ওসমানীনগর প্রতিনিধি | ০৩ আগস্ট, ২০২৩
সিলেটের ওসমানীনগরের হামতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানার জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে হামতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
জানা যায়, অর্ধশত বছরের পুরনো উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের হামতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানার জায়গা নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও পঞ্চায়েতের সাথে গ্রামের মতিউর রহমান, রুমান আলী তুরণ, সারাজ মিয়া ও সেলিম মিয়া গংদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিদ্যালয়ের জায়গার ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হলে আগামী ৭ আগস্ট দুপক্ষকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডেকে সমাধান করার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার দুপুরে বিদ্যালয় চলা অবস্থায় একটি পক্ষ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে গ্রামের পঞ্চায়েতকে ডাক দিলে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও পঞ্চায়েতের পক্ষের আবদুল বাছিত, খালেদ মিয়া, ইউছুফ আলী, আল-আমিন, আইয়ুব আলী, বুরহান উদ্দিন জালাল, সাহেদ আহমদ, তখদ্দুছ আলী, সুয়েব আহমদসহ দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
হামতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহিদুর রহমান শিবলু বলেন, মতিউর রহমান গংরা স্কুলের জায়গা দখল করে রেখেছে। বিষয়টি আমরা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। এর জেরে বুধবার আড়াইটার দিকে তারা স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তাদের ছোড়া গুলি ও ইটপাটকেলের আঘাতে পঞ্চায়েতের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।
ওসমানীনগর থানার ওসি মাছুদুল আমিন সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সংঘর্ষে দুপক্ষে অন্তত ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলিমা রায়হানা বলেন, যতটুকু জেনেছি বিদ্যালয়ের সীমানার জায়গা নিয়ে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ও গ্রামের পঞ্চায়েতের সকল একপক্ষ এবং গ্রামের একটি পরিবার আরেকটি পক্ষ। আগামী ৭ তারিখ বিষয়টি বিদ্যালয় সীমানার জায়গার বিষয়টি সমাধানের জন্য বসার কথা ছিল। যারা মারামারি করেছে তাদের আইনের আওতার আনার জন্য পুলিশকে বলেছি।