শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি | ০১ জুলাই, ২০২৩
সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানাধীন ডুলখর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে গাজীনগর গ্রামের যুব সমাজ। তারা চান, গ্রামের দুই গোত্রের মাঝে চলমান সমস্যার স্থায়ী সমাধান হোক। এ দাবিতে শনিবার (১ জুলাই) সকাল ১১টায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে শান্তিগঞ্জ থানাধীন মদনপুর-দিরাই রাস্তার গাজীনগর সেতু সংলগ্ন পয়েন্টে দুই শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- উত্তর গাজীনগর পঞ্চায়েত কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো. আলী হোসেন, মুরব্বি হাফিজুর রহমান, সমাজকর্মী শাহীন আলম, শিক্ষানবিশ আইনজীবী আজমল হোসেন, উত্তর গাজীনগর পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য আলেক উদ্দিন, পরিবহণ শ্রমিক নেতা নিজাম উদ্দিন, সাব্বির আহমদ, সমাজকর্মী জাকির হোসেন।
বক্তব্যে বক্তারা বলেন- দীর্ঘদিন ধরে দিরাই থানার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের ডুলখর গ্রামের (৭নং ওয়ার্ড) ইউপি সদস্য রফিক মিয়া ও একই গ্রামের হোসেন মিয়া, মোশাররফ মিয়া ও হারিছ মিয়া গংরা মিলে প্রভাব বিস্তার এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে দাঙ্গাহাঙ্গামা করে আসছেন। আমরা (গাজীনগর, পাথারিয়া, গণিগঞ্জবাসী) বার বার তাদের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করে আসছি। মেম্বার রফিক মিয়ার পক্ষ এলাকার মুরব্বিদের মধ্যস্থতায় রাজি থাকলেও অপরপক্ষ তা মানেন না। ঈদের আগে এলাকাবাসী মিলে হোসেন মিয়াদের অনুরোধ করে বলেছি, মেম্বারের গুষ্ঠির মানুষেরা বাড়িতে আসুক, ঈদ করুক। তাদেরকে যেন কোনো উত্ত্যক্ত করা না হয়। আলাপ-আলোচনা করে মেম্বারের অংশের মানুষকে এলাকাবাসী মিলে তাদের গ্রামে যেতে বলি। হোসেন মিয়ারাও তা মেনে নিয়েছেন। আমাদের অনুরোধ থাকা সত্ত্বেও গতকাল (শুক্রবার) দলবেঁধে মেম্বারের ভাই নুরুল ইসলামের (৪০) বাড়িতে গিয়ে তার উপর হামলা চালায় হোসেন মিয়ারা। এ সময় তার ঘরের দেয়াল হ্যামার দিয়ে ভেঙে ফেলে অভিযুক্তরা। এতে নেতৃত্বও দিয়েছেন হোসেন মিয়া। আমাদের মুরব্বিরা এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বার বার আলোচনা করছেন। মুরব্বিদের সাথে আলোচনা করে গ্রামে যাওয়ার পরও তারা তাদের প্রতিপক্ষের একজনকে মেরেছে। পা ভেঙে দিয়েছে। গুরুতরভাবে আহত করেছে। আহত ব্যক্তি এখন ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এসব কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। তাছাড়া আমাদের মুরব্বিদের অসম্মান করাকেও আমরা মেনে নিতে পারিনা। অথচ আমাদের বুকের উপর দিয়ে তাদের চলাচলের রাস্তা। এসব সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ না করলে আমাদের এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবো।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- ফারুক মিয়া, আবদুল আলীম, জাকির হোসেন, বাবুল মিয়া, শাহীনুর মিয়া, দেলোয়ার হোসেন, জালাল উদ্দিন, ইকবাল হোসেন, জিল্লুর রহমান, ইব্রাহিম আলী, তাজ উদ্দিন, শাহ আলম, জাকিরিন মিয়া, তারেক আহমদ, মাহবুব আলম, রিয়াজ উদ্দিন ও জুয়েল মিয়া প্রমুখ।
এদিকে, একই দাবিতে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া বাজারের গরুর হাটায় প্রতিবাদ সভা ও মতবিনিময় করেছেন এলাকাবাসী। এলাকার মুরব্বিদের মাধ্যমে ঈদ উদযাপন করতে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পর সন্ত্রাসী কায়দায় বাড়িতে হামলা করে নগদ টাকা, ঘরবাড়ি লুট ও মেম্বারের ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে গুরুতরভাবে আহত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।