নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ আগস্ট, ২০২৩
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও সিলেট জজ কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) প্রবাল চৌধুরী পূজনের ওপর হামলাকারীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে অভিযোগ পূজনের।
অ্যাডভোকেট পূজনের অভিযোগ হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ ও মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমেদ। তবে হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগ নেতারা। তাদের দাবি, এই অভিযোগ মিথ্যা ও উদেশ্য প্রণোদিত।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে নগরের দাঁড়িয়াপাড়া এলাকার পূজনের বাসায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় পূজনের বাসায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। হামলায় পায়ে স্প্লিন্টারবিদ্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন পূজন। জানা গেছে।
হামলার ঘটনার পর ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে পূজন লেখেন- ছাত্ররাজনীতির উপহার, ছাত্রলীগের রাজনীতির উপহার, পায়ে স্প্লিন্টার।
রাত দেড়টার পর ফেসবুকে প্রবাল চৌধুরী পূজন লিখেন, ঘড়িতে রাত ৭:৫৮ মিনিট। তখন দেখি মিছিল করে ৩০০/৩৫০ জন ছেলে আসছে। জয় বাংলা স্লোগান শুনে এগিয়ে আসলাম। সাথে ছিলো দিপু রায় আর টিটু সাহা। হঠাৎ দেখি মিছিল থেকে আমাকে গালি দিচ্ছে। মিছিলের সামনে জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি রাহেল, সভাপতি নাজমুল, মহানগর সেক্রেটারি নাঈম। তাদের মাথায় হেলমেট, হাতে অস্ত্র!
পূজন লিখেন, আমি বললাম কী বিষয়? তোরা গালি দিচ্ছিস কেন? সাথে সাথে আমাকে উদ্দেশ্যে করে এক রাউন্ড গুলি করা হলো। তখন টিটু আর দিপু আমাকে বলছে, দাদা দৌড় দেন, জান বাচান। তখন আমি দৌড়ে পার্শ্ববর্তী এক বাসায় ঢুকলাম। বাসায় ঢুকার পর সেই বাসার ভাবি বললেন তোমার পায়ে কী হয়েছে? পা দিয়ে রক্ত পড়ছে! তখন খেয়াল করলাম আমার ডান পায়ের হাটুর নিচে স্প্লিন্টার। অন্যদিকে সেই মিছিল থেকে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আমাকে গালিগালাজ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে আমি ওসমানী এবং পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসা করাচ্ছি।
কখনো ভাবি নাই ফেসবুকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই আমার কাল হবে মন্তব্য করে পূজন আরও লিখেন, ছাত্রলীগের নাম ধরে কমিটি বাণিজ্য, চোরাকারবারি এদের বিরুদ্ধে লেখাটা কি আমার ভুল ছিলো? জয় বাংলা, স্লোগান দিয়ে আমার উপর হামলা করা হয়েছে সেটা আমার ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে! আরও কষ্ট হচ্ছে যাদের নিজের পয়সায় জামিন করিয়েছি, আজকেও যাদের হাজিরা দিয়েছি, তারাও হামলায় ছিলো!
এদিকে প্রবাল চৌধুরী পূজনের ওপর হামলায় নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদ। তারা বলেছেন, কেউ তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ করে থাকলে তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সিলেট কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।