জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া,তাহিরপুর | ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সঙ্গে ৭টি ইউনিয়ন অভ্যন্তরীণ,পাশ্ববর্তী উপজেলা,জেলা ও অন্যান্য জেলার সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই,ফলে মালামাল পরিবহনে বর্ষায় নৌ-পথ ই ভরসা। হেমন্ত প্রয়োজনের তাগিদে লোকজন পাঁয়ে হেঁটে কিংবা বাই সাইকেল ও মটর সাইকেলে চলাচল করলেও মালামাল পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম নদী পথ। সে জন্য হাওর বেষ্টিত উপজেলার সকল হাট-বাজার নদী তীরবর্তী স্থানে গড়ে উঠেছে। কিন্তু বর্তমানে নদী গুলো নাব্যতা হারানো,নদীর বুকে বালির ও পলি মাটির স্তর পরে শুকিয়ে চড়ে পরিনত যাওয়ায় এর বিরুপ প্রভাব পড়েছে উপজেলা বাসীর জীবন যাত্রা,জীবিকা ও ব্যবসা বাণিজ্য পড়েছে হুমকির মুখে। পরিবহনের দুরবস্থার কারনে তাহিরপুরে দ্রব্য মূল্যের দাম পাশ্ববর্তী উপজেলা গুলোর চেয়ে অনেক বেশী।
বৌলাই,রক্তি,যাদুকাটা ও পাটলাই উপজেলার প্রধান নদী। নদী গুলোর নাব্যতা হারানোর ফলে মরে গেছে এর শাখা নদী ও খাল গুলো। পাটলাই,রক্তি নদীর দিয়ে কয়লা,বালি ও পাথর পরিবহনের মাধ্যমে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব আদায় করে থাকে। বৌলাই নদী উপজেলা সদরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমে-দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নের সুলেমানপুর গিয়ে পাটলাই নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে পূর্ব দিকে জেলা সদর সুনামগঞ্জ,মহোনগঞ্জ,কমলাকান্দা,মধ্যনগর,ধর্মপাশা ও কিশোরগঞ্জ,ভৈরব সহ দেশের দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চল সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাথে যোগাযোগ করা হয়। এখানকার অন্যতম কয়লা আমদানী শুল্ক ষ্টেশন বড়ছড়া,চারাগাঁও,বাগলী দিয়ে ভারত থেকে আমদানী করে পাটলাই নদী দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে চাহিদা মিটায় আর এ থেকে সরকারের বিপুল পরিমান রাজ্যস্ব আদায় হয়। বর্তমানে আইনি জটিলতা কারনে বন্ধ রয়েছে কয়লা আমদানী কার্যক্রম। আর উপজেলার পূর্ব-দক্ষিন দিকে প্রবাহিত হয়ে বৌলাই নদী-রক্তি নদীর সাথে মিলিত হয়ে বালু,পাথর পরিবহনের মধ্য দিয়ে বিশ্বাম্ভরপুর,জামালগঞ্জ,নিয়ামতপুর,সুনামগঞ্জ জেলা সদর সহ দেশের অন্যান্য স্থানের সঙ্গে নৌ-পথে তাহিরপুর উপজেলার সাথে যোগাযোগ রক্ষা হয়।
সুনামগঞ্জ ও সিলেটের বালি,পাথর তাহিরপুরের যাদুকাটা নদী থেকেই সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জায়গার চাহিদা পূরন করা হয়। মেঘালয় থেকে নেমে আসা যাদুকাটা নদীর বালি ও পাথরের কারনে যাদুকাটা,রক্তি নদী সম্পদ শালী ও গুরুত্বপূর্ন। শীতের শুরুতেই বড় বড় নৌকার পরিবর্তিতে ছোট ছোট নৌকা দিয়ে বালি পাথর পরিবহন করতে হয়। যাদুকাটা,পাটলাই ও রক্তি নদীকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ ভাবে প্রায় ৬০ হাজারের বেশি নৌ ও পাথর শ্রমিক জড়িত রয়েছে।
এই নদী গুলোর নাব্যতা হারানোর কারনে বর্তমানে তাহিরপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন,পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও অন্যান্য জেলার সাথে অভ্যন্তরীন ও বাইরের যোগযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। নদীর নাব্যতা ও শুকিয়ে যাওয়ার কারনে হেমন্তে পাটলাই,যাদুকাটা ও রক্তিতে ৪-৭ কিলোমিটার পর্যন্ত নৌ-জটের সৃষ্টি হয়। নৌ-যান শ্রমিক ও কয়লা ব্যবসায়ীরা জানান-নদীর নাব্যতা সংকটের কারনে ৩০-৪০মিনিটের পথ পাড়ি দিতে হয় ১৪-১৫দিনে। নাব্যতা সংকটের কারনে নৌ-যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কয়লা,পাথর ও বালু ব্যবসায়ীদের পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। ফাজিলপুর ব্যবসায়ীরা জানায়- যাদুকাটা নদী থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার ঘনফুট বালি,নুড়ি,বেল্ডার ও ভাঙ্গা পাথর দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। কিন্তু নদী নাব্যতা সংকটের কারনে অক্টোবর মাস থেকেই ব্যবসা-বানিজ্যে ভাটা পরে।
বারকি শ্রমিক নেতা আব্দুল হান্নান জানান-যাদুকাট ও রক্তি নদীতে হাজার হাজার বারকি শ্রমিক কাজ করে। নদীটির নাব্যতা সংকটের কারনে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তাহিরপুর বাজার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান- বৌলাই নদীটি তাহিরপুর-চিসকা ও তাহিরপুর-সুলেমানপুর পর্যন্ত শুকিয়ে যাওয়ার কারনে সুনামগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নৌকার মাধ্যমে আসা মালামাল সুলেমানপুর বাজার থেকে ট্রলি দিয়ে তাহিরপুর বাজারে আনতে হয়। এতে করে খরচের পরিমান বেড়ে যায় আর দ্রব্য মূল্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাশুল দিতে হয় ক্রেতাদের। নাব্যতা হারানো নদী রক্তি,পাটলাই ও বৌলাই সহ শাখা নদী গুলোর শুকিয়ে যাওয়া অংশ জরুরী ভিত্তিতে খনন করার দাবী জানান উপজেলার ব্যবসায়ীগন। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান- বৌলাই নদী শুকিয়ে যাওয়ায় ও অন্যান্য নদীর নাব্যতা সংকটের কারনে নৌ-যান চলাচলে উপযোগী নদী গুলো দিয়ে যোগাযোগে ব্যাহত হচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান-আমি জেলায় মাসিক সভায় নাব্যতা হারানো নদী গুলোর বিষয়ে আলোচনা করেছি। আশা করছি খুব দ্রুত নদী খননের কাজ শুরু হবে।