Sylhet Today 24 PRINT

হাওরে বাঁধ: এখনো বাকি অর্ধেক কাজ

তাহিরপুর প্রতিনিধি |  ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

নীতিমালা অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সুনামগঞ্জের হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেল পর্যন্ত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ৭০ ভাগ পর্যন্ত কাজ হয়েছে বলে দাবি করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের তাহিরপুর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী উপজেলা হাওররক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব শওকত উজ্জামান।

তিনি আরও জানান, এপর্যন্ত ৭০টির বেশি বাঁধের মাটির কাজ শেষ হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ আগামী সাপ্তাহেই শেষ হবে।

তবে হাওরপাড়ের বাসিন্দা, কৃষক ও সচেতন মহল বলেছেন, সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫ ভাগ কাজ হয়েছে। অনেক বাঁধে এখনও মাটির কাজই শেষ হয়নি। তাই বোরো ফসলের উপর নিভর্রশীল লাখো কৃষকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) নীতিমালা-২০১৭ অনুসারে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রাক্কলন শেষ করে ১৫ ডিসেম্বর ফসলরক্ষায় বাঁধের কাজ শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ করার কথা। কিন্তু নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চলতি বছরে ১১ জানুয়ারি প্রথম ধাপে ৩০টি ও ২১ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ৮৩টি পিআইসি ঘোষণা করে পাউবো। এর ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করার সরকারি নির্দেশ থাকলেও তা আর হচ্ছে না।

এদিকে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম হাওর রক্ষা বাঁধ পরির্দশনে এসে বলেন, আগামী ৭ মার্চের মধ্যে সকল বাঁধের কাজ শেষ করা হবে।

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের উপজেলা শাখার নেতা তোজাম্মিল হক নাসরুম জানান, এবারও গুরুত্বপূর্ণ বাঁধের কাজে ঢিলেমি লক্ষ্য করা গেছে। পাউবো বরাবরই নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করে না। সঠিক সময়ে হাওর প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় দেরিতে তড়িগড়ি করে বাঁধের কাজ করতে গিয়ে প্রতিটি বাঁধেই ঝুকিঁপূর্ণ ও দুর্বল হয়। ফলে বৃষ্টির পানি ও সামান্য পাহাড়ি পানির ঢলের চাপে বাঁধ ভেঙে পানি হাওরে প্রবেশ করে। এবারও লাখ লাখ কৃষক উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর আতংকের মধ্যে সময় পার করছে। এবার হাওরের কোন ক্ষতি হলে এর দায়ভার পাউবোসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাসান উদ দৌলা বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১৭ হাজার ৩৯৩ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ৮০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি চাল উৎপাদন হবে। এর মূল্য ২শ ৪৪কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি।

শনির হাওরের কৃষক কাদির মিয়া জানান, সময়মত বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু না হওয়া, সেই সাথে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রতি বছরই ৪০ ভাগ কাজ হয় না। সরকার ফসল রক্ষা বাঁধের বিষয়টি গুরুত্ব দিলেও বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির দায়িত্বশীলরা গুরুত্ব দেন না। প্রতিবছর বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও কাজের বেলায় দেরি ও নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করায় সরকারের অর্থের অপচয়ের সাথে সাথে হাওর ধ্বংস হচ্ছে। ফলে সামান্য পাহাড়ি ঢলের পানিতে বাঁধগুলো ভেঙে হাওরগুলো ডুবে যায়। এবারও বোরো ফসল হারানোর আতংকে আছি, কারণ এখনও বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা জানান, আমি সরেজমিন বিভিন্ন হাওরের বাঁধের কাজ পরির্দশনে গিয়ে পিআইসিদেরকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দিচ্ছি। এবং বাঁধের কাজ প্রায় শেষের পথে। আগামী সাপ্তাহে সব বাঁধের কাজ শেষ হবে। যারা সরকারি নীতিমালা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলতি বছরে ফসল রক্ষা ডুবন্ত বেড়িবাঁধ, খাল (ক্লোজার) বন্ধে তাহিরপুর উপজেলায় এবার মোট ১১৩টি পিআইসি অনুমোদন করে ৮৪.৫০০শ কিলোমিটার বাঁধে ২০ কোটি ৯৬ লাখ ৩৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.