বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি | ১৫ নভেম্বর, ২০২২
সিলেটে মিছিলকালে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের বিয়ানীবাজারের দক্ষিণবাজারে এমন ঘটনা ঘটে। এতে পৌর শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। এসময় এ সময় ইটের আঘাতের মুসলিম মিয়া নামের এক শ্রমিক আহত হন।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ১৯ নভেম্বর সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশের প্রচারের অংশ হিসেবে বিয়ানীবাজারে মঙ্গলবার মিছিল বের করেন তারা। এতে বাধা প্রধান ও হামলা চালায় সরকার দল।
জানা যায়, বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশকে সামনে রেখে মঙ্গলবার দুপুরে বিয়ানীবাজার পৌরশহর ও আশপাশ এলাকার প্রচারপত্র বিতরণ শুরু করে উপজেলা, পৌর বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকমীরা। এসময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ছরওয়ার হোসেনসহ বিএনপি’র স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এরপর ছাত্রদল মিছিল শুরু করলে উপজেলা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ একত্র হয়ে তাদের ধাওয়া করে।
ছাত্রলীগের ধাওয়া খেয়ে ছাত্রদল সহ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা শহরের দক্ষিণবাজার ছেড়ে শহরতলী সুপাতলা এলাকায় অবস্থান নেন। ধাওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপি’র নেতারাও সেখানে অবস্থান নেন।
এরপর লামাবাজার এলাকায় সংক্ষিপ্ত সভা করে বিএনপি। এতে জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সাধারণ সম্পাদক এমরান হোসেন চৌধুরী, বিএনপি নেতা ফয়ছল আহমদ চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।
বিএনপি নেতারা পথ সভায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে বিষোদগার করে বক্তব্য দিলে বিএনপি’র সভাস্থলে গিয়ে আবারও ধাওয়া করে ছাত্রলীগ। এ সময় তারা বিএনপি’র নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি রেজাউল আলম বলেন, আমাদের পূর্ব নির্ধারীত কর্মসূচী আমরা শান্তিপূর্ণভাবে করার সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা বাধা দেয়। শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচীতে বিনা উস্কানিতে ছাত্রলীগ নির্লজ্জভাবে হামলা চালিয়েছে। আমরা এই হামলার নিন্দা জানাই। জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি করি।
ধাওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা কলিম উদ্দিন বলেন, ছাত্রলীগের ধাওয়া খেয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের অপপ্রচারকারী ও গুজব প্রচারকারী নেতাকর্মীরা পালিয়ে গেছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কাওছার আহমদ বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উস্কানিমুলক শ্লোগান দিয়ে এখানকার পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করেছিলো। আওয়ামী লীগ সেটি প্রতিহত করেছে।