশে একটি চায়ের টং দোকান দিয়ে দুই ভাইয়ের পরিবার চলে। তাদের সাথে কথা হলে  তারা ও জানান,চা বিক্রি করে এক সময় সংসার চললেও এখন আর তা সম্ভব হবে বলে মনে করেন না তারা।

চা বিক্রেতা আব্দুল আজিজ আক্ষেপ করে বলেন, চা বিক্রি করে কোন রকম  সংসার চললেও এখন মা অসুস্থ।উনার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। আর পারছি না এই চিকিৎসা করাতে। দ্রব্যমূল্যের দামের পাশাপাশি সবজির বাজারেও আগুন। আলুর কেজি ৩০ টাকা, শসা ৫০ টাকা , মুকি ৬০টাকা, ফুলকপির কেজি ৬০ টাকা. সিম, টমেটোর কেজি ১০০- ১২০ টাকা। এত দাম দিয়ে সবজি ক্রয় করে অন্যান্য খরচ চালানো কষ্টকর।

জুড়ী বাজারের সবজি বিক্রেতা  ইবরাহিম  জানান, আমরা দাম দিয়ে সবজি কিনি তাই দামে বিক্রি করি।আমাদের করার কিছুই নেই।

সবজির আড়ৎদার সেজু আহমদ বলেন, আমরা সামান্য লাভ করে দোকানদারের  কাছে সবজি বিক্রি করি, তারা নিয়ে ভোক্তার কাছে লাভ করে বিক্রি করে। সবজির দাম বেড়ে যায়, উত্তরবঙ্গ  থেকে গাড়িতে আসার কারনে। তেলের দাম বাড়ার সাথে সাথে ভাড়া ও বৃদ্ধি হয়ে গেছে। আমরা পাইকারদের কাছে যে শিমের কেজি  ৮০ টাকায় বিক্রি করি, সেটি আমরা ৭৫ টাকা কেজি দরে ক্রয় করে জুড়ীতে নিয়ে আসতে প্রায় ৭৯ টাকা খরচ হয়,দোকানদাররা সেই শিম নিয়ে ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে। যে ফুলকপি আমরা ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দোকানদাররা তা ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি করে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.