নিজস্ব প্রতিবেদক: | ০৫ জানুয়ারী, ২০২৩
সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জে আব্দুল স্মৃতি কলেজে এক কর্মীকে আটকের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তারা প্রায় দুই ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন।
এ ঘটনায় সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক-সিলেট সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে স্থানীয় ও দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কভার্ডভ্যানসহ সব ধরনের যানবাহন সড়কে আটকা পড়ে ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা। পরে থানা পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজে ঢোকেন একই কলেজের ছাত্রলীগ কর্মী অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র রেজাউল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিল গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী নামের এক যুবক। বহিরাগত সঙ্গী নিয়ে কলেজে ঢোকার ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিকের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান রেজাউল ইসলাম। এক পর্যায়ে মোহাম্মদ আলী কলেজ থেকে বের হয়ে যান। পরে রেজাউল ইসলামকে আটক করে পুলিশকে সোপর্দ করেন অধ্যক্ষ।
খবরটি চারদিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সহকর্মীর মুক্তি ও কলেজ অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে দুপুর ১টা থেকে প্রায় ৩টা পর্যন্ত গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টের সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে দেয়।
খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক-দোয়ারাবাজার) সার্কেল রণজিত মল্লিক চন্দ্রসহ ছাতক থানা পুলিশ ও সড়কের জয়কলস হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ওবায়দুর রউফ বাবলু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক আবদুল গফ্ফার, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক কাওছার আহমদসহ স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেয়।
আটকের প্রায় চার ঘণ্টা পর বিকেল ৪টায় থানা থেকে রেজাউল করিমকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
থানার এসআই গোলাম ফাত্তাহ মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘কলেজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’
তবে কলেজ অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ সংক্রান্তে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।