Sylhet Today 24 PRINT

বান্দরবানের বন্যা কবলিতদের জন্য সুনামগঞ্জ থেকে ত্রাণ সহায়তা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি |  ১৯ আগস্ট, ২০২৩

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে পাহাড়ি জেলা বান্দরবান। এরকম ভয়াবহ বন্যার সাথে পাহাড়ি এলাকার মানুষেরা খুব একটা পরিচিত না হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে অনেক। গত বছরের জুলাই মাসে ঠিক এরকম ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে সুনামগঞ্জবাসি। তখন সুনামগঞ্জের মানুষের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল দেশের অন্যান্য জেলার মানুষ। একের পর এক সহায়তার ট্রাক ঢুকেছিল সুনামগঞ্জে। তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগ অন্যতম। সেই কৃতজ্ঞতা বোধ থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবানে গিয়ে বন্যাক্রান্ত এলাকায় গিয়ে সুনামগঞ্জের মানুষের দেয়া মানবিক সাহায্য পৌঁছে দিয়েছে কয়েকজন উদ্যোমী তরুণ ও যুবক।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদে বান্দরবানের ভয়াবহ অবস্থার দেখার পর সুনামগঞ্জের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সমাজসেবী দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী ফেসবুকে বান্দরবানের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহবান জানান। তাতে সাড়া দেন সুনামগঞ্জের বিভিন্ন পেশার মানুষ। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মানুষ মোবাইলে পাঠাতে থাকেন সহায়তা। এসব দেখে এগিয়ে আসেন রনজীত দে,  নাসিম চৌধুরী, মোহাম্মদ  আম্মার , সাইফুল ইসলাম রাহী, জালাল সরকার আকবর, বায়েজিদ আল সামায়ূন,  আমিনুল নাঈম, ইয়াসির জাওয়াদ,  ফারদিন হাসান সহ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মানুষের কাছে গিয়ে আর্থিক সহায়তা সংগ্রহ করেন। সব মিলিয়ে তারা ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৪৬১ টাকা সংগ্রহ করেন। পরে তাদের মধ্যে ৫ জন বান্দরবান গিয়ে তিনদিন থেকে সেখানের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দেখে দেখে ৬০টি পরিবারকে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করে বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জে এসে পৌঁছেছে। কাজের স্বচ্ছতা ও বিশ্বস্ততার জন্য বান্দরবানের যাওয়া-আসা এবং থাকা-খাওয়া সহ অন্যান্য খরচ তারা ব্যক্তিগত ভাবে বহন করেছেন। এসে তারা ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে তাদের আয় এবং ব্যায়ের হিসাব সবার সাথে শেয়ার করেছেন।

তারা জানান, বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী প্রায় সকল গ্রাম বিধ্বস্ত অবস্থায় আছে। তাদের মধ্যে  মধ্যমপাড়া,উজানীপাড়া,  কালাঘাটা,বালাঘাটা সহ কিছু নির্দিষ্ট ঘরের পরিবারগুলোকে আমরা ভাগ ভাগ করে যাদের ঘর একেবারে ভেঙ্গে গেছে এরকম ১৬ টি পরিবারকে দেড় বান করে ২৪ বান টিন , ১৫ টি, পরিবারের ঘরের বিছানা নষ্ট হয়েছে এমন ১৫ টি পরিবারকে বালিশ ও তোষক, বাকি ২৯ টি পরিবারকে ১৫ দিনের খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেছি। তাদের এই বিতরণ কাজে স্থানীয় বিডি ক্লিন সহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকরা সহযোগীতা করেছে।

স্বেচ্ছাসেবক মো. আম্মার  বলেন, বন্যায় বান্দরবানের মানুষ একরকম তিনদিন আবদ্ধ ছিল। আমরা গিয়ে শুনেছি মূল শহরের ১৭ ফিট উপর দিয়ে পানি বয়ে গেছে। বন্যায় এতো জোরে আঘাত দিয়েছে যে তিন তলা বিশিষ্ঠ ভবন ও ধ্বসে গেছে। বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী যে গ্রামগুলো আছে অধিকাংশ ঘরের অবস্থা দেখলে মনে হয়েছে কোন পারমানবিক বোমায় বিধ্বস্ত এলাকা। অধিকাংশ ঘর মাটির সাথে মিশে গেছে। আমাদের সহায়তা ওদের ক্ষতির সাথে তূলনা করলে একেবারে সামান্য, সরকার যদি এগিয়ে না আসে পরিবারগুলোর সব শেষ হয়ে যাবে।

মানবিক কাজের উদ্যোক্তা দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী বলেন, আমরা যখন ২০২২ সালে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ি তখন মানুষ কতটা অসহায় হয়ে পড়ে তা  অনুভব করেছি। মানুষ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা নিজের চোখে দেখেছি। যদি দেশের বিভিন্ন মানুষের সাহায্য সহযোগিতা সুনামগঞ্জে না আসতো তাহলে আমাদের জন্য বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়তো। এই কৃতজ্ঞতা থেকে যখন দেখলাম বান্দরবানের মানুষের ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে বিপদগ্রস্ত তখন বিবেক তারনা দিল যে তাদের জন্য কাজ করতে হবে। তাদের পাশে দাড়াতে হবে। সেই চিন্তা থেকে ফেসবুকে অর্থ সংগ্রহের আহবান জানালে আমার লিস্টে থাকা দেশ বিদেশের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজন সহ সবাই এগিয়ে এসেছেন অর্থ দিয়েছেন।  পরে সেই অর্থ নিয়ে নিজেরা গিয়ে বান্দরবানের মানুষের অবস্থা নিজ চোখে দেখে সাধ্যমতো সহযোগিতা করে এসেছি। আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই আমার মানবিক ডাকে সাড়া দিয়েছেন। আমরা ভবিষ্যতে এরকম মানবিক কাজে থাকার জন্য সবাইকে আহবান জানাই।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.