দেবব্রত চৌধুরী লিটন, গোলাপগঞ্জ থেকে ফিরে | ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৫
বেলা ২টা বাজতে তখনো খানিকটা বাকি। গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে দাঁড়ানো রয়েছে ৫/৬ টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। অটোরিকশাগুলোতে বাঁধা রয়েছে মাইক। ২টা বাজলেই অটোরিকশায় চড়ে শুরু হবে শেষ দিনের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা।
উপজেলা পরিষদের বিপরীতে রয়েছে বেশ কিছু চায়ের দোকান। চা পানের বিরতিতে দোকানগুলোতে চলছে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা। সকলেই হিসেব কষছেন কে জিতবেন? এগিয়ে রয়েছেন কে?
পৌরশহরের কদমতলী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দুই প্রার্থীর সমর্থনে মিছিল বের করেছেন তাদের সমর্থকরা। আচরণবিধি লঙ্ঘণ করে চলছে শো-ডাউন।
পৌরসভার দাঁড়িপাতন এলাকায় গিয়ে দেখা মিলল ৫৫ উর্ধ গৃহিনী দিলারা বেগমের সাথে। নির্বাচনের পরিবেশ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখনও নির্বাচনী পরিবেশ ভালো আছে। ভোট কাকে দিব এমন সিদ্ধান্ত এখনো নেইনি। 'ভুটোর মাঠো সবউ সমান লাগের, তবে ভাল মানুষকে ভোট দিব '।
কিছুক্ষণ পর এই এলাকায় দেখা মিলল টিকরবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ৪৫ উর্ধ উনু মিয়ার সাথে। তিনি জানান 'মানুষে কয় পৌরসভা, কিন্তু পৌরসভা তো দেখতে লাগে না। অন্য পৌরসভাগুলা কত উন্নত। আমার ইনো তেমন উন্নয়ন অইছে না। আমরার এলাকার উন্নয়ন দরকার। উন্নয়নের সার্থে আমরা ভোট দিতাম অইবো।'
পৌরসভার কদমতলী এলাকায় কথা হয় ফুলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রিকশা চালক সুমন আহমদের সাথে। তার মতে, জনগণের ঝোঁক মোবাইল ফোন ও নারিকেল গাছ প্রতীকের প্রতি বেশি। নির্বাচনে টাকা পয়সার লেনদেন হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমনটা হচ্ছে বলে তার জানা নেই।
পৌরসভার সরস্বতী এলাকায় কথা হয় জয়নাল আবেদিনের সাথে। তিনি জানান, আমিনুর রহমান লিপন ও সিরাজুল জব্বারের মধ্যে এবারের নির্বাচনে মুল লড়াই হবে।
পৌর এলাকায় ঘুরে দেখা গেল বেশিরভাগ ভোটারদের মুখে মুখে পরিবর্তনের সুর। তবে শেষ মূহূর্তে গুষ্টিগত বিবেচনা ভোটারদের সামনে চলে আসলে বদলে যেতে পারে দৃশ্যপট। সেক্ষেত্রে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার ২ বারের নির্বাচিত মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু এগিয়ে যেতে পারেন, এমন ধারণা অনেকের।
নির্বাচনের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইদুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, গোলাপগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ভোট কেন্দ্রের প্রত্যেকটিই ঝুঁকিপূর্ন হিসাবে বিবেচনায় নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। সে অনুযায়ী নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এছাড়াও ৩জন নির্বাহী হাকিম ও ১ জন বিচারিক হাকিম নিয়োজিত থাকবেন আইনশৃংখলা বিঘ্নকারী অপরাধ মোকাবেলায়। এছাড়াও নির্বাচন ঘিরে বাদবাকি প্রস্তুতি ইতিমধ্যে আমরা সম্পন্ন করেছি।
গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১৯ হাজার ৭৩৫ জন। নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র জাকারিয়া আহমদ (নৌকা), বিএনপি মনোনিত প্রার্থী ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী (ধানের শীষ), উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক পৌর প্রশাসক সিরাজুল জব্বার চৌধুরী (মোবাইল ফোন), যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম (জগ), জাতীয় পার্টির মনোনিত প্রার্থী মো. সুহেদ আহমদ (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুর রহমান (নারিকেল গাছ), খেলাফত মজলিস মনোনিত প্রার্থী উপজেলা খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম (দেওয়াল ঘড়ি)।