নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩ আগস্ট, ২০২৩
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য কিছুদিন প্রায় লোডশেডিংমুক্ত ছিলো সিলেট। এতে স্বস্তিতে ছিলেন নগরবাসী। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তাদের সেই স্বস্তি উধাও। নির্বাচনের মাসখানেক পূর্বে যে পরিমাণ লোডশেডিং ছিলো তারচেয়ে এখন দ্বিগুণ পরিমাণ লোডশেডিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এনিয়ে আক্ষেপ করে নগরের চালিবন্দর এলাকার বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, ভোটের সময় কয়েকটা দিন একটু শান্তিতে ছিলাম। লোডশেডিং তেমন হয়নি। এখন মনে হচ্ছে সেই সময়ের বকেয়া লোডশেডিংও এখন পুষিয়ে নেয়া হচ্ছে। ওই সময়ের স্বস্তির এখন প্রতিশোধ নিচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেকে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, দিনের বেশিরভাগ সময়ই এখন বিদ্যুৎ থাকছে না। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরের দুই ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। মধ্যরাতেও লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব কার্যক্রমই ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে, গত কয়েকদিন ধরেই ভ্যাপসা গরম পড়েছে সিলেটে। গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে লোডশেডিংও বাড়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে নগরজীবন।
তবে নগরের গ্রামাঞ্চলের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কারো করুণ। গ্রামের অনেক এলাকায় টানা ৪/৫ ঘণ্টাও লোডশেডিং করা হচ্ছে। কোন কোন এলাকায় পুরো রাত বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ২১ জুন সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের কারণে জুনের শুরু থেকে লোডশেডিংমুক্ত ছিলো নগর। দলীয় মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর উদ্যোগের কারণেই সিলেটে লোডশেডিং হচ্ছে না বলে তখন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়। নির্বাচনে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর মেয়র নির্বাচিত হন। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দিন থেকেই সিলেটে লোডশেডিং শুরু হয়। দিন দিন তা বেড়েই চলছে।
লোডশেডিংয়ের নগরের অনেকেই ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সরকার দলের অনেক নেতাও লোডশেডিং নিয়ে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। নবনির্বাচিত মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে।
এনিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আলী কামাল সুমন ফেসবুকে লেখেন- ‘বিদ্যুতের যন্ত্রণা নিরসনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি’।
চিকিৎসক আলিম আল রাজি লিখেন- ‘এই যে সিলেটের ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়, এই যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং - এটা নিয়ে কারো কোনো বক্তব্য নাই, ব্যাখ্যা নাই, আশ্বাস নাই।’
নগরের মদিনা মার্কেট এলাকার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, সারাদিন ৫/৬ বার বিদ্যুৎ যায়। বিদ্যুতের অভাবে ব্যবসা লাটে উঠছে। ক্রেতারাও আসে না। এদিকে রাতে বাসায় এসে শান্তি ঘুমানোরও সুযোগ নেই। মধ্যরাতেই বিদ্যুৎ চলে যায়। বিদ্যুৎ ছাড়া এই গরমে ঘুমাবো কি করে?
সিলেটের জকিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সুবীর দেব বলেন, আমরা হঠাৎ হঠাৎ বিদ্যুতের দেখা পাই। দিনরাত মিলিয়ে ৪/৫ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। মোবাইল চার্জ দেয়ারও সুযোগ মিলে না অনেকদিন। জীবন একেবারে দুর্বিষহ হয়ে ওঠেছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, সিলেটে সোমবার বিদ্যুতের চাহিদা ছিলো ৫৬০ মেগাওয়াট এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সরবরাহ করে ৪৪০ মেগাওয়াট। এর ফলে ১২০ মেগাওয়াট লোডশেডিং দিতে হয়। তবে মঙ্গলবার সরবরাহ অনেকটা বেড়েছে। মঙ্গলবার ৫৭৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলেছে ৫০০ মেগাওয়াট।
তবে সরবরাহ বাড়লেও লোডশেডিং কমেনি বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।
এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদির বলেন, আজ (মঙ্গলবার) পরিস্থিতির একটু উন্নতি হয়েছে। তবে বাতাস ও সংস্কার কাজের কারণে কিছু এলাকায় বেশি লোডশেডিং হতে পারে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় নগর এলাকা লোডশেডিংমুক্ত রাখার নির্দেশনা থাকায় লোডশেডিং হয়নি। এখন সব এলাকায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লোডশেডিং করা হচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় এমনটি হচ্ছে।