নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬ এপ্রিল, ২০২৩
সড়কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল বেশ কয়েকটি ৫০০ টাকার নোট। সেগুলো বাতাসে উড়ছিল। ৫০০ টাকার নোটগুলো কুড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন কয়েকজন রিকশাচালক। বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় ওই সড়কে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য (কনস্টেবল) মোহাম্মদ আলীর। পরে তিনি এগিয়ে গিয়ে টাকাগুলো রিকশাচালকদের কাছে থেকে নিয়ে নেন। দেখতে পান, সড়কে পড়ে রয়েছে আরও কিছু ৫০০ টাকার নোট। সেগুলো সংগ্রহ করেন মোহাম্মদ আলী। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সিলেট নগরের নাইওরপুল মোড়ে ঘটেছে এ ঘটনা।
মোহাম্মদ আলী বলেন, বুধবার সকাল আটটা থেকে তিনি নাইওরপুল মোড়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে সড়কে ৫০০ টাকার নোট উড়তে দেখে তিনি নিজে প্রথমে ভরকে গিয়েছিলেন। নোটগুলো সংগ্রহ করে গুনে দেখেন ৫০০ টাকার মোট ৩৫টি নোট। সর্বমোট ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। বিষয়টি নাইওরপুল মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট সঞ্জয় কুমার বিশ্বাসকে অবহিত করে তাঁর কাছে টাকাগুলো দিতে চান মোহাম্মদ আলী। সঞ্জয় কুমার টাকাগুলো মোহাম্মদ আলীর কাছেই রাখার জন্য বলেন। বিষয়টি অবহিত করেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে।
এরপর মোহাম্মদ আলী সিলেট কোতোয়ালি থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তাকে ফোন দিয়ে জানান, কেউ টাকা হারানোর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে এলে যেন তার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। বেলা আড়াইটা পর্যন্ত টাকাগুলোর কেউ খোঁজ করতে আসছিলেন না। এ সময় তিনি নাইওরপুল এলাকার দোকানগুলোতে নিজের মুঠোফোন নম্বর দিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য একটি রেস্তোরাঁয় যান। বেলা পৌনে তিনটার দিকে মোহাম্মদ আলীর মুঠোফোনে কল করে এক ব্যক্তি জানান, ওই টাকার প্রকৃত মালিক তিনি।
মোহাম্মদ আলী বলেন, টাকাগুলো পাওয়ার পর বারবার মাথায় এসেছে কারও প্রয়োজনীয় টাকা হতে পারে। অথবা চিকিৎসার জন্য এসে টাকাগুলো হারিয়ে কষ্ট পাচ্ছেন কেউ।
টাকাগুলোর মালিক সিলেট নগরের শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা স্বপন পাল। তিনি বালু ও পাথর ব্যবসায়ী। দুপুর ১২টার দিকে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে নগরের জিন্দাবাজার এলাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখায় ব্যবসায়িক লেনদেনের কিছু টাকা জমা দেওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন। তবে পথে টাকাগুলো পড়ে যায়।
স্বপন পাল বলেন, ব্যাংকে যাওয়ার পর তার পকেটে টাকাগুলো তিনি পাননি। এ সময় মাইক ভাড়া করে মাইকিংয়ের জন্য বের হন। মাইকিং করতে করতে জিন্দাবাজার এলাকা থেকে নাইওরপুল এলাকায় পৌঁছালে সেখানে কর্তব্যরত একজন পুলিশ সদস্য তাঁদের থামিয়ে বিস্তারিত জানতে চান। টাকা ফিরে পাওয়ার আশা অনেকটা ক্ষীণ হয়ে গিয়েছিল স্বপন পালের। এরপরও মনের শান্তির জন্য মাইকিং করাচ্ছিলেন। পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে এমন ব্যবহার পেয়ে খুবই মুগ্ধ হয়েছেন বলে তিনি জানান।
সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট সঞ্জয় কুমার বিশ্বাস বলেন, টাকাগুলো পাওয়ার পরপরই তিনি প্রকৃত মালিকের খোঁজে মোটারসাইকেলে করে নাইওরপুল থেকে শিবগঞ্জ এলাকা পর্যন্ত গিয়েছিলেন। তবে টাকা হারিয়েছে, এমন কাউকে পাননি। টাকার মালিকের মাইকিং করার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। পরে মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাবের কার্যালয়ে বেলা তিনটার দিকে স্বপন পালের কাছে টাকাগুলো হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ, ট্রাফিক সার্জেন্ট আবু বক্কর শাওন ও কনস্টেবল মোহাম্মদ আলী।
কনস্টেবল মোহাম্মদ আলী বলেন, কুড়িয়ে পাওয়া টাকার আসল মালিককে পেয়ে তার হাতে ফেরত দিতে পেরে খুবই আনন্দিত।