জগন্নাথপুর প্রতিনিধি | ০৩ আগস্ট, ২০২৩
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ‘সুদের’ টাকা পরিশোধ না করায় বসতবাড়ি দখল করে এক পরিবারকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠে। এমন অভিযোগের ভিত্তিত্বে বুধবার (২ আগষ্ট) দখলকৃত বাড়িটি উদ্ধার করে অভিযোগকারী পরিবারের নিটক হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের ঘুঙ্গিরগাঁও গ্রামে।
গত ২৪ জুলাই কলকলিয়া ইউনিয়নের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে সেলিম মিয়া সুদের টাকার জন্য বসত বাড়ি দখলের অভিযোগ এনে প্রতিবেশী ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের গোয়াসপুর গ্রামের রফিক মিয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন জগন্নাথপুর থানায়।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে সেলিমের বাবা নুরুল ইসলাম ছেলেকে বিদেশ পাঠানো জন্য গোয়াসপুর গ্রামের রফিক মিয়ার নিকট থেকে সুদে এক লাখ টাকা আনেন। পরে ধারাবাহিকভাবে নুরুল ইসলাম ওই টাকার সুদ বাবদ ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা রফিক মিয়াকে তেন।
একপর্যায়ে গত ১১ মাস আগে সুদের লাভ আর দিতে না পারায় রফিক মিয়া তার দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবার নিয়ে নুরুল ইসলামের বাড়ি দখল করেন। এরপর থেকে রফিক মিয়া ওই বাড়িতে বসবাস আসছিল।
এদিকে, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি নুরুল ইসলাম মারা যান।
নুরুল ইসলামের ছেলে সেলিম মিয়া বলেন, চলতি বছরের ৪ জুলাই আমার বাবা স্টোক করে মারা যান। তিনি মারা যাওয়া পর সুদখোর রফিক মিয়া দাবী করে বাবার নিকট ৬ লাখ টাকা পান। এ টাকা পরিশোধের জন্য তিনি অমানবিক মানসিক অত্যাচার করছিলেন।
সেলিমের অভিযোগের সুদের টাকা পরিশোধ না করায় আমার মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে বসতবাড়ী দখল করে নেন রফিক মিয়া। ওই সময় আমি বাড়ীতে ছিলাম। এরপর থেকে মাকে নিয়ে অন্যস্থ ভাড়া বাসা নিয়ে অনেক কষ্টে দিনযাপন করছিলেন তাঁরা।
তিনি জানালেন, নিরুপায় হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর আজ জগন্নাথপুর থানা পুলিশ বাড়িটি উদ্ধার করে দিয়েছে।
অভিযুক্ত রফিক মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্ঠা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর স্ত্রী বিলকিছ বেগম বলেন, পাঁচ বছরের জন্য নুরুল ইসলাম আমাদেরকে এই বাড়িতে থাকতে দিয়েছেন। ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর জন্য স্ট্যাম্পের মাধ্যমে আমার স্বামী কাছ থেকে তাঁরা টাকা নিয়েছে। তবে কত টাকা নিয়েছে সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্ট্যাম্পে লেখা আছে!
কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল হাসিম বলেন, রফিক মিয়া এলাকায় একজন সুদখোর ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। নুরুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী-সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেন রফিক মিয়া। একাধিক বার তাকে সালিশ বৈঠকে বসার কথা বললেও সে সামনে আসেনি।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়ে দু’পক্ষের সঙ্গে এনিয়ে আলাপ আলোচনা করে বাড়ীটি উদ্ধার করে ভুক্তভোগি পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেছি।টাকার বিষয়ে দু’টি স্ট্যাম্প পাওয়া গেছে। একটিতে ৫ শতাংশ সুদের কথাটি উল্লেখ আছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। প্রয়োজনী সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ওসি জানান, সুদ বা পাওনা টাকার জন্য কেউ কারো বাড়ি দখল করতে পারে না। এ ধরনের আর কোনো অভিযোগ পেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।