Sylhet Today 24 PRINT

অবহেলায় সৌন্দর্য হারাচ্ছে মাধবকুণ্ড, আগ্রহ হারাচ্ছেন পর্যটকেরা

এক দশকে হয়নি কোনো উন্নয়ন

বড়লেখা প্রতিনিধি: |  ১৯ জানুয়ারী, ২০২৩

বড়লেখা: বেঞ্চের পাইপ চুরি হয়েছে এক দশক হয়। সেখানে এখন পাইপের বদলে বাঁশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এলাকায়

ছুটিছাটা বলে কিছু নেই। ছুটির দিনে হয়তো ভিড়টা একটু বেশি হয়। কিন্তু প্রতিদিনই কমবেশি পর্যটকের পা পড়ে মৌলভীবাজারের বড়লেখার পাহাড়ি অঞ্চলের মাধবকুণ্ড ইকোপার্কে, জলপ্রপাতের কাছে। পর্যটকদের অন্যতম আকষর্ণের স্থান এটি। স্থানীয় ও দেশের দূর-দূরান্ত থেকে অনেক পর্যটক একা, বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থানটিতে ছুটে আসেন।

কিন্তু মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের কাছে টিলা ধসসহ বিভিন্ন কারণে বসার বেঞ্চ নষ্ট হয়েছে। পায়ে চলার পথের টাইলস নষ্ট হয়েছে। শৌচাগারসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ভালো নেই। অথচ ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল (করোনাকালের ২ বছর ব্যতিত) পর্যন্ত মাধবকুণ্ড-ইকোপার্ক থেকে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখ ৭ হাজার টাকা। প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করলেও মাধবকুণ্ড ইকোপার্কে, জলপ্রপাতের উন্নয়নে কোনো ব্যবস্থা নেননি কর্তৃপক্ষ। প্রায় এক দশকের মধ্যে মাধবকুণ্ড ইকোপার্কে পরিকল্পিত কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। এতে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক অনেক পর্যটকের কাছে আকর্ষণ হারাচ্ছে।

বড়লেখার স্থানীয় ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন পাপলু বলেন, ‘মাধবকুণ্ডের সবচেয়ে খারাপ দিক হচ্ছে পরিচ্ছন্নতার অভাব। ব্যবস্থাপনাটা খুবই দুর্বল। জলপ্রপাত এলাকায় পর্যটকদের বসার ও বিশ্রামের ভালো ব্যবস্থা নেই। অনেক দূরদুরান্ত থেকে বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ আসেন। শতশত পর্যটকদের জন্য একটি মাত্র শৌচাগার। এটা খুবই দুঃখজনক। প্রকৃতিকে রক্ষা করে পরিকল্পিত পরিকল্পনার মাধ্যমে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতকে সাজানো যেত। এখানে সুন্দর চেয়ার, বিশ্রামের জন্য শেড করা যেতে পারত। ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ ভালো হলে আরও বেশি মানুষ আসতেন। সরকারি রাজস্বও বাড়ত।’

মাধবকুণ্ড পর্যটক সহায়ক ও উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী কবির হোসেন বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ এখানে তেমন দৃষ্টি দিচ্ছে না। কোনো উন্নয়ন নেই। পর্যটক অনেক কমে গেছে।’

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক। স্থানীয় ও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুরসংখ্যক পর্যটক একটু নির্জনতা এবং এখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন। পর্যটকদের সুবিধা বিবেচনায় রেখে কিছু উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। যা চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ছিল না। তারপরও টিলা ধ্বসসহ বিভিন্ন কারণে অনেককিছুই ভেঙেচুরে গেছে। প্রায় ১০ বছরের মধ্যে মাধবকুণ্ড ইকোপার্কে আর উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। সর্বশেষ ২০১১ সালে মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের জলপ্রপাত এলাকায় পর্যটকদের বসার জন্য অ্যালুমিনিয়ামের পাইপের ৬টি বেঞ্চ ও ৩টি শেড তৈরি করা হয়েছিল। এখন আছে তিনটি বেঞ্চ। যেগুলো আছে, সেগুলোরও পাইপ নেই। ২০১২ সালে কিছু পাইপ চুরি হয়ে যায়। এসব বেঞ্চে পাইপের বদলে বাঁশ রাখা আছে। যাতে পর্যটকরা বসতে পারেন না।

২০১৬ সালে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ঘেঁষা একটি টিলা থেকে পাথরখণ্ড ও গাছপালা ধসে পড়ে। এসময় বসার স্থান ও শেড নষ্ট হয়েছে। দীর্ঘদিন গেলেও এগুলো আর মেরামত করা হয়নি। এরপরও একাধিকবার টিলা ধসের ঘটনা ঘটেছে। জলপ্রপাত এলাকায় পায়ে চলার পথে টাইলসের উপর শ্যাওলা জমেছে। কোনো কোনো জায়গায় টাইলস ভেঙে গেছে। বর্ষায় এই টাইসলগুলো মারাত্মক পিচ্ছিল হয়ে যায়। পর্যটকরা পা পিছলে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হন। ২০১৭ সালে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক পর্যটনকেন্দ্রের ভেতরের রাস্তা হঠাৎ করে দেবে যায়। পরে ওই জায়গাটুকু সংস্কার করে চলচালের উপযোগী করা হয়েছে। এখানে পর্যটকদের ব্যবহারের জন্য একটি মাত্র শৌচাগার আছে। এটিও খুব একটা ব্যবহার উপযোগী নয়। ভালো শৌচাগার না থাকায় অনেক পর্যটকই বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হন। ২০১৩ সালে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিভাগ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে শিশু ও পর্যটকদের বাড়তি বিনোদনের জন্য দুটি কটেজ (বিনোদনের স্থান) করা হয়েছিল। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর ভাস্কর্য তৈরি করা হয়। বাড়তি আকর্ষণ তৈরিতে স্থানীয়ভাবে এই কাজটুকুই হয়েছে।

বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস বলেন, ‘পর্যটকদের চাহিদার দিকটি বিবেচনায় রেখে বসার বেঞ্চ, শৌচাগার, গাইড ওয়াল তৈরির প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সড়কের টাইলস বিভিন্ন স্থানে ভেঙেছে। এগুলোও সংস্কার করা হবে। চলতি বছরেই এই প্রজেক্টের কাজ শুরু হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইকোপার্কে জায়গা কম। যে কারণে শোভাবর্ধনকারী বেশি কিছু করার সুযোগ নেই। তারপরও পথের পাশে মহুয়া, বকুল, জারুল, সোনালুসহ বিভিন্ন জাতের শোভা বাড়ানোর গাছের চারা লাগানো হয়েছে। এগুলোতে ফুলও আসতে শুরু করেছে।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.