Sylhet Today 24 PRINT

নয় মাস ধরে পাথর আমদানি বন্ধ: বন্ধের পথে পাঁচশতাধিক পাথর ভাঙ্গার কল

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০১ জানুয়ারী, ২০১৬

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে নয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ভারত থেকে পাথর আমদানি। এতে বন্ধ হয়ে পড়ছে সিলেটের পাঁচ শতাধিক পাথর ভাঙ্গার কল (স্টোন ক্রাশার মিল)। ইতোমধ্যে পাথর সঙ্কটে বেশিরভাগ কলই বন্ধ হয়ে পড়েছে। বাকীগুলোও বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় সিলেটের ব্যবসায়ীরা শতকোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বেকার হয়ে পড়েছেন অর্ধ লক্ষাধিক শ্রমিক। সরকারও হারাচ্ছে বড় অংকের রাজস্ব। এছাড়া বন্ধ হয়ে পড়ছে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকান্ড। এ অবস্থায় দেশীয় কোয়ারীগুলো থেকে পাথর উত্তোলনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূর করার দাবি ব্যবসায়ীদের।

জানা যায়, বাংলাদেশের মোট পাথরের চাহিদার ৬০ শতাংশই ভারত থেকে আমদানি করা হয়। বাকী ৪০ শতাংশ উত্তোলন করা হয় দেশের পাথর কোয়ারীগুলো থেকে। এরমধ্যে সিলেটের ভোলাগঞ্জ ও জাফলং কোয়ারি থেকেই সবচেয়ে বেশি পাথর উত্তোলিত হয়ে থাকে। গত মার্চ মাসে ভারতীয় উচ্চ আদালত পরিবেশগত কারণে মেঘালয়ের পাহাড় থেকে পাথর উত্তোলনের উপর নিষেষধাজ্ঞা জারি করে। এরফলে এপ্রিল মাস থেকে বন্ধ হয়ে পড়ে পাথর আমদানি।

সম্প্রতি ভারতীয় আদালত উত্তোলিত পাথর রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও এখন পর্যন্ত আমদানি শুরু হয়নি।

জানা যায়, আমদানি বন্ধ থাকায় বেড়ে গেছে পাথরের দামও। সাত মাসে প্রতি ঘনফুট পাথর ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অধিক দাম দিয়েও পাথর পাওয়া যাচ্ছে না।

সিলেটের আমদানিকারকরা জানান, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও তামাবিল সীমান্ত দিয়ে সবচেয়ে বেশি পাথর আমদানি করা হয়। এই দুই শুল্ক স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ হাজার টন পাথর আমদানি করা হয়। তবে গত নয় মাস ধরে আমদানি বন্ধ রয়েছে। এরফলে বেকার হয়ে পড়েছেন আমদানি-রফতানির সাথে জড়িত শ্রমিকরা। আটকে আছে ব্যবসায়ীদের মোটা অংকের এলসির টাকা।

এদিকে, পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় বন্ধ হয়ে পড়েছে সিলেটের পাথর ভাঙ্গার কলগুলো। সিলেট স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, সিলেটে পাঁচ শতাধিক পাথর ভাঙ্গার কল রয়েছে। পাথর সঙ্কটের কারণে ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ শ’ কল বন্ধ হয়ে পড়েছে। বাকীগুলোও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এরফলে বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক। পাথর কল মালিকরা শতাধিক কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন।


এ ব্যাপারে সিলেট স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতির সভাপতি ও পাথর আমদানিকারক মাসুদ আহমদ চৌধুরী বলেন, পাথর সঙ্কটে সিলেটের পাঁচ শতাধিক স্টোন ক্রাশার মিল এখন বন্ধ হওয়ার পথে। আমদানী বন্ধ থকায় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ সাত মাস ধরে লোকসান গুণতে হচ্ছে। শ্রমিকরাও বেকার হয়ে পড়েছে। এছাড়া পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় অবকাঠামো গত উন্নয়নও সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার পথে।

মাসুদ আহমদ বলেন, দেশের পাথর কোয়ারি থেকেও পাথর উত্তোলনে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা রয়েছে। জাফলং- ভোলাগঞ্জসহ দেশীয় কোয়ারিগুলোতে পাথরের স্থর অনেক নিচে নেমে গেছে। ফলে এখন আর আগের মতো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন সম্ভব নয়। আবার পরিবেশগত কারণে পাথর উত্তোলনে সব ধরনের যন্ত্রের ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে উচ্চ আদালত। এ অবস্থায় দেশীয় কোয়ারিগুলো থেকেও খুব একটা পাথর উত্তোলন হচ্ছে না। ফলে সঙ্কট আরো ঘণিভূত হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.