সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৫
আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। আমরা চেয়েছিলাম ১৯৭১ সালের চেতনার বাংলাদেশ। ১৯৭২ সালের সংবিধানের বাংলাদেশ। জাহানারা ইমাম আমার চেয়েও বড় মুক্তিযোদ্ধা। তিনি অনেকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করতেন, গেরিলাদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন এবং উৎসাহ দিতেন। জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্র সমকাল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। এর জন্য কারো থেকে ছাড়পত্র নেবার প্রয়োজন নেই।
রবিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি সেন্টারের একটি কক্ষে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ শাবির শহীদ জননী জাহানারা ইমামের লেখা ‘একাত্তরের দিনগুলি’র উপর সাহিত্য আড্ডায় এসব কথা বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং খেলাঘর আসর সিলেটের সভাপতি পুরঞ্জয় চক্রবর্তী বাবলা।
তিনি আরো বলেন, জয় বাংলা স্লোগানকে বুকে ধারণ করেছি। এই আড্ডা থেকে ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করার দাবি জানান তিনি।
সমকালের শাবি প্রতিনিধি ও সুহৃদ সমাবেশের উপদেষ্টা তন্ময় মোদকের সঞ্চালনায় ‘সাহিত্য আড্ডা’য় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, শাবি’র ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক প্রফেসর ড. রাশেদ তালুকদার, সমকাল সিলেট ব্যুরো প্রধান চয়ন চৌধুরী, অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক ড. মুন্সী নাসের ইবনে আফজাল প্রমুখ। আড্ডায় বইটির মূল আলোচক ছিলেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক সোহেল রানা।
শাবি’র ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক প্রফেসর ড. রাশেদ তালুকদার বলেন, একাডেমিক শিক্ষা বর্তমানে জ্ঞানের প্রসারে যথেষ্ট নয়। এ ঘাটতি পূরণে এ ধরণের সাহিত্য বিষয়ক আড্ডা প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছাড়াও সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও সাংবাদিকতায় ভূমিকা রাখছে। সমকাল সুহৃদ সমাবেশ সমকালের ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।
সমকালের সিলেট ব্যুরো প্রধান চয়ন চৌধুরী বলেন, সকল মুক্তিযোদ্ধাদের আমি সম্মান করি, যদিও দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান দিচ্ছে না। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে অনেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। আইন করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান তিনি। দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার অনেক ক্ষেত্রেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ানো হয় না অথবা ভুল পড়ানো হয়। এটি সংস্কারে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বক্তব্যে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ড. মুন্সী নাসের ইবনে আফজাল বলেন, পড়াশোনার মূল উদ্দেশ্য মননশীলতার বিকাশ। চিন্তার ধারাবাহিকতা এবং এর বিস্তৃতিতে এ ধরণের সাহিত্য আড্ডার উদ্যোগ নেয়ায় সমকালকে ধন্যবাদ। সমকাল সুহৃদের কাছে থেকে ভবিষ্যতে এ ধরণের গঠনমূলক কার্যক্রম আরো দেখতে চাই।
‘একাত্তরের দিনগুলি’ বইটির মূল আলোচনায় বাংলা বিভাগের শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, এ বইটি কোন অর্থেই শুধুমাত্র একটি ডায়েরী নয়। বিগত বিশ বছরের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির দিক নির্দেশনা করেছে এই বইটি। এটি পড়ে কখনো কোন লিঙ্গবিভেদের চিহ্ন পাইনি। বইটিতে জাহানারা ইমাম বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের আগের এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজনীতি ভয়হীনভাবে বর্ণনা করেছেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে জাহানারা ইমামের নামে ছাত্রী হলের নামকরণের প্রস্তাবনা আছে, আবার এ নিয়ে ভয়ংকর রাজনীতিও আছে।
বইটি নিয়ে আলোচনায় তিনি আরো বলেন, ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বইটি হতে পারত জাতীয়তাবাদী দেশ বিনির্মানের মূল দলিল। কিন্তু এটি এখন হয়ে পড়েছে একটি দলের মানুষদের দলিল।
আড্ডা শেষে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের ৪৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা পুরঞ্জয় চক্রবর্তী বাবলাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান শাবি সুহৃদ শাবি সুহৃদ শোয়েব-সাত-ঈল ইভান, শেখ লুবানা, এম এ মুকিত জীবন, শারমিন আক্তার নিষাদ, মাসুম আহমেদ আকাশ, ফারিয়া বিনতে আরিফ, মেহ্নাজ সারওয়ার মুমু প্রমুখ।