সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৯ এপ্রিল, ২০২৩
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের সভাপতি এবং কথাকলি নাট্যদলের জ্যেষ্ঠ সদস্য আমিনুল ইসলাম লিটনের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য এবং যৌন কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিতের অভিযোগ উত্থাপন করেন একজন নারী সংস্কৃতিকর্মী। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরো অনেক নারী সংস্কৃতিকর্মী তাদের সাথে পূর্বে ঘটে যাওয়া যৌন নিপীড়নের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। সবকয়টি ঘটনার অভিযোগের তীর উত্থাপিত আমিনুল ইসলাম লিটনের দিকে।
উল্লেখ্য আমিনুল ইসলাম লিটন আবৃত্তি প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন শিশু একাডেমিতে। এছাড়া নিপীড়নের ঘটনার প্রমাণ হিসেবে দুটো অডিও ক্লিপ ইউটিউবে আপলোড করেন একজন মনোবিজ্ঞানী তরুণী যিনি আমিনুল ইসলাম লিটনের দ্বারা কৈশোরে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। উক্ত ঘটনায় নিপীড়ক হিসেবে লিটনের অবস্থান সবার সামনে উন্মোচিত হয়। কিন্তু আমরা অবাক হয়ে লক্ষ করছি যে এত বড় অভিযোগ উত্থাপনের পরও সংস্কৃতিজগতের কর্তাব্যক্তিদের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। এমনকি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিবৃতিতে ভিক্টিম ব্লেইমের পরিবেশ তৈরী করে ধর্ষকামী আমিনুল ইসলাম লিটনকে রক্ষা করার প্রবণতা লক্ষ্ করা যায়।
সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন সিলেটের সংগঠক কে এম আব্দুল্লাহ আল নিশাত এক বিবৃতিতে বলেন, নারী এবং শিশুদের জন্য অন্যান্য সব জায়গার মতো তথাকথিত প্রগতিশীল সংস্কৃতিশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও অনিরাপদ হয়ে উঠছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজন কর্তাব্যক্তির এহেন কর্মকান্ড পরবর্তীতে সংস্কৃতিচর্চার নারীর অংশগ্রহণকে আরো বেশি কঠিন করে তুলবে। আমরা অবিলম্বে সকল অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং তদন্ত চলাকালীন সকল সংগঠনের সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং কর্মকান্ড থেকে আমিনুল ইসলাম লিটনের অপসারণ দাবি করছি। উক্ত ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে পরবর্তীতে একটি সুষ্ঠু-সুন্দর-নিরাপদ সাংস্কৃতিক পরিবেশ আমাদের প্রাণের দাবি।
অবিলম্বে নিপীড়নকারী এবং তার রক্ষাকর্তাদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।