কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: | ১৫ ডিসেম্বর, ২০২২
কমলগঞ্জের শমশেরনগর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ সিএনজিচালিত অটোরিকশার দখলে। বুধবার দুপুরে তোলা ছবি।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ সিএনজিচালিত অটোরিকশার দখলে। শহীদবেদির পাশেই ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। সেখান থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, ভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে ময়লা-আবর্জনা ও অটোরিকশার ভিড়ে শিক্ষার্থীদের শহীদবেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শমশেরনগর ডাকঘরের সামনে ১৫ শতক জমির ওপর উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। এ চত্বরে প্রবেশপথের ডান দিকে ছিল পুরোনো শহীদ মিনার। চার বছর আগে পূর্ব দিকে নতুন শহীদ মিনার নির্মাণ করা হলে সেখানে মহান ভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। তবে দুই বছর ধরে শহীদ মিনার চত্বরে গড়ে তোলা হয়েছে উত্তর বাজার সিএনজিচালিত অবৈধ অটোরিকশার স্ট্যান্ড। এখান থেকে বিভিন্ন রুটে যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনার এলাকাজুড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাখা। শহীদবেদির এক পাশে আছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। সেখানে লোকজন প্রস্রাব করেন। দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে শহীদ মিনারসংলগ্ন আশপাশেও।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত উদ্দীন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় দুজন বাসিন্দা জানান, সিএনজিচালিত পরিবহনের শ্রমিকেরা কয়েক বছর ধরে অবৈধভাবে দখল করে শহীদ মিনার চত্বরে গড়ে তুলেছেন অটোরিকশা স্ট্যান্ড। ডাকঘর থেকে রেলওয়ে স্টেশনে যাওয়ার সরু সড়কেও লাইন ধরে রাখা হয় অটোরিকশা। এতে এখানকার আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের হেঁটে চলাচল করতে অসুবিধা হয়। অটোরিকশাশ্রমিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভয়ে এলাকাবাসী কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। স্থানীয় প্রশাসন শহীদ মিনার চত্বর দখলমুক্ত করতে কোনো ভূমিকা রাখছে না।
শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জুয়েল আহমেদ বলেন, শমশেরনগর উত্তর বাজার সিএনজি অটোচালক সমিতির নেতাদের দ্রুত শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে অটোগুলো সরিয়ে সেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দিতে বলেছেন তিনি।