Sylhet Today 24 PRINT

শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের ১১ ল্যাপটপ চুরি, আসামির জামিন

রায়হান উদ্দিন সুমন, বানিয়াচং |  ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

বানিয়াচং উপজেলার ৫নং দৌলতপুর ইউনিয়নের কাদিরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৭ ল্যাপটপ থেকে  ১১ ল্যাপটপ, ৩টি সোলার ব্যাটারি ও প্রধান শিক্ষকের অফিসে থাকা লকার থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের ৬টি চেক বই চুরি হয়েছে। গত ১৬ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এ চুরির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় উক্ত বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফখরু উদ্দিন আহমেদ বাদী হয়ে গত ১৮ আগস্ট অজ্ঞাত নামা ৬/৫ জনকে আসামি করে বানিয়াচং থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বানিয়াচং কাদিরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম পবিত্র হজ্ব পালনে উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে চলে যান। তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অত্র বিদ্যালয়ে মৌলভী শিক্ষক ফখরু উদ্দিন আহমেদ। এই বিদ্যালয়ে ১০ জন শিক্ষক, ১ জন অফিস সহকারী, ১জন দপ্তরী, ১জন নৈশপ্রহরী কর্মরত আছেন। ঘটনার দিন বিদ্যালয় ছুটি শেষে সবাই নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। পরের দিন বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী রানা মিয়া আখন্দ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল মোছাব্বির মিয়াকে জানান বিদ্যালয়ের শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের তালা ভেঙ্গে কে বা কারা ১১ ল্যাপটপ (ডুয়েল টারবো), সোলার ব্যাটারিসহ প্রধান শিক্ষকের রুম থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের ৬টি চেক নিয়ে গেছে।

খবর পেয়ে এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা এসে দেখতে পান রুমের দরজা ও গ্রিলের তারা ভাঙ্গা এবং শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের ভিতর তছনছ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি নৈশ প্রহরী রান মিয়া আখন্দকে জিজ্ঞাসা করলে সে কোন সদুত্তর না দিয়ে একেক সময় একেক কথা বলতে থাকে। চুরি হওয়ার ঘটনাটি বানিয়াচং থানা পুলিশকে অবগত করলে একদল পুলিশ এসে সরেজমিনে তদন্ত করে জিজ্ঞাসাবাদেও জন্য নৈশ প্রহরী রানা মিয়া আখন্দকে আটক করে নিয়ে যায়.

পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফখরু উদ্দিন আহমদের দায়ের করা মামলায় আসামি দেখিয়ে রানাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। দীর্ঘ ২৩ দিনের সময় আসামি রানা জেলে থাকার পর স্বয়ং মামলার বাদী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফখরু উদ্দিন আহমদ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (আমল-৪) এর আদালতে হাজির হয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও নৈশ প্রহরী রানার সাথে ভুল বুঝাবুঝির অবসান হয়েছে মর্মে রানাকে জামিন দিতে অনাপত্তির আবেদন করেন। তার এই অনাপত্তি দেয়ায় বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট গত মাসের ৯ তারিখ রানাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের জিম্মায় জামিনে মুক্তি দেন। বিষয়টি বিদ্যালয় এবং এলাকায় জানাজানি হয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ অন্যান্যরা তাকে জিজ্ঞাসা করলে কোন উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান ফখরু উদ্দিন আহমদ। ঘটনাটি নৈশ প্রহরী রানা ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফখরু উদ্দিন আহমদের যোগসাজশে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা। নৈশ প্রহরী রানা মিয়া আখন্দের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

কাদিরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল মোছাব্বির জানান, বিষয়টা কেমন জানি সন্দেহজনক। মামলার বাদী কি করে নিজের জিম্মায় আাসমিকে জামিনে নিয়ে আসে সেটা আমার বোধগম্য নয়।

প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন আমি ছিলাম না। আমি হজ্বে ছিলাম। আমার অনুপস্থিতে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে মূল ঘটনার রহস্য যেন উদঘাটন হয় সেটা আমিও চাই। মামলার বাদী ও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফখরু উদ্দিন আহমেদের সাথে কথা হলে তিনি সম্পূর্ণ বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন,আসামি জামিনে আছে। মামলাতো আর শেষ হয়নি মামলা চলমান আছে। আর কোন উত্তর না দিয়েই তড়িঘড়ি করে ফোনের লাইন কেটে দেন তিনি।

ওয়ার্ড মেম্বার মঈন উদ্দিন আহমেদ জানান, চুরির ঘটনার সাথে যে তার দুইজন জতিড় সেটা আবার বলার অবকাশ থাকেনা। বাদী আর আসামির মধ্যে কোন চুক্তি না হয়ে থাকলে তো আসামিকে জামিনে নিয়ে আসার কথা না। মামলা যেহেতু চলমান আছে আমি আশা করছি ওই শিক্ষককে ধরে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে মূল রহস্য বের হয়ে যাবে।

৫নং দৌলতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জু কুমার দাস জানান, তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফখরু উদ্দিন আহমেদ নিজে বাদী হয়ে নৈশ প্রহরী রানার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আর পুলিশ তার আগেই রানাকে সন্দেহমূলক ভেবে আটক করে নিয়ে যায়। কয়েকদিন পরে শুনি বাদী নিজে আসামিকে নিজের জিম্মায় নিয়ে এসেছেন। ফখরু উদ্দিন নিজে আদালতে গিয়ে ওকালতনামায় স্বাক্ষর দিয়ে তাকে জামিনে নিয়ে এসেছেন। অভিভাবক সভায় বিষয়টি প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে এড়িয়ে যায়। পরে আদালতের সকল কাগজপত্র সংগ্রহে করে তাকে দেখালে হতভম্ব হয়ে যান ফখরু উদ্দিন আহমেদ। আমার সবাই চাই বিষয়টা একটা সুরাহা হোক। মামলার বাদী আর আসামির মধ্যে যদি কোন ধরণের চুক্তি হয়ে থাকে তাহলে চুরি হওয়া ল্যাপটপ-চেক বহি-সোলার ব্যাটারি উদ্ধার হওয়ার কথা। আজ পর্যন্ত ও এগুলো উদ্ধার হয়নি। আর মামলার বাদী কাউকে না জানিয়েই এমনটা করেছেন। দুঃখজনক বিষয়টা। তাই আমি মনে করে চুরি হওয়ার ঘটনার সাথে নৈশ প্রহরী রানা ও ফখরু উদ্দিন আহমদের যোগসাজশ রয়েছে। দ্রুত তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি জানাই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুল হক জানান, চুরির ঘটনায় বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী রানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টা নিয়ে মামলা চলমান আছে তবে মামলা বাদী যে আসামিকে নিজের জিম্মায় আদালত থেকে জামিনে নিয়ে এসেছেন সেটা আমি অবগত নই। এমনটা হয়ে থাকলে কাজটা ঠিক হয়নি। আমি আজকেই জানার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ জানান,তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামলার বাদী যে কাজটি করেছেন যে কাজটি করেছেন সেটা তার নৈতিক অবক্ষয় ঘটেছে। বাদী আসামিকে জামিনে ছাড়িয়ে আনতে পারেনা যদি না আগে আসামির সাথে কোন চুক্তি হয়। এ ঘটনায় প্রতীয়মান যে দুইজনের যোগসাজশে ই চুরির ঘটনা ঘটেছে। আর এ ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকদের বেতন বন্ধ রয়েছে, কারণ সভাপতি বেতনের খাতায় স্বাক্ষর করেন নি। মামলা যেহেতু চলমান আছে তার চেয়ে আর কিছু বলতে পারছিনা এই মুহূর্তে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.