Sylhet Today 24 PRINT

ভরা মৌসুমেও আশানুরূপ পর্যটক নেই মাধবকুণ্ডে

বড়লেখা প্রতিনিধি |  ১৫ জুলাই, ২০২৩

পর্যটকদের অন্যতম আকষর্ণের একটি স্থান হচ্ছে মৌলভীবাজারের বড়লেখার পাথারিয়া পাহাড়ি অঞ্চলের মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। ছুটিছাটা বলে কিছু নেই। ছুটির দিনে হয়তো ভিড়টা বেশি। কিন্তু প্রতিদিনই কমবেশি পর্যটকের পা পড়ে মাধবকুণ্ড ইকোপার্কে, জলপ্রপাতের কাছে। বহু বছর ধরে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের চেহারা এ রকমই। এই পর্যটনকেন্দ্রের ভরা মৌসুম বর্ষাকালে। এই ভরা মৌসুমে এবারের ঈদের ছুটি ও পরবর্তীতে নেই আশানুরূপ পর্যটক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার পর মাধবকুণ্ডে বেশ কিছু পর্যটকের আগমন হয়। তবে তাদের অধিকাংশই বড়লেখা ও মৌলভীবাজার জেলার আশপাশের এলাকার লোকজন। বৃষ্টির দাপটে এবার মাধবকুণ্ডে পর্যটকদের তেমন উপস্থিতি লক্ষ করা যায়নি।

ইজারাদার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভরা মৌসুমে অন্য বছর মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে অনেক পর্যটক আসতেন। তবে এবার সেই তুলনায় পর্যটক খুব একটা আসছেন না। এই অবস্থা চলতে থাকলে তাদের অনেক বেশি আর্থিক ক্ষতি গুনতে হবে।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যা কম। মাধবকুণ্ড ইকোপার্কে, জলপ্রপাতের কাছে পর্যটকদের তেমন ভিড় নেই।

মাধবকুণ্ডে পর্যটকদের উপস্থিতি খুব একটা নেই বলে জানিয়েছেন, সেখানকার বাসিন্দা সাইদুল হোসেন। তিনি বলেন, প্রায়ই বৃষ্টি হচ্ছে। এ জন্য পর্যটকদের তেমন একটা উপস্থিতি নেই।

মাধবকুণ্ডে ঘুরতে যাওয়া স্থানীয় পর্যটক (বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা) মিকন পাল অনুপম বলেন, এখন বর্ষাকাল। মাধবকুণ্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখন অনেক ভালো। কিন্তু এখানকার ব্যবস্থাপনা খুবই দুর্বল। প্রায় এক যুগে এখানে কোনো উন্নয়ন হয়নি। এটা নিয়ে পর্যটকেরা প্রায়ই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমরা চাই, এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করে পরিকল্পিত উন্নয়ন করা হোক, যেন মানুষ মাধবকুণ্ডে এসে প্রশান্তি নিয়ে ফিরে যেতে পারে।

শুক্রবার মাধবকুণ্ড বেড়াতে আসা ঢাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, স্বজনদের নিয়ে বেড়াতে এসেছি। ঈদের আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে আসার কথা ছিল। বর্ষার ভরা মৌসুমে এসেছি। মূলত এই সময় মাধবকুণ্ডের সৌন্দর্য বেশি বৃদ্ধি পায়। জল বেশি পড়ে। অন্যরকম ভালো লাগে। তবে এই পর্যটনকেন্দ্রের আরও উন্নয়ন দরকার বলে মনে করি।

মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের কাউন্টারে থাকা ইজারাদার কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপক সাজু আহমদ শুক্রবার বিকেলে বলেন, করোনাকাল ও গত বছরের বন্যায় আমরা আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এবার আশা ছিল সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যাবে। কিন্তু তা আর হচ্ছে না। ঈদ ও পরবর্তীতে প্রায় ১৫দিন অতিবাহিত হল। আশানুরূপ কোনো পর্যটক নেই। গত পনেরো দিনে পর্যটক এসেছেন ১০ হাজারেরও কম। যেখানে এই ভরা মৌসুমে ১৫ দিনে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার পর্যটক থাকার কথা ছিল। তবে পর্যটকদের সমাগম বাড়বে বলে আশা করছেন সাজু আহমদ।

বন বিভাগের বড়লেখার রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস বলেন, পর্যটকদের চাহিদার দিকটি বিবেচনায় রেখে পুরোনো বসার বেঞ্চগুলো নিজস্ব উদ্যোগে আমরা স্থানীয়ভাবে করে দিয়েছি। এছাড়া শৌচাগার, গাইড ওয়াল তৈরিসহ বেশি কিছু প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছে। সড়কের টাইলস বিভিন্ন স্থানে ভেঙেছে। এগুলোও সংস্কার করা হবে। এই অর্থ বছরে এসব প্রকল্পের কাজ করা হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.