Sylhet Today 24 PRINT

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জন্মদিন

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৫ মে, ২০২৩

অনুসারীদের কাছে তিনি ছিলেন ‘ভাটির সিংহপুরুষ’। আর হাওরের সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত ছিলেন ‘ঘরের মানুষ’ হিসেবে। কারও কাছে তিনি ছিলেন ‘সেন দা’, আবার কারও কাছে ছিলেন ‘দুখু সেন’ নামে পরিচিত। সেই সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জন্মদিন আজ।

১৯৪৫ সালের ৫ মে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আনোয়ারাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির এক কিংবদন্তি। স্বাধিকার, স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণ। বাংলাদেশের উন্মেষ ও বিকাশে গণমানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সবসময় ছিলেন সামনের কাতারে। ভাটিবাংলার অবিসংবাদিত এই নেতা ছিলেন গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাজনীতির এক নির্ভীক কণ্ঠ।

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য সুরঞ্জিতের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বামপন্থী রাজনীতির মধ্য দিয়ে। স্বাধীন দেশের প্রথম সংসদসহ তিনি সাত বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তুখোড় পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত জাতীয় সংসদের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন যান।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও পরে ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে কিছু দিন আইন পেশায়ও যুক্ত ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ভিপি প্রার্থী হয়েছিলেন। ১৯৬৭ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) পিকিং ও মস্কো ধারায় দুই টুকরা হলে মওলানা ভাসানীকে ত্যাগ করে সুরঞ্জিত অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বাধীন অংশে যোগ দেন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বাইরে ন্যাপ থেকে জয়ী হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। পরে ন্যাপের ভাঙনের পর গণতন্ত্রী পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৬ ও ১৯৯১- এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে জয়ী হন।

পঞ্চম সংসদের সদস্য থাকাকালেই আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে প্রথমে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং পরে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দিরাই-শাল্লা আসনে সামান্য ভোটে হেরে গেলেও পরে হবিগঞ্জের একটি আসনে উপ-নির্বাচন করে বিজয়ী হন। পরে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান।

২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর তিনি রেল মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এক বছরের মাথায় ব্যক্তিগত সহকারীর দুর্নীতির দায় মাথায় নিয়ে মন্ত্রীর পদ থেকে তাকে পদত্যাগ করতে হয়। অবশ্য সরকারের ওই মেয়াদে শেষ পর্যন্ত তিনি দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ৭১ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। পরেরদিন ঢাকা, সিলেট, সুনামগঞ্জে তাঁর মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জন্মস্থান দিরাইয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.