Sylhet Today 24 PRINT

বারো মাসই মশার উৎপাত, নিধনে ‘ব্যর্থ’ বড়লেখা পৌরসভা

উপজেলায় চার ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৯ জুলাই, ২০২৩

বড়লেখা পৌরসভাযর উত্তর চৌমুহনী এলাকার ড্রেনের ময়লা পানিতে মশা। ছবি: সিলেটটুডে

দিনের বেলা মশার উপদ্রব কিছুটা কম থাকে। তবে সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয় মশার অত্যাচার। বাড়িতে কয়েল, স্প্রে কিংবা মশারি ছাড়া থাকা একেবারে কঠিন। পৌর শহরের বাজার, মহল্লার দোকান পাটে কয়েল-স্প্রে ছাড়া ঠিকে থাকাও কঠিন। এ অবস্থা শুধু এবারই প্রথম নয়। গত কয়েক বছর থেকে মশার এমন উপদ্রব বেড়েছে মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভায়।

তবে এমন পরিস্থিতি মশা নিধনে বড়লেখা পৌরসভাকে এক প্রকার উদাসীন দেখা গেছে। মাঝে মধ্যে কিছু এলাকায় মশার ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ সময় ওষুধ বরাদ্দ না থাকার কথা, কখনও মশা নিধনের যন্ত্র নষ্টসহ নানা অজুহাতে ছিটানো হয়নি মশার ওষুধ।

দেশে যখন ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে, বড়লেখা উপজেলায় চারজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন, ঠিক তখনও বড়লেখা পৌরসভায় মশা নিধনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পৌরসভা এলাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনটি জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্টরা।

পৌরসভার বাসিন্দারা বলছেন, রাতে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করেও রেহাই মিলছে না। মশার জ্বালায় শিশু থেকে বৃদ্ধ প্রত্যেক মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। যত্রতত্র আবর্জনার স্তুপ, ড্রেনের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া ও নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম না থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। কিন্তু পৌরসভার ভূমিকা সন্তোষজনক নয়। তারা (পৌরসভা) মশা নিধনে পুরোপুরি ‘ব্যর্থ’ হয়েছেন। মশার বংশবিস্তার রোধে পৌর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নাগরিকরা।

সরেজমিনে পৌরসভার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দ্বিতীয় শ্রেণির পৌরসভা হলেও শহরের যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ঝোপঝাড়, জঙ্গল, ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় মশার উপদ্রব বাড়ছে। অধিকাংশ ওয়ার্ডে ছোট ছোট ড্রেন-নালা আছে। ড্রেনগুলোতে পানিপ্রবাহ নেই। ময়লা আবর্জনায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ড্রেনে জমে থাকা পানি থেকে জন্ম নিচ্ছে মশা।

শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের (সাতকরাকান্দি সড়ক এলাকার) ব্যবসায়ী ইমরান আহমদ বলেন, ‘সন্ধ্যার পর দোকানে ঠিকে থাকা কঠিন। মশার এত উপদ্রব বাড়ে। কয়েল জ্বালিয়েও রক্ষা পাওয়া যায় না।’

২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রুবেল আহমদ বলেন, ‘মশার যন্ত্রণার কথা কইয়া লাভ নাই। ইতা সমাধান অইত নায়। মশা থাকি রক্ষা পাইতে কয়েল জ্বালাই। মশা ইতাও (কয়েল) মানে না। আর বেশি করি কয়েল জ্বালাইলে শ্বাসকষ্ট বাড়ি যায়। এখন কোন দিকে যাইতাম। কয়েল না জ্বালাইলে মশায় কামড়াইবা, জ্বালাইলে শ্বাস কষ্ট অইব।’

শহরের উত্তর চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা রুবিনা বেগম বলেন, ‘পৌরসভা একদিন ওষুধ দিয়া গেছন। ইতা ওষুধে কোনো কাম অইছে না। আগে যেলা আছিল অলাউ আছে। আরও বেশি করি বাড়ছে মশার যন্ত্রণা মনে অর।’

গাজিটেকা গ্রামের বাসিন্দা কয়েছ উদ্দিন বলেন, ‘পৌরসভা ঠিকমতো মশার ওষুধ দিলে মশা তো থাকার কথা নয়। মেয়র-কাউন্সিলর হখলে সঠিক উদ্যোগ নিরা-না। সব জায়গায় ময়লা-আবর্জনা। ড্রেন-খালও পরিষ্কার করা হচ্ছে না। এর জন্য মশার জন্ম হচ্ছে। একেকটি ড্রেন-ময়লার স্তুপ মশার ‘কারখানা’।

পাখিয়ালা এলাকার বাসিন্দা তাওহিদ সারোয়ার বলেন, ‘সন্ধ্যা নামার পর থেকেই ঘরে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও তা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ বাসার সবাই।’

এদিকে, গত ২৭ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত ৪ জন রোগী।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস শুক্রবার রাতে বলেন, ‘চার জন রোগীর মধ্যে ৩ জনের ডেঙ্গু বড়লেখায় শনাক্ত হয়েছে। দুজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। দুজন ভর্তি আছেন।’

বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা গত ১৫ দিন বিভিন্ন এলাকায় মশার ওষুধ ছিটিয়েছি। আমাদের কাছে গত বছরের ২০০ লিটার ওষুধ ছিল, এগুলো দিয়েছি। এখনও বরাদ্দ আসেনি। মৌলভীবাজার পৌরসভা থেকে ১০০ লিটার ধার হিসেবে এনেছি। আরও কয়েকদিন দেওয়া যাবে। আমরা চেষ্টা করি মশা পুরোপুরি নিধন করতে। যেসব জায়গায় মশার উৎপাদন স্থল, সেসব জায়গায় মশার ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। এছাড়া পৌর এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করতেও পৌরসভার পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.