শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি | ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৫
পাপমুক্তি, মানবকল্যান ও মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে আনন্দ-উদ্দীপনায় পালিত হলো খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব “বড়দিন”। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ২৫ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গলস্থ ক্যাথলিক মিশনে বড়দিন পালন করা হয়।
ক্যাথলিক মিশনের ফাদার সুব্রত বনিফাস টলেন্টিনু জানান, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বড়দিন সবার। এই দিনে ঈশ্বর মানুষকে পাপ থেকে মুক্তি দিতে এসেছিলেন। তিনি সবাইকে ভেদাভেদ ভুলে মিলনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রভু আমাদের পাপ, তাপ, রাহু থেকে মুক্ত করে শান্তি বর্ষিত করবেন। বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারে আনন্দ বয়ে আনবেন- এমনটাই প্রত্যাশা।
বড়দিনে নেতৃত্ব দেন শ্রদ্ধেয় বিশপ বিজয় এন.ডি ক্রুশ, পাল পুরোহিত ফাদার সুব্রত বনিফাস টলেন্টিনু, সহকারী পাল পুরোহিত ফাদার সুমন পিটার কস্তাসহ আরো অনেকে।
বড়দিন উপলক্ষে ক্যাথলিক মিশনে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপি। সাথে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ: মাহবুবুর রহমানসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এসময় উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপি বলেন, আমাদের খ্রিস্ট ধর্মের একটি বিশেষ দিন। যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন। আমরা দেশবাসীসহ খ্রিস্টান ধর্মের মানুষদের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এইবার একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন। মুসলিম সম্প্রদায়ের মহানবী (স) এর জন্মদিন। এই দুটো জন্মদিন একইদিনে উদযাপিত হচ্ছে। এই জন্য দেশবাসীকে মহানবী এবং যিশু খ্রিস্টের পক্ষ থেকে আশীর্বাদ ও দোয়া কামনা করছি সবার জীবন সুন্দর হয় এবং দেশের জন্য কল্যাণ হয়।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ: মাহবুবুর রহমান জানান, বড়দিন উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। ক্যাথলিক মিশনে নিরাপত্তার জন্য তিন স্থরের নিরাপত্তার বলয় সৃষ্টি করেছি। আমরা উনাদের সবোর্চ্চ নিরাপত্তা দেওয়া সচেষ্ট আছি। আনন্দের মধ্যে সবাই যেন বড়দিন উদযাপন করতে পারেন সেই জন্য আমরা সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছি।
দুই হাজার চৌদ্দ বছর আগে মানুষকে পাপের আবর্ত থেকে মুক্তি দিতে বর্তমান ফিলিস্তিনের বেথেলহেম নগরীতে একটি গোশালায় কুমারী মাতা মেরির গর্ভে জন্ম নেন মহান যিশু খ্রিস্ট। এ জন্মতিথিকে উপলক্ষ করে প্রতি বছর আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন খ্রিস্টীয় ধর্মমতের অনুসারীরা। দিনটি উপলক্ষে গির্জা ছাড়াও খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বাড়ি বাড়ি চলে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।