রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর | ১৩ জুলাই, ২০২৩
২৪ ঘণ্টার ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎবিহীন থাকছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর। লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এমন অবস্থায় দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলাবাসী। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধদের হাঁসফাঁস অবস্থা।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলায় গত ৪/৫ দিন ধরে হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে বিদ্যুতের লোডশেডিং শুরু হয়েছে। বুধবার রাত ১১ টার পর থেকে আজ বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৩ টা পর্যন্ত ১৬ ঘণ্টার মধ্যে উপজেলা সদরের পৌরশহরে বিদ্যুৎ ৩ -৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
উপজেলার মুরাদাবাদ গ্রামের শাহিনুর রহমান বলেন, এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিললে, তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। একদিকে বিদ্যুতের যন্ত্রণা অন্যদিকে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি আমরা।
উপজেলার সৈয়দপুর এলাকার বাসিন্দা সুমা নামের এক গৃহিণী বলেন, বিদ্যুতের মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে ভুগতে হচ্ছে। ঘরের ফ্রিজে থাকা জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। পানির মটর চলছে না। বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর গরমে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয় কারণে ব্যবসা বানিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুতের দীর্ঘ লোডশেডিংয় ২০ হাজার টাকার আইসক্রিম নষ্ট হয়ে গেছে। এদিকে বিদ্যুতের ভেলকিবাজির কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভের ঝড় বইছে।
ইলাছ এম মিয়া নামের এক নাগরিক তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন, মাত্র ক’দিন আগে তীব্র এবং অসহনীয় গরমেও জগন্নাথপুরে বিদ্যুতের এমন ভেলকিবাজি দেখা যায়নি। অথচ, তখন পায়রার মতো বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র কয়লার অভাবে বন্ধ ছিল। এখন ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আসছে। পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রও চালু আছে। তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ায় সারাদেশে লোডশেডিং কমেছে। কিন্তু শুধু জগন্নাথপুরে “টাটা” কেনে (কেন ?) পড়লো, বুঝলাম না।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) আজিজুল ইসলাম জানান, চাহিদা অনুযায়ি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না যে কারণে লোডশেডিং বেড়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলায় আমাদের চাহিদা রয়েছে ৯ মেগাওয়াট। বর্তমানে আমরা পাচ্ছি সাড়ে তিন মেগাওয়াট।
তিনি আরও জানান, বিবিয়ানায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এবং ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ সরবরাহে ক্রুটি দেখা দেয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। তবে আগামী সপ্তাহে এ সমস্যা সমাধান হতে পারে। এ উপজেলায় ২২ হাজার একশ’ গ্রাহক রয়েছে বলে এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।