Sylhet Today 24 PRINT

শ্রীমঙ্গলে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলে রিডিং অ্যান্ড রাইটিং হাসপাতাল

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি |  ১৬ অক্টোবর, ২০২৩

দুর্বল শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখার হাসপাতাল’ রিডিং অ্যান্ড রাইটিং হসপিটালের উদ্যোগ চালু করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী রাজীব মাহমুদ মিঠুন। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ছে। তারা ভালোভাবে পড়তে ও লিখতে পারছে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলী রাজীব মাহমুদ মিঠুন, গত ২০২২ সালের মে মাসে ইউএনওর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শনে যান। তখন তিনি দেখতে পান, শহরের বাইরের স্কুলের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভালোভাবে বাংলা পড়তে পারছে না। ইংরেজি ও অঙ্কে তারা আরও দুর্বল। করোনাকালে স্কুল বন্ধ ও পরীক্ষা না থাকায় পড়াশোনা থেকে দূরে ছিল শিক্ষার্থীরা। এ কারণে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ে। পরে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব শিক্ষার্থীর জন্য রিডিং অ্যান্ড রাইটিং হসপিটালের উদ্যোগ নেন ইউএনও।

উপজেলার ৮৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ‘হাসপাতাল পরিচালনার’ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এখন ৩৯টি স্কুলে পুরোদমে হাসপাতাল চালু আছে।

ইউএনও আলী রাজীব মাহমুদ বলেন, করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ঠিকভাবে পড়তে পারছিল না। শহরের বাইরের স্কুলেও একই সমস্যা দেখতে পান তিনি। এতে শিশুদের মনের ওপর চাপ তৈরির পাশাপাশি স্কুল থেকে ঝরে পড়ার সংখ্যা বাড়ছিল। পরে ৩৯টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিয়ে রিডিং অ্যান্ড রাইটিং হসপিটাল করার উদ্যোগ নেন। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ছে। তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গলের প্রতিটি স্কুলে এ কার্যক্রম চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। আশা করছেন, এ হাসপাতালের মাধ্যমে করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

সম্প্রতি শ্রীমঙ্গলের সিংহবীজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, রিডিং অ্যান্ড রাইটিং হসপিটালের জন্য দুটি কক্ষ নেওয়া হয়েছে। একটি কক্ষে ৬টি দলে ৫ জন করে ৩০ শিক্ষার্থী খেলার ছলে পড়ছে। খেলার ছলে অক্ষর, যুক্তাক্ষর, ইংরেজি ওয়ার্ড, অঙ্ক শেখাচ্ছেন একজন শিক্ষক। পাশাপাশি প্রতীকী চিকিৎসকেরা নিজ নিজ দলকে বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে শেখাচ্ছে। অন্য কক্ষের নাম দেওয়া হয়েছে চেকিং রুম। প্রথম কক্ষে শিখে আসা বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পেরেছে কি না, সেটা চেক করছে ‘চিকিৎসক’। দেয়ালে টাঙানো অক্ষর, শব্দ, বাক্য ও পত্রিকা স্ট্যান্ডে রাখা বাংলা পত্রিকা, গল্পের বই পড়ছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের যারা পড়তে পারছে, তাদের ‘ছাড়পত্র’ দেওয়া হচ্ছে। আবার তাদের জায়গায় নতুন শিক্ষার্থী আসছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মলয় কান্তি তালুকদার বলেন, রিডিং অ্যান্ড রাইটিং হসপিটাল স্কুলের জন্য অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থীই পড়াশোনার বাইরে ছিল। তারা পড়াশোনায় পিছিয়ে আছে। হাসপাতালের মাধ্যমে তাঁরা শিক্ষার্থীদের উন্নতি করার চেষ্টা করছেন। উদ্যোগটি প্রতিটি স্কুলেই নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.