Sylhet Today 24 PRINT

ঘোড়াডুম্বুরে ছাগলকাণ্ড: এবার বৈঠকের স্থান নিয়ে মতানৈক্য

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি |  ২২ জুলাই, ২০২৩

প্রতীকী ছবি

ছাগলকে কাদামাটি দিয়ে লেপ দেওয়ার ঘটনায় মারামারি। গ্রাম্য বিচার ব্যবস্থায় এ ঘটনার নিষ্পত্তির জন্য শালিস ব্যক্তিত্বরা বসলে, শালিস অমান্য করে পুনরায় মারামারি। তারপর আবারও উভয়পক্ষকে মানানো হয় শালিস। সময় নির্ধারণ করা হয় শনিবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টা, স্থান ঘোড়াডুম্বুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

শনিবারের আগেই স্থান নিয়ে আপত্তি তুলেন একপক্ষ। শালিস ব্যক্তিরা বেকায়দায় পড়ে বাদ দিতে হয় এ ঘটনার বিচার। একরকম হাল ছেড়ে দিয়ে দু’পক্ষের কাছ থেকে নেওয়া জামানতের টাকা ফিরিয়ে দেন শালিসি ব্যক্তিরা। এ ঘটনায় শালিস না হওয়া এবং জামানত ফিরত দেওয়ায় আলোচনার আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে ঘোড়াডুম্বুর গ্রামে। অবশ্য পুলিশ প্রশাসন এ নিয়ে ব্যাপক তৎপরতা দেখাচ্ছেন। গত সপ্তাহের পুরোটা সময় ধরে ঘোড়াডুম্বুর গ্রামে প্রতিনিয়ত পুলিশ আসাযাওয়া করছে।

এ সংবাদ সংগ্রহের কাজে ঘোড়াডুম্বুর গ্রামে গিয়ে পুলিশের উপস্থিত দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের ছাত্তার মিয়া ও আমিনুর রহমানের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটার পর শালিস মানানো হয়। শালিসে বসে সাবেক মেম্বার আকিক মিয়ার বাড়ির সামনে। এ শালিসে ছাত্তার মিয়ার পক্ষের এক মহিলার অশালীন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত হয়ে উঠেন প্রতিপক্ষ আমিনুর রহমান পক্ষের কয়েকজন যুবক। তারা ছাত্তার মিয়ার বাড়িতে হামলা করে ইটপাটকেল ছুঁড়ে। এতে দুই মহিলাসহ ৩ জন আহত হন। শালিসি ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এমন মারামারি হওয়া উদ্বেগ প্রকাশ করেন শালিসে থাকা বিশিষ্টজনেরা।

পরে, তাদের কাছে ‘সারেন্ডার’ করে দু’পক্ষের জামানত বাবদ ৫০ হাজার করে ১ লক্ষ টাকা শালিস ব্যক্তিদের কাছে জমা রাখা হয়৷ দু’পক্ষই নিশ্চয়তা দেয় যে তারা আর ঝগড়ায় জড়াবেন না। যে পক্ষ আগে ঝগড়া বাঁধাবে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে এবং অপরপক্ষকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এ টাকা দেওয়া হবে।

গত মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকলের উপস্থিতিতে নতুনভাবে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয় শনিবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টায়। ঘোড়াডুম্বুর প্রাইমারি স্কুলে। কিন্তু শনিবারের আগে স্কুলে বৈঠকের ব্যাপারে আপত্তি তুলেন ছাত্তার মিয়া পক্ষ। তারা আগের জায়গায় অর্থাৎ আকিক মেম্বারের বাড়ির সামনে শালিস বৈঠক বসানোর দাবি জানায়। এতে আপত্তি তুলেন আমিনুর রহমান পক্ষ। তারা দাবি করেন, আগের জায়গা ছাড়া যেকোনো স্থানে বৈঠক বসালে আমরা বসতে রাজি। এভাবেই দুপক্ষের জায়গা নিয়ে দ্বন্দ্বে বৈঠক বাতিল হয়। ঘটনার সমাপ্তি না হওয়ায় দু’পক্ষের মাঝে আবারও কোনো মারামারি হয় কি না তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী।

ছাত্তার মিয়ার পক্ষের বর্তমান মেম্বার দিপু বলেন, স্কুলটা আমিনুর রহমানের বাড়ির পাশে অবস্থিত। কোনো ঝামেলা হলে সুবিধা তারা বেশি পাবে। আমরা চাই, আকিক সাহেবের মিলে বৈঠক হোক। এটা মধ্যবর্তী স্থান। ইউনিয়ন পরিষদে বসছেন না কেন এমন প্রশ্নে দিপু বলেন, এ বিষয় আমি কিছু জানি না। আমি এখন বাড়িতে নেই। বিকালে বাড়ি গিয়ে জানার পর বলতে পারবো। তবে, আর কোনো মারামারি হবে না। এমন কোনো পরিস্থিতিও বিরাজ করছে না।

আমিনুর রহমান পক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে একাধিক নাম্বারে দশবারের অধিক চেষ্টা করা হলে তারা কেউই কল রিসিভ করেননি। তাই তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মজিদুর রহমান মধু, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আবদাল মিয়া বলেন, আমরা চেষ্টা করেছিলাম তাদেরকে নিয়ে বসে সুষ্ঠুভাবে এ ঘটনার একটা সমাধান দিতে। কিন্তু তারা আমাদের রেখেই ঝামেলা বাঁধিয়ে ফেলে। আমরা আজকে (শনিবার) একটি তারিখ করেছিলাম, আমিনুর রহমানের পক্ষ যে কোনো জায়গায় বসতে রাজি হয়েছে কিন্তু ছাত্তার মিয়ার পক্ষ চাচ্ছে আগের জায়গাতে অর্থাৎ আকিক মিয়ার মিলের সামনে বসতে। এটা আবার প্রতিপক্ষের এরা মানেন না। তাই দুপক্ষের কাছ থেকে গ্রহণ করা ১ লক্ষ টাকা ছাত্তার মিয়ার পক্ষের কাজি রুকন মিয়া ও আমিনুর রহমান পক্ষের শহিদুন নূরের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছি।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের হাজি আবুল কালাম বলেন, আমরা উভয়পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তারা এ বিষয়ে ভেবে জানাবে।

শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ চৌধুরী বলেন, আমি উভয়পক্ষকে থানায় এজাহার জমা দিতে বলেছি। শান্তিপ্রিয় পরিবেশে কেউ অশান্তি সৃষ্টি করলে আমি তাকে ছেড়ে কথা বলবো না। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আমার যা যা করা লাগবে আমরা করবো। আমাদের পুলিশ ঘোড়াডুম্বুর গ্রামে আছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.