Sylhet Today 24 PRINT

দিন বদলের স্বপ্ন পূরণ হয়নি, সৌদি থেকে লাশ হয়েই ফিরলেন সুফিয়া

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

সুফিয়ার লাশ বাড়িতে পৌঁছার পর এক শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। ছবি: সমকাল

পাঁচ বছরের আয়েশা আক্তারকে কোলে নিয়ে আদর করে বিদায় নিয়েছিলেন সুফিয়া বেগম। ছোট্ট আয়েশা ‘আম্মু আম্মু’ বলে চিৎকার করলেও বুকে পাথর বেঁধে দিন বদলের স্বপ্নে সৌদি আরবের পথে রওনা করেছিলেন। কে জানত এটাই হবে তার শেষ বিদায়! বৃহস্পতিবার তিনি কফিনবন্দি হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

মধ্য বয়সী সুফিয়া হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌর শহরের পূর্ব মাধবপুরের বাসিন্দা। অকালে স্বামী জামাল মিয়াকে হারিয়ে পাঁচ সন্তানকে নিয়ে পড়েন চরম বিপাকে। অভাবের সংসার যেন চলছিল না। সন্তানদের মুখে দুই বেলা দু’মুঠো ভাত তুলে দিতে পারছিলেন না। এ অবস্থায় দালালের প্রলোভনে সচ্ছলতার আশায় সৌদি আরবে গিয়ে গৃহকর্মীর কাজ করতে রাজি হন। গত এপ্রিলের শুরুতে তিনি দালালের মাধ্যমে সে দেশে পাড়ি জমান। সেখানে পৌঁছানোর দু-তিন দিন পরই তিনি দেশে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোনে ফেরার আকুতির কথা জানান। সুফিয়া বলেন, তিনি খুব বিপদে আছেন; তাকে যেন উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পরিবারের সঙ্গে এটাই ছিল তার শেষ যোগাযোগ। চার-পাঁচ দিন পর দালালের মাধ্যমে সন্তানরা জানতে পারে সুফিয়া মারা গেছেন।

বিদেশযাত্রার সময় সুফিয়া তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গিয়েছিলেন। তার লাশ বাড়িতে পৌঁছার পর এক শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। সন্তানরা মৃত মাকে দেখে অঝরে কান্নায় ভেঙে পড়ে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুফিয়ার বড় ছেলে জাকির হোসেন (২০) জানান, তার বাবা মারা যাওয়ার পর পাঁচ ভাইবোনের সংসারে তীব্র অভাব-অনটন দেখা দেয়। পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে তাদের মা সৌদি আরব যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। উপজেলার সুন্দাদিল গ্রামের দালাল ফিরোজ মিয়ার মাধ্যমে তাকে সে দেশে পাঠানো হয়। সৌদি যাওয়ার পর তার মায়ের ওপর বাড়ির মালিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন শুরু করেন। মৃত্যুর আগে তার মা সুফিয়া ফোনে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে তিনি দালালের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। কিন্তু তারা কোনো সহযোগিতা করেনি।

প্রতিবেশী তিতন মিয়া সরদার বলেন, প্রথমে বাবা এবং পরে মাকে হারিয়ে একবারেই অসহায় অবস্থায় পড়েছে পরিবারটি। সরকারিভাবে তাদের সহযোগিতা না দিলে বিপন্নতা চরমে পৌঁছাবে। এ সহায়তা পেলে হয়তো বাবা-মা হারা শিশু সন্তানরা বাঁচতে পারবে।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আহসান জানান, পরিবারটি যাতে আর্থিক অনুদান ও ক্ষতিপূরণ পায়, সে বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

মাধবপুর থানার ওসি রকিবুল ইসলাম খান জানান, সুফিয়ার লাশ দেশে আসার খবর তিনি জেনেছেন। প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।- খবর সমকালের

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.