বড়লেখা প্রতিনিধি | ২৫ জুন, ২০২৩
ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুরে চুরির হিড়িক পড়েছে। গত ১০ দিনের মধ্যে ৮টি পারিবারিক পূজা অর্চনার মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে।
শুধু মন্দির নয়, দিনদুপুরে বাজারের মসজিদ থেকে ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চোর ধরতে পুলিশের তৎপরতা কম। তাই একটার পর একটা চুরির ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৩ জুন) দিবাগত রাত থেকে শনিবার (২৪ জুন) ভোরাতের মধ্যে উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাবনিয়া গ্রামের বিভাষ দাস (৪৫), সজল কান্তি দাস (৫৩), বিপ্লব দাস (৪৯), অশোক দাস (৪০) ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাজপুর (কুমারপাড়া) গ্রামের দিলীপ রুদ্র পালের (৫৬) পারিবারিক পূজা অর্চনার মন্দিরে চোর রাতের কোনও একসময় তালা ভেঙে পিতলের মূর্তিসহ পূজা অর্চনার আসবাবপত্র নিয়ে যায়। ৫টি পরিবারের প্রায় ১ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় তারা বড়লেখা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অপরদিকে, গত বুধবার (১৪ জুন) দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) ভোরাতের মধ্যে আতুয়া এলাকায় কালাচন্দ চন্দ, দিপঙ্কর চন্দ ও ইন্দ্রজিত চন্দের পারিবারিক পূজা অর্চনার মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ২০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় কালাচন্দ চন্দ বড়লেখা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু প্রায় ১০ দিনেও কোনো চোর ধরা পড়েনি।
অন্যদিকে, গত সোমবার (১৯ জুন) শাহবাজপুর বাজারের মসজিদে বিকেল ৪টার দিকে ঢুকে চোর ব্যাটারি চুরি করে নিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী আতুয়া এলাকার বাসিন্দা কালাচন্দ চন্দ বলেন, ‘চুরির ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা নেই বললেই চলে। তৎপরতা থাকলে আমাদের বাড়ির চুরির পরে অন্যবাড়িতেও একই ঘটনা ঘটতো না।’ একইরকম কথা বলেছেন, স্থানীয় রাজপুর গ্রামের বাসিন্দা শোভন রুদ্র পাল।
উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিক উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে শাহবাজপুরে হঠাৎ চুরি বেড়ে গেছে। কিন্তু কোনো চোর ধরা পড়ছে না। এগুলো নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশকে আরও কঠোর হওয়া দরকার।’
তবে শাহবাজপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক রবিউল হক বলছেন, ‘চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং চুরির সাথে জড়িতদের ধরতে তারা কাজ করছেন।’