নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৫
সাত বছর পর নৌকা-ধানের শীষের লড়াইয়ে সিলেট বিভাগে বিপুল জয় হয়েছে নৌকা প্রতীকের। পৌরসভা নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৬টি পৌরসভার মধ্যে ১০টি পৌরসভাতেই জয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করা আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা। আওয়ামীলীগের বিদ্রোহীরা জিতেছেন ৩টিতে আর বিএনপির জয় ৩ পৌরসভায়। ফলে নিরুঙ্কশ বিজয় হয়েছে আওয়ামীলীগের। ধরাশায়ী হয়েছে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি।
সিলেট জেলা:
সিলেট জেলার ৩ পৌরসভার মধ্যে ২টি জয়ী হয়েছেন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা, একটিতে জিতেছেন নৌকা প্রতীকে আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা।
গোলাপগঞ্জে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল জব্বার মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে ৪৫৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুর রহমান লিপন নারকেল গাছ নিয়ে পেয়েছেন ৩২০৮ ভোট।
এছাড়া আওয়ামীলীগের প্রার্থী জাকারিয়া পাপলু পেয়েছেন ২৪০৫ ও বিএনপির গোলাম কিবরিয়া শাহিন পেয়ছেন ২৪০৫ ভোট।
জকিগঞ্জে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খলিল উদ্দিন বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ১৫২৫। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মোবাইল ফোন প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিফজুল রহমান পেয়েছন ১৩৭১ ভোট।
কানাইঘাটে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নিজাম আল মিজান নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ৩৩৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগ প্রার্থী মো: লুত্ফুর রহমান- নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৮৯৭ ভোট।
সুনামগঞ্জ জেলা:
সুনামগঞ্জ জেলার ৪ পৌরসভার নির্বাচনে ৪টিতেই নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন
সুনামগঞ্জ সদর পৌরসভায় বেসরকারীভাবে বিজয়ী হয়েছেন আওয়মী লীগের প্রার্থী আইয়ুব বখত জগলুল।
এ পৌরসভার মোট ২৩ টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ভোটের হিসেব অনুযায়ী আইয়ুব বখত পেয়েছেন ১৪ হাজার ৮৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদিন পেয়েছেন ১০ হাজার ৪৮৬ ভোট।
সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক পৌরসভায় ফের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আবুল কালাম চৌধুরী। বুধবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত এই প্রার্থীকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।
১৮টি কেন্দ্রের ঘোষিত ফলাফলে নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১০ হাজার ৭শ’ ৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল ওয়াহিদ মজনু মোবাইল ফোন মার্কায় ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ৭শ’ ৬২ টি।
সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোশরাফ মিয়া বিজয়ী হয়েছেন। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ভোটের হিসেব মতে এ তথ্য জানা গেছে।
এ পৌরসভায় মোশরাফ মিয়া পেয়েছেন ৭ হাজার ৪৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির মঊন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক পেয়েছেন ৬৫৪২ ভোট।
৯১৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন মোশরাফ।
জগন্নাথপুর পৌরসভায় আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী আব্দুল মনাফ বেসরকারীভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৯ হাজার ৩২৪ ভোট।
মনাফের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী রাজু আহমেদ পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৯১ ভোট। এ পৌরসভার স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ নুরুল করিম পেয়েছেন ১৭১১ ভোট।
মৌলভীবাজার জেলা:
মৌলভীবাজার জেলার ৪ পৌরসভার ৩টিতেই নৌকা প্রতীকে আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা জিতেছেন আর একটিতে জিতেছেন আওয়ামীলীগেরই বিদ্রোহী প্রার্থী।
মৌলভীবাজার সদরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ফজলুর রহমান ১০ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী ওলিউর রহমান পেয়েছেন ৫ হাজার ৬২৫ ভোট।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভায়ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জুয়েল আহমদ বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৩৯৯০।
জুয়েলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া হাবিব বিপ্লব পেয়েছেন ২৮০৪। এ পৌরসভায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবু ইব্রাহীম জমসেদ পেয়েছেন ২১৬৯ ভোট।
কুলাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ৪২৩০ ভোট পেয়ে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শফি আহমদ ইউনুস বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে কামাল উদ্দিন আহমদ জুয়েল পেয়েছেন ৪১৭৪।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে ৪০৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী
তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খিজির আহমেদ মোবাইল প্রতীকে পেয়েছেন ২৫৭৭ ভোট।
হবিগঞ্জ জেলা:
হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া গউছ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় গউছ বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছেন।
গউছের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ১০ হাজার ৭৯৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান পেয়েছেন ৯২৬৪ ভোট। এ পৌরসভায় আওয়ামীলীগের প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম পেয়েছেন ৭৪০৩ ভোট।
চুনারুঘাট পৌরসভায় মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র নাজিম উদ্দিন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৪৭৩৯। এ পৌরসভায় আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সাইফুল আলম রুবেল পেয়েছেন ৪৫৯২ ভোট।
নবীগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপি’র প্রার্থী ছাবির আহমেদ চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৫৬২১। এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ৩৭৭৩ ভোট।
হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী হিরেন্দ্র লাল সাহা ৫ হাজার ৭ শ ৩৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দি বিএনপির মনোনিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান মানিক ধানের শীষ প্রতিকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৯ শ ৪৮ ভোট।
শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছালেক মিয়া ৩ হাজার ৯শ ৭৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এফ এম অলি পান ৩ হাজার ৮শ ৯০ ভোট ।