শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি | ২৭ জুন, ২০২৩
প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে গাছ লাগানোর জন্য গর্ত খুড়ে রেখেছে নার্সারীর শ্রমিকরা। গর্তের পাশে একটি করে গাছ, এক প্যাকেট মাটি ও বাশের খুঁটি। খুঁটিতে লাগানো হয়েছে গাছের নাম্বার। সেই নাম্বার ধরে ধরে হাতে থাকা টুকেনের নাম্বার মিলিয়ে দাঁড়াচ্ছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ প্রায় এক হাজার জন। একসাথে সবাই মিলে গর্তে লাগানো শুরু করলেন গাছ। গাছের নিচে মাটি দিয়ে খুঁটির সাথে গাছের চারা বেঁধে পানি ঢাললেন তারা। এভাবেই মুহুর্তেই একসাথে লাগানো হলো প্রায় এক হাজার গাছের চারা।
গত শনিবার (২৪ জুন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পরিবেশ রক্ষা ও পর্যটন নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে রাস্তার দুই পাশের চার কিলোমিটার রাস্তায় এভাবেই বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শনিবার সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলার ভানুগাছ সড়কের বিটিআরআই প্রবেশ মুখের সামনে থেকে লাউয়াছড়ার প্রবেশ মুখ পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার জায়গা জুড়ে কৃষ্ণচুড়া, রাধাচূড়া, সোনালু গাছের চারাগুলো বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা একেকজন নিজ হাতে লাগিয়েছেন। এর আগে অই রাস্তার পাশের টি রিসোর্ট ও মিউজিয়াম প্রাঙ্গনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার ৪ আসনের সংসদ সদস্য, অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি,সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মো আব্দুস শহীদ এমপি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন এর সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়, শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন সর্দার, শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অর্ধেন্দু কুমার দেব, বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড. এ কে এম রফিকুল হক, ভাড়াউড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ শিবলী, জেরিন চা বাগানের উপ মহাব্যবস্থাপক সেলিম রেজা, কালীঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রাণেশ গোয়ালা, ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী প্রমুখ।
গাছ লাগাতে আসা শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থী সৈয়দা রামিসা নুরা বলেন, আজকের এই দিনটিতে আমরা সবাই একটা একটা করে গাছ লাগিয়েছি। গাছ লাগানো মনের খোরাক মেটানোর একটা কাজ। এই গাছগুলো যখন বড় হবে তখন আমাদের অনেক ভালো লাগবে। আমরা বলতে পারবো এই সুন্দর ফুল ধরা গাছটি আমরা লাগিয়েছি। তাছাড়া আমরা সবাই পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগিয়েছি এটা গর্বের একটা কাজ। এই কাজে এসে আমাদের ভালো লাগছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন বলেন, পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্য্য বর্ধন ও পরিবেশ রক্ষায় আমরা ৪ কিলোমিটার রাস্তায় গাছের চারা লাগিয়েছি। আমরা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, সোনালু ফুলের গাছ রাস্তার দুই পাশে লাগিয়েছি। এই গাছের চারা গুলো বড় হয়ে যখন ফুল ফুটবে তখন এই রাস্তার অনেক সুন্দর হয়ে উঠবে। আজকে এই রাস্তার দুই পাশের প্রায় এক হাজার গাছের চারা লাগিয়েছে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শ্রীমঙ্গলের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। আমরা প্রতিটি গাছে নাম্বার দিয়েছি এবং সকলের কাছে একটি করে টুকেন দিয়েছি। এখানে টুকেন অনুযায়ী যে যে গাছটি লাগিয়েছেন সেই গাছের দায়িত্ব তার। আমরা সবাইকে বলেছি যেন নিজের হাতে লাগানো গাছটি নিজেই এসে পরিচর্যা করে যান। এখানে এক হাজার গাছের পরিচর্যা ও রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব এক হাজার জনের। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন সব গাছের দেখভাল করবে। কোন গাছ মারা গেলে বা সেখানে নতুন গাছ লাগানো হবে। এখানে শিক্ষার্থীরা গাছ লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষা ও সুন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি তাদের মধ্যে গাছ লাগানোর আগ্রহ তৈরী হবে। পাশাপাশি এই শিক্ষার্থীরা আগামী ১০ বছর পর তাদের লাগানো গাছটি দেখিয়ে বলতে পারবে এই গাছটি আমি লাগিয়েছি। আমরা এই প্রজন্মের কাছে এই বার্তা পৌছে দিতে চাই সন্ত্রাস, নাশকতা ও মাদকের চেয়ে গাছ লাগানোর মধ্যে যে আনন্দ সেটা অন্য কিছুতে নেই।