Sylhet Today 24 PRINT

ব্রয়লার মুরগির ডাবল সেঞ্চুরি

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর  |  ২২ অক্টোবর, ২০২৩

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ব্রয়লার মুরগির দাম দুইশ ছুঁয়েছে। পেঁয়াজ লাফ দিয়ে বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকা কেজি। এ ছাড়া গত এক সপ্তাহে সবজির দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা। স্বস্তি নেই মাছ, মাংস, ডিমসহ বিভিন্ন নিত্য পণ্যের বাজারে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপের কথা বলা হলেও তার প্রভাব পড়ছে না বাজারে। নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পেছনে বিক্রেতাদের অজুহাতের অন্ত নেই। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ভোগান্তির শেষ নেই।

বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে গত মাসে ডিম, আলু, দেশি পেঁয়াজ ও সয়াবিন তেলের দাম বেঁধে দেয়া হয়। সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী প্রতিটি ফার্মের ডিম ১২ টাকা, আলু খুচরা পর্যায়ে ৩৫-৩৬ টাকা, দেশি পেঁয়াজের দাম ৬৪-৬৫ টাকা ও প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৬৯ টাকা। কিন্তু এক মাস পার হলেও সে দামের প্রভাব পড়েনি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় রোববার (২২ অক্টোবর) জগন্নাথপুর বাজারগুলোতে। প্রায় প্রতিটি পণ্যই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। আলু ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁয়াজ ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া একই পণ্য বাজার ভেদে দামের পার্থক্যও রয়েছে।

পাইকারি পর্যায়ে দাম না কমার অজুহাতে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করছে না বলে খুচরা বিক্রেতারা জানান।

জগন্নাথপুর পৌর শহরের শিলা বাসা থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে আসেন শহরের জগন্নাথপুর বাজারে। ২৯০ টাকায় দেড় কেজি মুরগি, ৯৫ টাকায় এক কেজি পেঁয়াজ, ১০০ টাকায় আধা কেজি রসুন, ১০০ টাকায় ১২৫ গ্রাম জিরা, এক কেজি সয়াবিন তেল ১৭০ টাকায় কিনেছেন। মাছের যে দাম তাতে মাঝারি সাইজের এক কেজি মাছও কিনতে পারবেন না। এদিকে বাসায় সবজি নেওয়ার প্রয়োজন। তাই মাছ না কিনে সবজি কেনার সিদ্ধান্ত নেন।

মুরগির দোকানে কথা হয় শিলার সাথে। তিনি বলেন, প্রতিদিন দাম বাড়ে কেন বাড়ে বুঝি না। সরকার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। বাজারে তার কোনো প্রভাব নেই। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের জোড়ালো ভূমিকা রাখার কথা বলেন তিনি।

জগন্নাথপুর বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া সীম ২০০ টাকা, বরবটি ১২০টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, ঢেড়স ৮০ টাকা কেজি, ডিম ৫৫ টাকা হালি বিক্রি করতে দেখা যায়।

বাড়তি দাম প্রসঙ্গে বাজারের সাগর ও রায়হান নামের দুই মুরগি ব্যবসায়ী বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বেশি তাই বাড়তি দামে তাদের বিক্রি করতে হয়। পাশের ভবের বাজারে ১০ টাকা কমে ১৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে জানালে তারা বলেন, তাদের দোকানের খরচ বেশি তাই এ বাজারে দাম বেশি।

এ সময় মুরগি কিনতে আসা জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জুবায়েল আহমদ  বলেন, যে যেভাবে পারছে দাম চাচ্ছে। আমরাও কিনে নিচ্ছি। দেখার কেউ নাই। বাজার তদারকি করলে দুই বাজারে দুই রকম দামে জিনিস বিক্রি হতো না।

বাজার করতে আসা সৈয়দ রিয়াদ আহমদ বলেন, সকল জিনিসের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেউ তদারকি করছে না। এভাবে বাজার করা খুব কঠিন হয়ে পড়ছে।
জগন্নাথপুর বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান (মোল্লা) বলেন, মুরগির আমদানি কম।পাইকারি বাজারে দাম বেশি। তাই আমাদেরকেও একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম বলেন, এছাড়া জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযান অব্যাহত রাখব।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.