সিলেটটুডে ডেস্ক | ১০ জুলাই, ২০২৩
সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য সিলেটে মতবিনিময় সভা করেছে মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিন। সোমবার গ্র্যান্ড সিলেট হোটেলে আর্টিকেল নাইনটিন'র উদ্যোগে জার্নালিস্টস উইথ এনহ্যান্সড সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি (জেইএসএস)প্রকল্পের অধীনে এ অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বাড়াতে সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (সিএসও), কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন (সিবিও’স), মানবাধিকার রক্ষাকারী (এইচআরডিএস), সিলেটের সাংবাদিক সংগঠনসমূহ আর্টিকেল ১৯ গঠিত একটি জাতীয় জোটের অংশ হওয়ার ব্যাপারে একমত হন।
সভায় সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার অভাব, নারীর প্রতি বৈষম্য, মাতৃত্বকালীন ছুটির বাস্তবায়ন না হওয়া, মিডিয়া হাউস থেকে নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব, বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের জন্য বাধা ও চ্যালেঞ্জ ইত্যাদি বিষয়গুলো উঠে আসে।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসিনা বেগম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম নোবেলসহ ২১টি প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ সিএসও’স, তৃণমূল সংগঠন, এইচআরডি, সাংবাদিক সমিতির প্রতিনিধিসহ ও আইন বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নেন।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আর্টিকেল ১৯'র বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার রুমকী ফারহানা।
কর্মক্ষেত্রের অভ্যন্তরে এবং বাইরের হুমকি মোকাবেলায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তার উপর জোর দিয়ে তিনি সিএসও, সিবিও, এইচআরডি-কে সাংবাদিকদের সুরক্ষা ব্যবস্থায় অবদান রাখার জন্য আমন্ত্রণ জানান এবং এর মধ্যে বৈচিত্র, সহনশীলতা এবং বহুত্ববাদ নিশ্চিত করার দিকে ধাবিত হওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
আর্টিকেল ১৯'র সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার খাদিজা আক্তার অন্তরা জার্নালিস্টস উইথ এনহ্যান্সড সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি (জেইএসএস) প্রকল্পের সাংবাদিকদের প্রকল্পের কার্যক্রম এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রকল্প ব্রিফিংয়ের রূপরেখা তুলে ধরেন। সেশনে অংশগ্রহণকারীরা সিলেটে কর্মক্ষেত্রের ভেতরে ও বাইরে কাজের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসিনা বেগম চৌধুরী সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় এডভোকেসি উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি বিলকিস আরা সুমি মিডিয়া হাউসে এবং বাইরে নারী সাংবাদিকদের বিভিন্ন বাধার কথা তুলে ধরেন। তিনি ভিডিও এবং ফটো সাংবাদিক এবং রিপোর্টার হিসাবে তার পেশাগত কর্মজীবনে সামাজিক নিষেধাজ্ঞা, লিঙ্গ বৈষম্য, শারীরিক আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার তার জীবনের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেছেন।
আলোচনায় বিনা নোটিশে ছাঁটাই, মজুরি বোর্ড কাঠামো বাস্তবায়নের অভাব, বীমা নীতি না থাকা, মামলা ও হামলা, কাঠামোগত মানসম্পন্ন বেতনের অভাব, ওভারটাইম না থাকা, সরঞ্জামের নিরাপত্তার অভাব এবং লজিস্টিক সহায়তার অনুপস্থিতি সহ অনেক উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। সাংবাদিক ও সিএসওরা বাংলাদেশের হাইকোর্টের রিট অনুযায়ী যৌন হয়রানি বিরোধী বিধি প্রতিষ্ঠা, বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের জন্য তাদের সুপারিশ ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।