নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ আগস্ট, ২০২৩
জগৎজ্যোতি তালুকদার ও শাবিপ্রবি অধ্যাপক ড. মো. আবু হায়াত মিঠু
খুন হওয়া ছাত্রলীগ নেতা জগৎজ্যোতি তালুকদারকে নিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষকের ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে সমালোচনা চলছে। শিক্ষকের এমন স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জগৎজ্যাতির পরিবারও। তারা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানিয়েছেন।
জগৎজ্যােতি তালুকদারকে নিয়ে মঙ্গলবার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন শাবিপ্রবির ইন্ডাস্টিয়াল ও প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু হায়াত মিঠু।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জগৎজ্যোতি তালুকদার ২০১৩ সালের ২ মার্চ রাতে নগরীর তপোবন এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় খুন হন। এ ঘটনায় সাবেক শিবির ক্যাডার গাজী নাসিরকে প্রধান আসামি করে ২৫ জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
জগৎজ্যোতিকে নিয়ে ফেসবুকে অধ্যাপক ড. মো. আবু হায়াত মিঠু লিখেন- 'ভালো কাজ সবই ছেড়ে দিতে হবে...। তালিকা যে হারে লম্বা হচ্ছে;... এতো এতো শহীদদের বেহেস্তে দেওয়ার পর তো আমাদের সিরিয়াল শুরু। সবাই নিজ নিজভাবে 'শহীদ' ডিক্লিয়ার করছে। মুরগী চুরি করে ভাগাভাগির সময় মার্ডার জগৎজ্যোতিও নাকি এখন 'শহীদ জগৎজ্যোতি'??
কয়দিন পর দেখা যাবে ঘুষখোর, সুদখোর, মুরগীচোরা, হাফ-মুনসি, ভোটচোর, সবার নামের আগে শহীদ লাগানো, আর আমরা ম্যাগোপিপুল। বেহেস্তে জায়গা নিয়াও দলাদলি করবে। আমাকে নো ম্যানস ল্যান্ডে (আরাফ) পাঠায়ে দিলেই হবে।'
এই স্ট্যাটাসের ব্যাপারে মঙ্গলবার রাতে অধ্যাপক ড. মো. আবু হায়াত মিঠু সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, আমি জগৎজ্যোতি তালকুদারকে চিনিও না। তিনি কিভাবে মারা গেছেন তাও জানি না। ভুলবশত একটি স্ট্যাটাস দিয়ে ফেলেছি। কী কারণে দিয়েছি তাও জানি না। গতকাল দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী মারা যাওয়ার পর অনেকেই দেখলাম তাকে শহীদ আখ্যা দিচ্ছেন। তাই ক্ষোভে এই স্ট্যাটাস দিয়েছি।
জগৎজ্যোতিকে না চিনলে কেন তাকে নিয়ে স্ট্যাটাস দিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন যে এটা দিয়েছি তা বুঝতে পারছি না। তবে আপত্তি আসার পর এই স্ট্যাটাস ডিলিট করেছি এবং ক্ষমাপ্রার্থনা করে আরেকটি স্ট্যাটাস দিয়েছি।
শাবিপ্রবি শিক্ষকের এমন স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করে জগৎজ্যোতি তালুকদারের বোনের ছেলে নির্মলেন্দু সরকার বলেন, একজন শিক্ষকের এমন স্ট্যাটাস খুবই দুঃখজনক। একটি বিচারাধীন বিষয়ে তিনি এমন কিছু লিখতে পারেন না।
নির্মলেন্দু বলেন, আমরা পরিবারের সবাই এখন বিষটি নিয়ে বসেছি। প্রাথমিকভাবে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।
এ ব্যাপারে শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।