Sylhet Today 24 PRINT

জগন্নাথপুরে জনভোগান্তি লাঘবে মাঠে ‘ফেয়ার ফেইস’, খুশি স্থানীয়রা

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর |  ০৭ জুলাই, ২০২৩

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের দেবে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ডাকবাংলো সেতুতে দুর্ঘটনা এড়াতে ও যানজট নিরসনে সামাজিক সংগঠন ‘ফেয়ার ফেইস’ এর সদস্যরা বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাঠে কাজ করেছে। তাদের এই কার্যক্রমে খুশি স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ডাকবাংলোর সেতু শহিদ মিনার এলাকায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ যানজট নিরসনে ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে যানবাহনের চালকদের নির্ধারিত স্থানে যান রাখতে সহযোগিতা করে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে যান না চালানোর জন্য সচেতনতামূলক প্রচার করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুহেল আহমদ বলেন, অব্যাহত বৃষ্টির কারণে উপজেলা সদরের নলজুর নদীর ওপর নির্মিত বেইলি সেতু পানিতে ডুবে যাওয়ায় নদীর ঝুঁকিপূর্ণ ডাক বাংলা সেতুতে যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ বাড়ে। ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসন সেতু দিয়ে যান চলাচল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও সেতু এলাকায় যানজট লেগেই আছে। ট্রাফিক পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে। যানজট নিরসন ও নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে জগন্নাথপুরের একটি সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা যেভাবে সড়কে নিরলসভাবে কাজ করেছে এতে আমরা খুশি।

সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম মিনহাজ জানান, নলজুরের দুই সেতুই যান-চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে যান বাহন চালানোর চেষ্টা করছেন। আমরা ওই সেতুতে দুর্ঘটনা এড়াতে ও জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে দিনভর কাজ করেছি। আমাদের এ কাজ অব্যাহত থাকবে।

সংগঠনের মহাসচিব এম শামিম আহমদ বলেন, ২০১৯ সালে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ফেয়ার ফেইস জগন্নাথপুর নামে আমাদের সংগঠনের জন্ম হয়। সংগঠনে বর্তমানে প্রায় তিন শতাধিক সদস্য রয়েছেন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠা থেকে সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছে। বৃক্ষরোপণ, শিক্ষামূলক কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ, সচেতনতামূলক কাজসহ যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে সময়ে সংগঠনের সদস্যরা কাজ আসছেন। আমাদের এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

জগন্নাথপুরের ট্রাফিক সার্জেন্ট (টিএসআই) টিপু সুলতান জানান, জনসাধারণের দুর্ভোগ এড়াতে আমাদের সঙ্গে সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমে মাঠে কাজ করেছে। এটি সত্যিই প্রশংসিত উদ্যোগ।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৭ সালে নলজুর নদীর ওপর ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নের গুদামের সামনে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতুটি টেকসই থাকলেও একসঙ্গে বড় দুটি যান চলাচল করতে না পারায় যানজটের সৃষ্টি হয়। যে কারণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির মাধ্যমে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পুরাতন এ সেতু ভেঙে নতুন দৃষ্টিনন্দন আর্চ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান গত ২৬ মার্চ সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করলে নতুন সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বিকল্প হিসেবে একটি বেইলি সেতু হেলিপ্যাড এলাকায় নির্মাণ করা হয়। এলাকার লোকজনের অভিযোগ, সেতুটি নিচু করে তৈরি করায় আষাঢ়ের ঢলে গত সোমবার একটি ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

অপর দিকে ১৯৮৮ সালে নলজুর নদীর ওপর ডাকবাংলো সেতুটি এলাকার লোকজন চাঁদা তুলে নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে সেতুর কাজ শেষ হয়। সেই থেকে এ সেতু দিয়ে ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করে। ২০২১ সালে নলজুর নদী খনন কালে সেতুর পিলারের কাছ থেকে খনন যন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার সময় সেতুর দুটি অংশ দেবে যায়। এক বছর যান চলাচল বন্ধ থাকার পর গত ২৩ মার্চ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জগন্নাথপুর পৌরসভার সেতুর দেবে যাওয়া অংশে ষ্টীলের পাটাতন বসিয়ে সেতুটি চালু করে।

এদিকে দুই সেতু দিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হওয়াতে পায়ে হেঁটে নদী পারাপার করতে হচ্ছে জনসাধারণকে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.