নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ জুলাই, ২০২৩
বড়লেখা: বীর নিবাসের দেয়ালের ভেতর ও বাহিরের দিকে ফাটল দেখা দিয়েছে। এই ফাটল দিয়ে বৃষ্টি হলেই দেয়াল চুইয়ে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে।
এখনো হস্তান্তরই হয়নি। তার আগেই নানা ত্রুটি ধরা পড়েছে প্রয়াত এক বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য নির্মিত বীর নিবাসে। বৃষ্টি হলেই ওই বীর নিবাসের দেয়ালের ফাটল চুইয়ে ঘরের ভেতরে পানি ঢুকছে। সম্প্রতি বিষয়টি নজরে এসেছে।
বীর নিবাসটি বড়লেখা উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের পূর্বশঙ্করপুর গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা বলরাম বিশ্বাসের নামে তৈরি করা হয়েছে।
বড়লেখা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বীর নিবাসটির কাজ করেছে বড়লেখা উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘জুনেদ এন্টারপ্রাইজ’। এই বীর নিবাস নির্মাণকাজে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।
শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন নির্মাণ করা এই বীর নিবাসটি রঙ করা হয়েছে কয়েক মাস আগে। এর দক্ষিণ পাশের কক্ষের ভেতর ও বাহির দিকের দেয়াল ভেজা। ভবনের দেয়ালে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ার দাগ রয়েছে। দেয়ালের ভেতর ও বাহিরের দিকে ফাটলের চিহ্ন আছে। এই ফাটল দিয়ে বৃষ্টি হলেই দেয়াল চুইয়ে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ওই ভবনের ব্রিক ওয়ালের প্লাস্টারে ক্র্যাক সৃষ্টি হয়েছে। প্লাস্টারে বালি ও সিমেন্টের রেশিও সঠিক রেখে কাজ করা হয়নি বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া ব্রিক ওয়াল নিচের দিকে ধেবে গেলে এমনটি হয়। এতে দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। যার ফলে অল্প বৃষ্টিতেই ব্রিক ওয়ালের প্লাস্টারের ভেতর দিয়ে ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পড়ে। এগুলো সাধারণত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ‘গাফিলতি’র কারণেই হয়ে থাকে।
কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘরের কাজ দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা, গুণগত মান বজায় না রেখে কাজ না করার কারণে এই ধরণের সমস্যা দেখা দেয়।
প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা বলরাম বিশ্বাসের ছেলে সুব্রত বিশ্বাস বলেন, ‘‘অল্প বৃষ্টি হলেই দেয়াল চুইয়ে ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে। বেশি বৃষ্টি হলেই ঘরের দেয়াল বেয়ে ঘরের ফ্লোরে পানি ছড়িয়ে পড়ে।’’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জুনেদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী জুনেদ আহমদ বলেন, ‘‘এই ঘরটির একটা সমস্যা বেইজ ছাড়া কাজ করতে হয়। অনেক জায়গায় নতুন ভরাট করা মাটিতে ঘর তৈরি করতে হচ্ছে। এ জন্য মাটি নিচ দিকে একটু টান দিলে এরকমটা হয়ে যায়। আমরা শতভাগ সঠিক কাজ করছি। জানি না আসলে এই ঘরে কি হয়েছে। দেখে ব্যবস্থা নেব।’’
এ ব্যাপারে আলাপকালে বড়লেখা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. উবায়েদ উল্লাহ খান বলেন, ‘‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত ঘরে কোনো অনিয়ম হলে ছাড় দেওয়া হবে না। ঠিকাদার ঘর এখনো হস্তান্তর করেননি। ত্রুটি থাকলে আমরা ঘর গ্রহণ করব না। সরেজমিনে দেখি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’