Sylhet Today 24 PRINT

জকিগঞ্জে শেষ সময়ে এসে প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

লিটন চৌধুরী, জকিগঞ্জ থেকে ফিরে  |  ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৫

নদীর ওপারে ভারত এপারে বাংলাদেশের জকিগঞ্জ। দুই দেশের মধ্যে সীমারেখা টেনেছে কুশিয়ারা নদী। ক'দিন ধরে প্রচন্ড শীত পড়েছে সীমান্তবর্তী এই পৌর শহরে। তবে শীত উপেক্ষা করে জকিগঞ্জে এখন নির্বাচনী উত্তাপ।

সর্বত্রই চলছে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা, সকাল থেকে গভীর রাত অব্দি। বাংলাদেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল সিলেটের জকিগঞ্জে পৌর নির্বাচনে মেয়র-কাউন্সিলর সকল প্রার্থীই ব্যস্ত নির্বাচনের শেষ মুহুর্তের প্রচারণায়। তবে দিন যত গড়াচ্ছে প্রচারণা সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগও।

মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক জকিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফারুক আহমদের (জগ প্রতীক) বিস্তর অভিযোগ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো. খলিল উদ্দিন উদ্দিনের (নৌকা প্রতিক) বিরুদ্ধে।

ফারুক আহমদ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নির্বাচনে প্রচার প্রচারণায় বাধার সম্মুখিন হচ্ছি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ভোটারদের কাছে গণসংযোগের সময়ে আমার সাথে ১০/১৫ জন লোক থাকলেই আমাকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা গুণতে হয়, অথচ নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মিছিল করে গণসংযোগ করলেও তার বিরুদ্ধে রিটার্নিং কর্মকর্তা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না। লিখিত অভিযোগ করলেও শুধুমাত্র শোকজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন, এর বেশি কোন প্রতিকার করেন না।

জকিগঞ্জ পৌর নির্বাচনে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী মো. বদরুল হক বাদল (ধানের শীষ প্রতীক) অভিযোগ করে বলেন, আমরা কিছু করলেই সরকার দলীয় প্রার্থী আমার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, নৌকা প্রতীকের সমর্থনে চার-পাঁচশো মানুষ যখন মিছিল করে তখন আচরণ বিধি কোথায় থাকে আর কেমনে সেটা লেভেল প্লেইং ফিল্ড হয়?

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হক চত্তরে নির্ধারিত পথসভা পুলিশী বাধার কারণে আমাকে করতে দেয়া হয়নি।

বদরুল হকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, সারাক্ষণই পুলিশী ধরপাকর আতঙ্কের মধ্য দিয়ে প্রচারণা চালাতে হচ্ছে আমাদের। ৫ জনের বেশি লোক নিয়ে আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি না।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদ প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মো: খলিল উদ্দিনের (নৌকা প্রতীক) কাছে অপর প্রার্থীদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। জকিগঞ্জ পৌর নির্বাচনে কোন ভাবেই আমার দ্বারা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে না। আমার জয়রথে বিঘ্ন ঘটাতে এমন প্রপাগাণ্ডা চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নের সরকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণ আমাকে বিমুখ করবে না।

খলিল উদ্দিনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক শহীদ আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নানা ভাবে আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিদ্রোহী ফারুক আহমদ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অফিস আদালতে আধিপত্য বিস্তার করতেন। অপকর্মের কারণে জেলও খেটেছেন তিনি। সম্প্রতি তাকে আওয়ামীলীগ থেকে বহিষ্কার করায় দলীয় মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

জকিগঞ্জ পৌর নির্বাচনে খেলাফত মজলিস মনোনিত মেয়র প্রার্থী মো: জাফরুল ইসলামের (দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক) অভিযোগ নেই কারো প্রতি।
নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতি সন্তুষ্ঠি জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়ন, অব্যাহত নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে জকিগঞ্জবাসীদের রক্ষা ও জকিগঞ্জকে সি গ্রেড থেকে বি গ্রেডের পৌরসভায় উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করবো।

জকিগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সত্তরোর্ধ ককাই মিয়ার কাছে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'যেউ মেওর অয় তাইনউ তান বুজ বুজউন। জনগনর কুনতা তো লাভ অয় না'।

প্রার্থীদের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম বলেন, পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ একেবারেই সঠিক নয়। যাদের বিরুদ্ধেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জকিগঞ্জে এবারের পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাজী খলিল উদ্দিন (নৌকা), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ফারুক আহমদ (জগ), বিএনপি মনোনিত প্রার্থী সাবেক পৌর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক বদরুল হক বাদল (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি মনোনিত প্রার্থী বর্তমান মেয়র আব্দুল মালেক ফারুক (লাঙল), স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী হিফজুর রহমান (মোবাইল ফোন), খেলাফত মজলিস মনোনিত প্রার্থী জাফরুল ইসলাম (দেওয়াল ঘড়ি)।

শুক্রবার পৌর শহরের গিয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা শুক্কুর মিয়ার সাথে। তিনি সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দলীয় ভোটাররা তাদের প্রার্থীকে ভোট দেবে কিন্তু আমরা সাধারণ ভোটার দলীয় প্রতীক দেখে নয় বরং যোগ্য ব্যাক্তিকেই আমরা পৌর পিতা হিসেবে বেছে নিবো।

জকিগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে। জনসংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। ২০০৬ সালে প্রথম পৌরসভা নির্বাচন হয়। ভোটারসংখ্যা ১০ হাজার ৪০৭। এর মধ্যে নারী ভোটার ৫ হাজার ২৭১ ও পুরুষ ৫ হাজার ১৩৬ জন।

 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.