Sylhet Today 24 PRINT

ভবিষ্যৎ অস্তিত্বের জন্য পানি ব্যবস্থাপনায় যুবকদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে প্রস্তাবনা

শেষ হলো অষ্টম আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক: |  ২৫ জানুয়ারী, ২০২৩

মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর নদীর প্রভাব ব্যাপক। কিন্তু বর্তমানে নদীগুলো দখল ও দূষিত হচ্ছে। নদীর আয়তনও সংকুচিত হচ্ছে দিন দিন। জোর করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা প্রকৃতি ও মানবজাতির জন্য হুমকিস্বরূপ। নদীগুলো প্রাকৃতিকভাবে প্রবাহিত হতে দিতে হবে। ভবিষ্যৎ অস্তিত্বের জন্য পানি ব্যবস্থাপনায় যুবকদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

সিলেট শহরতলির খাদিমনগর এলাকার একটি রিসোর্টে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী অষ্টম আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলনের সমাপনী দিনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে নয়টায় সমাপনী দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর আগে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের আয়োজনে গত সোমবার ‘জীবন-জীবিকার জন্য পানি এবং নদী: যুবদের ভূমিকা’ শীর্ষক সম্মেলন শুরু হয়।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদী ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শনের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। সম্মেলনের তিন দিনে বিভিন্ন সেশনে ‘জলাশয় ইতিহাস, রূপবিদ্যা এবং পরিবর্তন; নদী একটি জীবন্ত সত্তা এবং নদীর ওপর নৃতাত্ত্বিক হস্তক্ষেপের প্রভাব, পানি ও নদী অধিকারে যুব সম্পৃক্ততা; আন্তর্দেশীয় নদী ও পানি রাজনীতি; উদ্ভাবন, পানি, বাস্তুতন্ত্র ও টেকসই জীবিকা’ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সম্মেলনে শিক্ষাবিদ, গবেষক, সরকারের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন। আজ বেলা দুইটায় সমাপনী পর্বে ভার্চ্যুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। এ পর্বে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্‌ কবির ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বক্তব্য দেন।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সরকার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সহায়তায় প্রাকৃতিক সম্পদের হিসাব করার উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে নদীও একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পানি ও এর ব্যবস্থাপনার মধ্যে যোগসূত্রকে সর্বত্র জোর দিতে হবে। যেহেতু আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পথে আছি এবং দেশের আরও উন্নয়ন ঘটছে, তাই পানি শাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠবে।’

সমাপনী পর্বে ফারাহ্ কবির বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ মূল্যায়ন করার জন্য সামাজিক সূচকের বৈশ্বিক মানদণ্ডে লিঙ্গ সংবেদনশীলতা বিবেচনায় রাখতে হবে। অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, নদীর অধিকার নিশ্চিত করতে দেশের ছাত্রসংগঠনগুলো রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি নদী ও পরিবেশের সমস্যাগুলোর পক্ষে কাজ করার জন্য সংগঠিত করা যেতে পারে।

তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট রিসার্চের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত, ভারতের পরিবেশ ও জলবায়ু সাংবাদিক জয়ন্ত বসু, বিজ্ঞানী মফিজুর রহমান, নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্টের নির্বাহী পরিচালক এস এম মনজুরুল হান্নান খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদীভাঙন ও লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ বাড়ছে। পানির বাস্তুতন্ত্র–সম্পর্কিত সমস্যা মোকাবিলায় প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান খুঁজতে হবে। আঞ্চলিক শান্তি ও সংহতির জন্য সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। জীবন ও জীবিকার স্বার্থে নদী সুরক্ষিত রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ [email protected] ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.