গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি | ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৫
গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী জাকারিয়া আহমদ পাপলুর সমর্থনে গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীতে অনুষ্ঠিত পথ সভায় বক্তারা বলেছেন, জাকারিয়া আহমদ পাপলু গোলাপগঞ্জ পৌরবাসীর অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তি। যার প্রমাণ গত দু’বারের নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে জনগণ তাকে মেয়র নির্বাচিত করেছে। জনগণের অতি কাছের প্রতিনিধি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাকারিয়া আহমদ পাপলুকে নৌকা প্রতীক দিয়ে আপনাদের কাছে পুনরায় পাঠিয়েছেন।
বক্তারা আরও বলেন, গত ১৪ বছরে জাকারিয়া আহমদ পাপলু পৌরসভার অনেক উন্নয়ন করেছেন। যা দেখে আমরা সবাই মুগ্ধ হয়েছি। ব্যক্তিগতভাবে জাকারিয়া আহমদ পাপলুকে অনেকের পছন্দ না হতে পারেন। কিন্তু স্থানীয় উন্নয়নের স্বার্থে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে জাকারিয়া আহমদ পাপলুর মাধ্যমে আধুনিক পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সন্ত্রাস, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বন্ধ করে গোলাপগঞ্জ পৌর শহরকে শান্তির শহরে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাকারিয়া আহমদ পাপলুকে নৌকা প্রতীক দিয়ে আপনাদের কাছে পাঠিয়েছেন। তাই আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে জাকারিয়া আহমদ পাপলুকে পুনরায় বিজয়ী করার জন্য আহবান জানানো হয়।
শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকালে জাতীয় শ্রমিকলীগ গোলাপগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় মেয়র প্রার্থী জাকারিয়া আহমদ পাপলু বলেন, ২০০২ সালের প্রথম নির্বাচনে আমি নির্বাচিত হওয়ার পর, আমার প্রতিপক্ষ আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন তিনমাসও আমাকে দায়িত্বে থাকতে দিবেন না। তারা মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের বার বার হয়রানী করেছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে আমার অফিস থেকে গ্রেফতার করানো হয়। তাদের দায়ের করা সকল মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয় এবং আমি মুক্তি লাভ করি। এছাড়া আমি জেলে থাকা অবস্থায় তারা আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতিদমন কমিশনে মিথ্যা কাল্পনিক অভিযোগ দেয়। তাদের দেয়া অভিযোগ কমিশন বার বার তদন্ত করে এর কোন সত্যতা পায়নি। আমার জনগণের ভালবাসা ও তাদের সহযোগিতায় কুচক্রী মহলের সকল অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ হয়।
পাপলু বলেন, ১৪টি বছর তারা এভাবে আমার বিরুদ্ধে একের পর এক অপপ্রচার চালিয়ে পৌরসভার নাগরিক ও ব্যবসায়ীদেরকে আমার কাছ থেকে দূরে সরানোর অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু জনগণ তাদের এ অপপ্রচারে সাড়া দেয়নি।
তিনি বলেন, অপপ্রচারকারীদের বেড়াজালে পড়ে অনেক ব্যবসায়ী তাদের ট্রেড লাইসেন্স ও অনেক নাগরিক সেবা পেতে বিভ্রান্ত হয়েছেন। এই অপপ্রচারকারীরা প্রতি নির্বাচনে আমার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এবারও তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। জনগণ তাদেরকে বার বার প্রত্যাখ্যান করেছেন।
জাকারিয়া আহমদ পাপলু বলেন, আমার প্রতি প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা মেয়র হিসেবে আমার বিগত ১৪ বছরের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে আমার সততা এবং নিষ্ঠাকে বিবেচনা করেই দলীয় প্রতীক নৌকা দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এবার আপনাদের কাছে পাঠিয়েছেন। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করলে আপনাদের হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে উন্নয়নমূলক সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করতে পারব।
তিনি বলেন, পৌর শহরে কোন ডিগ্রী কলেজ নেই। আমি নির্বাচিত হলে পৌরসভার অর্থায়নে একটি ডিগ্রী কলেজ স্থাপন করব। সেখানে গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিনা বেতনে পড়া লেখা করতে পারবে। পৌর শহরে ২০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে, পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে, পৌর এলাকার অসহায় দরিদ্রদের জন্য পৌরসভার অর্থায়নে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে, গোলাপগঞ্জ চৌরাস্তায় দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হবে এবং অসমাপ্ত প্রতিটি রাস্তাকে আধুনিক সড়ক বাতি দ্বারা আলোকিত করা হবে। এছাড়াও ইতোমধ্যে গত বর্ষা মৌসুমে যে সকল রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দ্রুত তার উন্নয়ন কাজ করা হবে।
তিনি বলেন, আমি সরকারীভাবে বিভিন্ন উন্নত দেশ সফর করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমার এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পৌর শহরের আবর্জনাকে ডাম্পিং স্টেশনের মাধ্যমে সংরক্ষণ করে বিভিন্ন শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে চাই। এতে কর্মসংস্থান তৈরি করে বেকারত্ব দূর করা হবে এবং পরিচ্ছন্ন শহর উপহার দেয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে পৌরসভার পক্ষ থেকে সাড়ে ৬’শ পরিবারের মধ্যে ঢেউটিন, দেড়শতাধিক সেলাই মেশিন ও প্রায় পাঁচ’শ পরিবারকে গভীর অগভীর নলকূপ স্থাপন করে দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এসকল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বিগত ১৪ বছরের উন্নয়ন বিবেচনা করলে জনগণ আমাকে রেকর্ডসংখ্যক ভোট দিয়ে পুনরায় নির্বাচিত করবেন এটা আমার আত্মবিশ্বাস। সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি আমি পৌরসভার অর্থায়নে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দু’টি মসজিদ, দু’টি মন্দির ও দু’টি শ্মশান ঘাট নির্মাণ করে দিয়েছি।
গত দুই নির্বাচনে জনগণ তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করায় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সেবায় আমার জীবন উৎসর্গ করেছি। আমি জনগণের শাসক নয় সেবক হয়ে কাজ করেছি। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আমি জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। আমি আশা করি জনগণ ভোট দিয়ে আমাকে এ সুযোগ তৈরি করে দিবেন।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পৌর জনকল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলী বাবলু ও যুবলীগ নেতা মঞ্জুর আহমদের যৌথ পরিচালনায় পথসভায় বক্তব্য দেন, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ ও আওয়ামী কর্মজীবী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট রুহুল আনাম চৌধুরী মিন্টু, বাসস’র সিলেট ব্যুরো চীফ ও জেলা যুবলীগ নেতা মকসুদ আহমদ মকসুদ, শাবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মাছুম বিল্লাহ চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন আহমদ কয়েছ, উপজেলা আওয়ামীলীগের দফতর সম্পাদক আকবর আলী ফখর, পৌর নাগরিক কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কাহের সোয়া মিয়া প্রমুখ।