জৈন্তাপুর প্রতিনিধি | ০২ জুন, ২০২৩
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৫নং ফতেপুর ইউনিয়নের উপর শ্যামপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অন্যের জমি দখলে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ফতেপুর ইউনিয়নের উপর শ্যামপুর মৌজার ১৫৩ নং খতিয়ানের ৬০৩ নং দাগের ০.১৫ শতাংশ জমি বিক্রয় করে দখলত্যাগী হলেও গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন পুনরায় সেই ভূমি জবর দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এতে পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান ভূমির প্রকৃত মালিক মৃত শওকত আলীর ছেলে আব্দুল কাদির ।
ভুক্তভোগী উপর শ্যামপুর গ্রামের মৃত শওকত আলীর ছেলে আব্দুল কাদির (৪০) তিনি এই ব্যাপারে বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় ও ৬নং আমলি আদালত সিলেটের জৈন্তাপুর সিআর মামলা নং ১৮১/২০২১ মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই ২০২১ বিকেল অনুমান ৪টার দিকে আনোয়ার হোসেনসহ তার লোকজন আব্দুল কাদিরের বাড়িতে মাটি কাটতে গেলে পরিবারের লোকজন বাধা প্রদান করলে আনোয়ার হোসেন ধারালো অস্ত্র দ্বারা আব্দুল কাদিরের স্ত্রীকে প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে কাটা রক্তাক্ত জখম করেন। অন্যান্য আসামিগণ দেশিয় অস্ত্র দ্বারা আব্দুল কাদিরকে এলোপাথাড়ি ভাবে মারপিট ও রক্তাক্ত জখম করে এবং মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে বাদীর মালিকানাধীন ভূমি হইতে অবৈধ ভাবে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৩০/৩৫টি গাছ কেটে আসামীগণ নিয়ে যায়। যার বাজার মূল্য আনুমানিক দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, উপর শ্যামপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৭) আব্দুর রহিমের ছেলে মুসা মিয়া (৪৫) দলইপাড়া গ্রামের মৃত রজাক মিয়ার ছেলে ছিফত উল্লাহ (৫০) উপর শ্যামপুর গ্রামের মৃত শওকত আলীর ছেলে আব্দুল করিম (৪৮) সৈদ আলীর ছেলে ফখরুল উদ্দিন (২৮) নজরুল মিয়া (৩০) মুছা মিয়ার ছেলে কয়েছ মিয়া (২৮) কামরুল হোসেন (৩৪) আব্দুল জলিলের ছেলে আলা উদ্দিন (৩০) মুসা মিয়ার ছেলে এখলাছ উদ্দিন (২৫) হালিম মিয়া (২০)।
ভূমির মালিক আব্দুল কাদির বলেন, আমি গরিব দিনমজুর নিরীহ মানুষ আমি ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মৃত মোবারক আলীর ছেলে মো. ইয়াকুব আলীর কাছে থেকে ১৫৩ নং খতিয়ানের ৬০৩ নং দাগ হইতে ০.১৪ শতাংশ ভূমি ক্রয় করি। পরবর্তীতে আবার ২১ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে একই দাগের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ০.১ শতাংশ ভূমি খরিদ করে ভোগ দখলে থেকে ৮৩১ নং খতিয়ানে পৃথক নামজারি করি।
বিগত ৮ জুলাই ২০২১ তারিখ বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে আনোয়ার তার বাহিনী নিয়ে ভূমিতে টিলা কাটতে আসে। এতে আমি ও আমার পরিবারের লোকজন বাধা দিলে তখন তারা উত্তেজিত হয়ে আমাদের উপর আক্রমণ চালায়। পরবর্তীতে আমি আমার নিরাপত্তার জন্য আইনের আশ্রয় নিয়েছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন বলেন, যেহেতু সে আমাদের উপর মামলা করেছে, তাই আমি তাকে জমির দখল দিতে পারব না।