Sylhet Today 24 PRINT

ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ ফেঞ্চুগঞ্জবাসী

রুমেল আহসান, ফেঞ্চুগঞ্জ |  ২১ জুলাই, ২০২৩

প্রতীকী ছবি

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুতের লোডশেডিং করা হচ্ছে। অসহ্য গরম আর লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। এরই মধ্যে দিন-রাতে প্রায় অর্ধেক সময় ধরে থাকছে না বিদ্যুৎ।

গত মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ৮ থেকে ১০ বার লোডশেডিং করা হয়েছে। লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে ভুগছেন বয়স্ক রোগীরা। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ঘরের ইলেকট্রনিক্স পণ্যও নষ্ট হচ্ছে। অনেকের ফ্রিজ, লাইট, বাল্ব ও ফ্যান বিকল হয়ে যাচ্ছে।

গ্রাহকরা বলছেন, পল্লী বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের হাজার হাজার গ্রাহক।

জানা গেছে, সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ফেঞ্চুগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতায় উপজেলাজুড়ে পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। উপজেলা মাইজগাঁও ও পালবাড়ি এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের দুইটি সাব-স্টেশন। গ্রাহকদের মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য দুইটি সাব-স্টেশনে ১০টি ফিডারে বিভক্ত করা হয়েছে। আর এসব ফিডারের মাধ্যমে সকল গ্রাহকদের মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সপ্তাহ থেকে উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েকদিন মাঝরাতে লোডশেডিং করা হলেও গত তিনদিন ধরে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ সময় থাকছে না বিদ্যুৎ। এদিকে প্রচণ্ড তাপদাহ, ভ্যাপসা গরম আবার সেই সাথে পল্লী বিদ্যুতের ব্যাপক লোডশেডিং। ফলে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

উপজেলার পিঠাইটিকর গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও ফরহাদ আহমদ বলেন, একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে যেন আসার কোন সময় থাকে না। এক-দেড় ঘণ্টা পর এলেও কিছু সময় পর আবার চলে যায়। তারা আরও বলেন, গত কয়েকদিন থেকে প্রায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং করা হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ না থাকায় এবং অসহ্য গরমে মানুষ রাতে শান্তিমত ঘুমাতেও পারছে না।

ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা নরেন্দ্র মোদক বলেন, অসহ্য গরমের মাঝে বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে আমরা অতিষ্ঠ। ফেঞ্চুগঞ্জে কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থাকলেও আমরা নিজ এলাকায় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ।

পশ্চিম বাজার এলাকার বাসিন্দা আল আমিন খান ফাহিম বলেন, বাসায় বয়স্ক মা-বাবা আছে। বাচ্চারা আছে। ওদের বেশি কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মায়ের ডায়াবেটিস, হাইপ্রেসার। বাবার তিনদিন আগে অপারেশন হয়েছে। এ পরিস্থিতির সাথে অভ্যস্ত না অনেক বছর। সেজন্য সমস্যা বেশি হচ্ছে।

বাধ্য হয়ে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দিয়ে চার্জার ফ্যান কিনেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “এমনিতেই সবকিছুর দাম বেশি। এর মধ্যে আরেকটা খরচ করতে হল। বয়স্ক মা-বাবার জন্য ৩ হাজার টাকা দিয়ে চার্জার ফ্যান কিনতে হয়েছে।"

উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকার আরও বেশ কয়েকজন গ্রাহক চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুধু বুধবার না, গত কয়েক দিন থেকেই ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছে। এতে করে দীর্ঘ সময় আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। ফলে আমরা পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি।

এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুতের ফেঞ্চুগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম সনৎ কুমার ঘোষ বলেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় কোন কোন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত লোডশেডিংয়ের সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.