নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬ মে, ২০২৩
সিলেট সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে বলে দলটি অভিযোগ করেছে। দলটি বলছে, এরই মধ্যে সিলেট নগরের বিএনপির নেতাকর্মীর নামে নতুন করে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে। গত চার দিনে মহানগরের অন্তত ১৭ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানা গেছে, আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ করবে না। এমন অবস্থায় বিএনপির মনোনয়নে টানা দুবার সিলেটে মেয়র নির্বাচিত হওয়া আরিফুল হক চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন কি হবেন না, তা স্পষ্ট করতে ২০ মে নগরে জনসভা ডেকেছেন। গত সোমবার আরিফুলের জনসভা ডাকার পর থেকেই মূলত চাপে পড়েছে বিএনপি। এর পর থেকে বিএনপি, অঙ্গ ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। তারা গ্রেপ্তার আতঙ্কে এখন ঘরছাড়া। কেউ কেউ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বন্ধু বা আত্মীয়ের বাড়িতে থাকছেন।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। এরপরও সিটি নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশ ধরপাকড় শুরু করেছে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধরে নিয়ে নতুন করে মামলায় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কারণ, আরিফুল ঘোষণা দিয়েছেন, ২০ মে সভা করে তিনি সিটি নির্বাচন নিয়ে নিজের মতামত জানাবেন। মূলত তার জনসভায় যেন মানুষ না হয়, সে জন্য পুলিশ আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
তবে বিএনপির অভিযোগের কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে দাবি করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) সুদীপ দাস বলেন, পুরোনো মামলার পরোয়ানাসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগেই পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করছে। এটা পুলিশের রুটিনওয়ার্ক (নিয়মিত কাজ)। আর সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশ সদস্যদের মারপিট করার অভিযোগে গত মঙ্গলবার আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ নিরীহ কাউকে হয়রানি করছে না। বিএনপির অভিযোগ সত্য নয়।
এদিকে সিলেট বিএনপির আরিফুল হকপন্থী এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আরিফুল মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পেতে পারেন বলে নগরে চাউর রয়েছে। এ অবস্থায় নির্বাচনী মাঠ ফাঁকা করার জন্য আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার এ প্রক্রিয়ারই অংশ। শেষ পর্যন্ত আরিফুল প্রার্থী হলে যেন বিএনপির তৃণমূলের কর্মীরা তার পক্ষে কোনো কাজে অংশ নিতে না পারে, সে জন্যই ভয়ভীতি দেখানো চলছে।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর চাপ বাড়াতেই নতুন করে ‘গায়েবি’ মামলা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বেছে বেছে তার ঘনিষ্ঠ কর্মী-সমর্থকদেরও হয়রানি করা হচ্ছে। এ চাপ ক্রমশ বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন তিনি।
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের একটি মিছিল থেকে ছাত্রদল ও যুবদলের আট নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। তাদেরসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশ সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করার অভিযোগ এনে পুলিশ ওই রাতেই কোতোয়ালি থানায় মামলা করে। পরে এ মামলায় আটক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা অভিযোগ করেছেন, গত চার দিনে ছাত্রদল ও যুবদলের আটজন ছাড়াও বিএনপির আরও অন্তত ৯ নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। পরে বিভিন্ন পুরোনো মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার থেকে প্রতি রাতেই বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতা-কর্মীর বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পুলিশ তল্লাশির নামে হয়রানি করছে। তাই ভয়ে অনেকে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকছেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপির চলমান আন্দোলনকে প্রতিহত করতেই পুলিশ হঠাৎ ধরপাকড় শুরু করেছে এবং নতুন করে মামলা দিচ্ছে। বিএনপি সিটি নির্বাচনে যাবে না, এরপরও মেয়র পদে নিজেদের প্রার্থীর জয় শতভাগ সুনিশ্চিত করতেই সরকারের নির্দেশে পুলিশ বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি চালাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২৩ মে সিলেট সিটি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ১ জুন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর ২১ জুন ইভিএমে সিলেট সিটি করপোরেশনে ভোট হবে। আওয়ামী লীগ এ সিটিতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে।