Sylhet Today 24 PRINT

এখনো পানিশূন্য হাওর, বাজারে দেশি মাছের আকাল

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ |  ০২ জুন, ২০২৩

দেশি মাছের স্থান দখল করে আছে বিদেশি পাঙাশ, তেলাপিয়া। ছবিটি পাগলা বাজার থেকে তোলা।

জ্যৈষ্ঠের মাঝের দশের আজ শেষ দিন। হাওরে থাকার কথা অথৈ পানি, নদীগুলো হওয়ার কথা পানিতে টইটম্বুর। গ্রামের বাজারগুলোতে থাকার কথা দেশি মাছের ছড়াছড়ি। বছরের এমন দিনে কোথাও কোথাও বন্যার খবর শোনার কথা থাকলেও প্রকৃতির সীমাহীন খেয়ালিপনা আর অনাদরে শান্তিগঞ্জ উপজেলাসহ সুনামগঞ্জের প্রায় প্রতিটি হাওরেই এখন চৈত্রের চিরচেনা রূপ।

গ্রীষ্মের এমন দিনে বৃষ্টির টানা ভারী বর্ষণে নদীগুলো তার হৃত যৌবন ফিরে পাওয়ার কথা থাকলেও কাঠফাটা রোদে নদীগুলোতে এখনো পানি জমে আছে তলানিতে।

হাওর-নদীতে পানি না থাকায় একদিকে যেমন শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাজারগুলোতে আসছে না দেশি জাতের মাছ। অন্যদিকে কর্মহীনতায় ক্রমশ দুশ্চিন্তা বাড়ছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মৎস্যজীবীদের মাঝে। দেশি মাছের আকাল দেখা দিয়েছে উপজেলাব্যাপী।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক ভোক্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পাগলা বাজার, পাথারিয়া বাজার, নোয়াখালী বাজার, শান্তিগঞ্জ বাজার, আক্তাপাড়া মিনাবাজার, ভমবমি বাজার, চিকারকান্দি বাজারসহ প্রায় সব বাজারেই এখন দেশি মাছ মাছ পাওয়া যায় না। দেশি মাছের জায়গা দখল করে আছি খামারে উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। মৎস্য খামারে উৎপাদিত মাছের মধ্যে শিং, মাগুর, তেলাপিয়া, পাবদা, পাঙাশ, কই, কার্প ইত্যাদি মাছই এখন ভোক্তাদের ভরসা। দেশি মাছ না পাওয়ায় একরকম বাধ্য হয়েই এসব মাছে নিজেদের মাছের চাহিদা মেটাচ্ছেন তারা। চড়া মূল্যও দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের। মাঝে মাঝে সামান্য দেশি মাছ পাওয়া গেলেও তার দাম শুনলে পিলে চমকে উঠতে হয় ভোক্তা সাধারণকে।

শুক্রবার বিকাল আড়াইটায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজারের ব্রিজের পাশে মাছ বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীতে জাল টেনে তিন চাঙা (মাছ রাখার বাঁশ-বেতের টুকরি বিশেষ) নিয়ে এসেছেন এক জেলে। এক চাঙায় কিছু মলা-ঢেলা মাছ, আরেক চাঙায় পুঁটি ও সামান্য ছোট টেংরা মাছ আর আরেক চাঙায় ৪/৫টি ছোট ও মাঝারি মানের কালি বাউস ও একটি ছোট সাইজের বোয়াল। সব মিলিয়ে আড়াই থেকে ৩/৪ কেজি ওজনের মাছ হবে। এই মাছগুলো খুচরা এক বিক্রেতা কিনেছেন ২ হাজার ৬শ ৫০ টাকা। একজন বিক্রেতা এতো দামে এ মাছ কিনে থাকলে মাছগুলো তিনি কত বিক্রি করবেন? এতেই বুঝা যায় দেশি মাছ সচরাচর বাজারে না আসায় কী পরিমাণ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে মাছের।

জেলে ও সাধারণ মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা খুবই চিন্তিত। হাওরে পানি আসবে তো দূরে থাক এখনো পর্যন্ত নদীগুলোও পানিতে ভরে উঠেনি। নদী ভরে পাড় ডিঙিয়ে তারপর পানি হাওরে প্রবেশ করে। তখন হাওরে জাল ফেলা যায়। মাছ উঠলে আমাদেরও লাভ, ক্রেতাদেরও লাভ। মাছ পাওয়া গেলে কম দামে বিক্রি করা যায়। মাছ কম হলেও বাজারে মাছের দাম বেশি থাকে। ক্রেতাদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়।

স্কুল শিক্ষক আকিকুল ইসলাম আকিক বলেন, বাজারে এখন দেশি মাছ পাওয়াই যায় না। যদিও কিছু পাওয়া যায় তার দাম অনেক বেশি। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে এতো দামে দেশি মাছ খাওয়া সম্ভব না। মাছ এখন সাধ্যের বাইরে।

অপর ক্রেতা ইছহাক আলী বলেন, মাছ কিনতে এখন মন সায় দেয় না। কারণ দেশি মাছ পাই না। বিদেশি মাছ বা ফার্মের মাছে দেশি স্বাদ পাওয়া যায় না।

মাছ বিক্রেতা নূর মিয়া, সোহেল মিয়া ও মখজ্জুল মিয়া বলেন, আমরা দেশি মাছ বেচতে পারলে খুব আনন্দ পাই। হাওরে পানি থাকলে দেশি মাছ বেশি পাওয়া যেতো। এখনো পানি আসেনি। তাই মাছ কম দাম বেশি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.